০৩:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ‘শতাব্দীর আবিষ্কার’ সাবেত ইঞ্জিন, দারিদ্র্য থেকে মুক্তির এক নতুন ইঞ্জিন Logo সীমান্ত ব্যাংকে ‘সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার’ পদে নিয়োগ Logo কুলাউড়ার আবু সাইদ যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত Logo ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দেরিতে বেড়া নির্মাণ ঐতিহাসিক ভুল: আসামের মুখ্যমন্ত্রী Logo জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু বাংলাদেশের Logo বড়লেখা বাজারের নিরাপত্তায় আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা নেটওয়ার্ক উদ্বোধন Logo বড়লেখার সিএনজি কুলাউড়ায় চুরি, সন্ধান মিলল ছাতকে Logo বিশ্বকাপে প্রথম ধাক্কা ব্রাজিলের, কৌশলে জিতে নিল মরক্কো Logo ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত গোলের পরও মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের Logo ৯২ বছর অপরাজিত ব্রাজিল বনাম উদ্বোধনী ম্যাচ না জেতা মরক্কো

‘শতাব্দীর আবিষ্কার’ সাবেত ইঞ্জিন, দারিদ্র্য থেকে মুক্তির এক নতুন ইঞ্জিন

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / 15
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়েক বছরের নিবিড় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পর ড. সাবেত কনসাল্টিং জিএমবিএইচ এমন এক ইঞ্জিনের উদ্ভাবন করেছে, যা এর বিশ্বের দরিদ্র উদ্যোক্তাদের জীবন বদলে দিতে পারে। সাবেত অ্যাডভান্সড মোটর (এসএএম) এই ইঞ্জিনটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এবং একটি নতুন সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে ইঞ্জিনটিকে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

এসএএম-এর পেছনের ধারণাটি সহজ এবং সাহসী—এমন একটি ইঞ্জিন তৈরি করা, যা প্রচলিত ইঞ্জিনের তুলনায় অর্ধেক দামে বিক্রি করা সম্ভব, দরিদ্র উদ্যোক্তার নাগালে থাকা প্রায় যেকোনো ধরনের জ্বালানিতে চলবে এবং যেটি তেমন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না।

মূল উদ্ভাবক দুই ভাই হুশাং ও হুশমান্দ সাবেত শুরু থেকেই একটি লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছেন- “দারিদ্র্য থেকে মানুষকে মুক্ত করতে পারে এমন একটি ইঞ্জিন” তৈরি করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে ইঞ্জিনটিকে হতে হবে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। পুরোনো ইঞ্জিনের উন্নত সংস্করণ নয়, বরং অটো ইঞ্জিন ও ওয়্যাঙ্কেল ইঞ্জিনের ধারাবাহিকতায় এক নতুন উদ্ভাবনই ছিল তাদের লক্ষ্য। এসএএম-এ প্রচলিত ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক কম যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এটি উৎপাদনে সাশ্রয়ী, আকারে ছোট, অধিক টেকসই এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। ইঞ্জিনটির পর্যবেক্ষণকারী অন্যতম খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ এটিকে আখ্যা দিয়েছেন “শতাব্দীর আবিষ্কার” হিসেবে।

ইঞ্জিনের পেছনের গল্প

১৯৯৭ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক পলস্কির্খে গির্জায় অনুষ্ঠিত ক্লাব অব বুদাপেস্ট ইন্টারন্যাশনালের “প্ল্যানেটারি কনশাসনেস অ্যাওয়ার্ড” গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে হুশমান্দ সাবেতের পরিচয় হয়। অনুষ্ঠানটিতে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. লোথার স্প্যাথ। তিনি সেসময় মন্তব্য করেছিলেন যে, এই দুই পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিন্তা ও কাজের সমন্বয় “একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক পরিবেশ-সামাজিক বাজার অর্থনীতির সূচনা” ঘটাতে পারে।

হুশমান্দ সাবেত দীর্ঘদিন ধরে জার্মান সংবাদপত্র ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেখে প্রফেসর ইউনূসের কাজ অনুসরণ করছিলেন। প্রফেসর ইউনূসের একটি মূল বার্তা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল—প্রতিষ্ঠান, নীতি এবং প্রযুক্তি—সবকিছু থেকেই দরিদ্র মানুষ প্রায়শই বঞ্চিত থেকে যায়। প্রযুক্তি সাধারণত ধনীদের আরও ধনী করার জন্য তৈরি হয়; দরিদ্ররা তার সুফল পায় না। অথচ প্রযুক্তিকে এমনভাবে নকশা করা সম্ভব, যাতে তা দরিদ্র মানুষকে কম শারীরিক পরিশ্রমে বেশি উৎপাদন করতে সহায়তা করে।

এই বিশ্বাসই পরবর্তীতে এসএএম প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বছরের পর বছর সাবেত পরিবার প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে পরামর্শ করে বুঝতে চেষ্টা করেছে, একটি ইঞ্জিনকে সত্যিকার অর্থে দরিদ্র মানুষের উপযোগী করতে হলে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। ২০০৮ সালে বার্লিনে হুশমান্দ সাবেত ও তাঁর ছেলে হাফেজ সাবেত প্রথমবারের মতো এসএএম-এর বেসিক ভার্সন প্রফেসর ইউনূসের কাছে উপস্থাপন করেন।

২০১৬ সালে হুশমান্দ সাবেতের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি কিছুটা দেরি হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সাল থেকে ড. সাবেত কনসাল্টিং-এর হাফেজ সাবেতের নেতৃত্বাধীন দল কাজটি নতুন উদ্যমে শুরু করে এবং আরও বেশকিছু সংযোজন আনে। ২০২৫ সালে হাফেজ সাবেত বাংলাদেশ সফর করেন এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত সোশ্যাল বিজনেস ডে-তে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন। সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি উদ্‌যাপন করা হয়।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সাবেত পরিবার বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্ভাবন ও সামাজিক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। বৈশ্বিক ঋণ সংকট নিয়ে হাফেজ সাবেতের মাস্টার্স গবেষণাপত্র অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছিল। উইকিউ (WeQ) ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও ভবিষ্যতবিদ পিটার স্পিগেল দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছেন।

একটি ফাউন্ডেশন ও সামাজিক ব্যবসা

ড. সাবেত কনসাল্টিং এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যৌথভাবে জার্মানিভিত্তিক সাবেত-ইউনূস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদে তারা দুজনসহ আরও কয়েকজন সদস্য থাকবেন।
এই ফাউন্ডেশন এসএএম প্রযুক্তির পেটেন্ট লাইসেন্সের অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসাগুলোর কাছে লাইসেন্স প্রদান করবে, যাতে স্থানীয়ভাবে এসএএম ইঞ্জিন উৎপাদন ও বাজারজাত করা যায়। উইকিউ ইনস্টিটিউট ফাউন্ডেশনটির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। এটি সামাজিক উদ্ভাবন, গবেষণা, শিক্ষা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সামাজিক উদ্যোক্তা সৃষ্টির একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগ

ড. সাবেত কনসাল্টিং জিএমবিএইচ, গ্রামীণ হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং উইকিউ ইনস্টিটিউট জিজিএমবিএইচ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) ভিত্তিতে বাংলাদেশে এসএএম প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি সামাজিক ব্যবসা যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অংশীদাররা এসএএম প্রযুক্তি এবং সেলাইন (CELINE – Clean Ethanol Logistics Improving Natural Environment) ধারণা উভয়ই পর্যালোচনা করেছেন। প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, কাঁচামালের উৎস, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজার পরিস্থিতি, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এবং পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থবহ ফলাফল পাওয়ার মতো যথেষ্ট পরিসরে অন্তত ২০০টি এসএএম ইউনিটের একটি পাইলট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীদাররা সম্মত হয়েছেন।

এসএএম এমন একটি জ্বালানি-নিরপেক্ষ (fuel-agnostic) প্রযুক্তি, যা বিভিন্ন ধরনের প্রয়োগক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি, বিদ্যুৎ এবং কুলিং এনার্জি উৎপাদন করতে সক্ষম। ফলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

অংশীদারদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ সফলভাবে যাচাই ও বাস্তবায়িত হলে তা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমাধান সম্প্রসারণ, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পুনরাবৃত্তিযোগ্য সামাজিক ব্যবসা মডেল প্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘শতাব্দীর আবিষ্কার’ সাবেত ইঞ্জিন, দারিদ্র্য থেকে মুক্তির এক নতুন ইঞ্জিন

আপডেট সময় : ০২:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কয়েক বছরের নিবিড় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের পর ড. সাবেত কনসাল্টিং জিএমবিএইচ এমন এক ইঞ্জিনের উদ্ভাবন করেছে, যা এর বিশ্বের দরিদ্র উদ্যোক্তাদের জীবন বদলে দিতে পারে। সাবেত অ্যাডভান্সড মোটর (এসএএম) এই ইঞ্জিনটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এবং একটি নতুন সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে ইঞ্জিনটিকে দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে পর্যালোচনা চলছে।

এসএএম-এর পেছনের ধারণাটি সহজ এবং সাহসী—এমন একটি ইঞ্জিন তৈরি করা, যা প্রচলিত ইঞ্জিনের তুলনায় অর্ধেক দামে বিক্রি করা সম্ভব, দরিদ্র উদ্যোক্তার নাগালে থাকা প্রায় যেকোনো ধরনের জ্বালানিতে চলবে এবং যেটি তেমন রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হবে না।

মূল উদ্ভাবক দুই ভাই হুশাং ও হুশমান্দ সাবেত শুরু থেকেই একটি লক্ষ্য নিয়েই কাজ করেছেন- “দারিদ্র্য থেকে মানুষকে মুক্ত করতে পারে এমন একটি ইঞ্জিন” তৈরি করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে ইঞ্জিনটিকে হতে হবে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী। পুরোনো ইঞ্জিনের উন্নত সংস্করণ নয়, বরং অটো ইঞ্জিন ও ওয়্যাঙ্কেল ইঞ্জিনের ধারাবাহিকতায় এক নতুন উদ্ভাবনই ছিল তাদের লক্ষ্য। এসএএম-এ প্রচলিত ইঞ্জিনের তুলনায় অনেক কম যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে এটি উৎপাদনে সাশ্রয়ী, আকারে ছোট, অধিক টেকসই এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। ইঞ্জিনটির পর্যবেক্ষণকারী অন্যতম খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ এটিকে আখ্যা দিয়েছেন “শতাব্দীর আবিষ্কার” হিসেবে।

ইঞ্জিনের পেছনের গল্প

১৯৯৭ সালে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্টের ঐতিহাসিক পলস্কির্খে গির্জায় অনুষ্ঠিত ক্লাব অব বুদাপেস্ট ইন্টারন্যাশনালের “প্ল্যানেটারি কনশাসনেস অ্যাওয়ার্ড” গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে হুশমান্দ সাবেতের পরিচয় হয়। অনুষ্ঠানটিতে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. লোথার স্প্যাথ। তিনি সেসময় মন্তব্য করেছিলেন যে, এই দুই পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির চিন্তা ও কাজের সমন্বয় “একটি সত্যিকারের বৈশ্বিক পরিবেশ-সামাজিক বাজার অর্থনীতির সূচনা” ঘটাতে পারে।

হুশমান্দ সাবেত দীর্ঘদিন ধরে জার্মান সংবাদপত্র ও টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেখে প্রফেসর ইউনূসের কাজ অনুসরণ করছিলেন। প্রফেসর ইউনূসের একটি মূল বার্তা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল—প্রতিষ্ঠান, নীতি এবং প্রযুক্তি—সবকিছু থেকেই দরিদ্র মানুষ প্রায়শই বঞ্চিত থেকে যায়। প্রযুক্তি সাধারণত ধনীদের আরও ধনী করার জন্য তৈরি হয়; দরিদ্ররা তার সুফল পায় না। অথচ প্রযুক্তিকে এমনভাবে নকশা করা সম্ভব, যাতে তা দরিদ্র মানুষকে কম শারীরিক পরিশ্রমে বেশি উৎপাদন করতে সহায়তা করে।

এই বিশ্বাসই পরবর্তীতে এসএএম প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বছরের পর বছর সাবেত পরিবার প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে পরামর্শ করে বুঝতে চেষ্টা করেছে, একটি ইঞ্জিনকে সত্যিকার অর্থে দরিদ্র মানুষের উপযোগী করতে হলে কী কী বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন। ২০০৮ সালে বার্লিনে হুশমান্দ সাবেত ও তাঁর ছেলে হাফেজ সাবেত প্রথমবারের মতো এসএএম-এর বেসিক ভার্সন প্রফেসর ইউনূসের কাছে উপস্থাপন করেন।

২০১৬ সালে হুশমান্দ সাবেতের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি কিছুটা দেরি হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সাল থেকে ড. সাবেত কনসাল্টিং-এর হাফেজ সাবেতের নেতৃত্বাধীন দল কাজটি নতুন উদ্যমে শুরু করে এবং আরও বেশকিছু সংযোজন আনে। ২০২৫ সালে হাফেজ সাবেত বাংলাদেশ সফর করেন এবং ঢাকায় অনুষ্ঠিত সোশ্যাল বিজনেস ডে-তে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নেন। সেখানে এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি উদ্‌যাপন করা হয়।

পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে সাবেত পরিবার বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্ভাবন ও সামাজিক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য পরিচিত। বৈশ্বিক ঋণ সংকট নিয়ে হাফেজ সাবেতের মাস্টার্স গবেষণাপত্র অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছিল। উইকিউ (WeQ) ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও ভবিষ্যতবিদ পিটার স্পিগেল দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছেন।

একটি ফাউন্ডেশন ও সামাজিক ব্যবসা

ড. সাবেত কনসাল্টিং এবং প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস যৌথভাবে জার্মানিভিত্তিক সাবেত-ইউনূস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের পরিচালনা পর্ষদে তারা দুজনসহ আরও কয়েকজন সদস্য থাকবেন।
এই ফাউন্ডেশন এসএএম প্রযুক্তির পেটেন্ট লাইসেন্সের অধিকার সংরক্ষণ করবে এবং বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসাগুলোর কাছে লাইসেন্স প্রদান করবে, যাতে স্থানীয়ভাবে এসএএম ইঞ্জিন উৎপাদন ও বাজারজাত করা যায়। উইকিউ ইনস্টিটিউট ফাউন্ডেশনটির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। এটি সামাজিক উদ্ভাবন, গবেষণা, শিক্ষা, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং সামাজিক উদ্যোক্তা সৃষ্টির একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগ

ড. সাবেত কনসাল্টিং জিএমবিএইচ, গ্রামীণ হেলথকেয়ার ট্রাস্ট এবং উইকিউ ইনস্টিটিউট জিজিএমবিএইচ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (MoU) ভিত্তিতে বাংলাদেশে এসএএম প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনকেন্দ্রিক একটি সামাজিক ব্যবসা যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অংশীদাররা এসএএম প্রযুক্তি এবং সেলাইন (CELINE – Clean Ethanol Logistics Improving Natural Environment) ধারণা উভয়ই পর্যালোচনা করেছেন। প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা, কাঁচামালের উৎস, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, বাজার পরিস্থিতি, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এবং পরিসংখ্যানগতভাবে অর্থবহ ফলাফল পাওয়ার মতো যথেষ্ট পরিসরে অন্তত ২০০টি এসএএম ইউনিটের একটি পাইলট প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীদাররা সম্মত হয়েছেন।

এসএএম এমন একটি জ্বালানি-নিরপেক্ষ (fuel-agnostic) প্রযুক্তি, যা বিভিন্ন ধরনের প্রয়োগক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি, বিদ্যুৎ এবং কুলিং এনার্জি উৎপাদন করতে সক্ষম। ফলে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর জ্বালানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

অংশীদারদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ সফলভাবে যাচাই ও বাস্তবায়িত হলে তা পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সমাধান সম্প্রসারণ, স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে পুনরাবৃত্তিযোগ্য সামাজিক ব্যবসা মডেল প্রদর্শনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।