ফ্রান্সের জার্সিতে মোরগ কেন? ইতিহাসে লুকিয়ে আছে উত্তর
- আপডেট সময় : ১২:১২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- / 144
মোরগের সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই। তবু আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে পরিচিত প্রতীকগুলোর একটি হলো ফ্রান্স জাতীয় দলের জার্সিতে থাকা সোনালি মোরগ। কেন এই প্রতীক? এর উত্তর লুকিয়ে আছে প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাসে।
বর্তমান ফ্রান্স অঞ্চল একসময় পরিচিত ছিল গল (Gaul) নামে। খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকে এখানকার অধিবাসী গলদের সঙ্গে রোমানদের দীর্ঘ সংঘাত চলছিল। ল্যাটিন ভাষায় Gallus শব্দের অর্থ একদিকে ‘গল জাতির মানুষ’, অন্যদিকে ‘মোরগ’। এই শব্দের দ্ব্যর্থতা নিয়ে রোমানরা গলদের ব্যঙ্গ করত। কিন্তু সেই ব্যঙ্গই সময়ের সঙ্গে গলদের পরিচয়ের প্রতীকে রূপ নেয়।
প্রাচীন গলদের বিশ্বাসে মোরগ ছিল সাহস, সতর্কতা ও নতুন সূচনার প্রতীক। পরে খ্রিস্টধর্মেও মোরগ বিশেষ মর্যাদা পায়। অন্ধকার শেষে আলোর আগমনের প্রতীক হিসেবে বহু গির্জার চূড়ায় মোরগের প্রতিকৃতি বসানো হতো। ফ্রান্সের বহু ঐতিহাসিক গির্জায় আজও সেই ঐতিহ্যের ছাপ দেখা যায়।
তবে মোরগের প্রকৃত উত্থান ঘটে ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের পর। রাজতন্ত্রের পতনের পর নতুন প্রজাতান্ত্রিক ফ্রান্স নিজেদের ঐতিহাসিক শিকড় খুঁজে পায় প্রাচীন গল জাতির মধ্যে। তখন থেকেই গলিক মোরগ (Le Coq Gaulois) স্বাধীনতা, সাহস, সতর্কতা ও জাতীয় গৌরবের প্রতীক হয়ে ওঠে। উনিশ শতকে সরকারি ভবন, সামরিক প্রতীক, ডাকটিকিট এমনকি ফরাসি মুদ্রা ‘ফ্রাঁ’-তেও মোরগের ব্যবহার দেখা যায়।
যদিও ফ্রান্সের জাতীয় পতাকায় মোরগ নেই, তবু এটি দেশটির সবচেয়ে পরিচিত অনানুষ্ঠানিক জাতীয় প্রতীক। সেই ঐতিহ্যই স্থান পায় ক্রীড়াঙ্গনে।
১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (FFF) তাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে গলিক মোরগকে। এরপর থেকেই ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের জার্সিতে শোভা পাচ্ছে এই প্রতীক। এটি শুধু একটি লোগো নয়; বরং ফরাসিদের ইতিহাস, আত্মপরিচয়, লড়াকু মানসিকতা ও জাতীয় গর্বের প্রতীক।
১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ জয়ের সময় টুর্নামেন্টের সরকারি ম্যাসকটও ছিল একটি নীল রঙের মোরগ-ফুটিক্স (Footix)। সেই বিশ্বকাপের পর মোরগ প্রতীকটি আরও দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে যায় ফরাসি ফুটবলের পরিচয়ের সঙ্গে।
তাই মাঠে যখন ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা বুকের ওপর মোরগের প্রতীক নিয়ে নামেন, তখন সেটি শুধু একটি ফুটবল দলের লোগো নয়; বরং এটি হয়ে ওঠে প্রাচীন গল থেকে আধুনিক ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় আত্মমর্যাদার এক শক্তিশালী প্রতীক।

























