০৬:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সীরাতুন্নবী (সাঃ) মাহফিল উপলক্ষে বড়লেখা কলেজ ছাত্রশিবিরের আলোচনা Logo বিদিশা গুলশান থেকে গ্রেপ্তার, প্রতারণা মামলায় দুই বছরের সাজা Logo বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সংবর্ধিত তিন গুণী শিক্ষক Logo প্রকৃতি রক্ষা করেই হাকালুকি হাওর ঘিরে গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের নতুন পর্যটন অর্থনীতি Logo নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন বিষয়ে সিলেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিকদের কর্মশালা Logo শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে ২৫ কোটি টাকা দিল কাফকো Logo লিডিং ইউনিভার্সিটিতে রোবটিকস কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান Logo বড়লেখা আদালত প্রাঙ্গণে পুবালী ব্যাংকের অর্থায়নে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Logo রোগীর অ্যাম্বুলেন্সের চালক সিভিল সার্জনের গাড়িতে, ৯ মাস ধরে সংকটে জুড়ীর জরুরি সেবা Logo সিলেটস্থ দোয়ারাবাজার সমিতির নবগঠিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত

শেষ মুহূর্তে জাপানের স্বপ্ন ভাঙল ব্রাজিল, আনচেলত্তির দর্শনের আরেকটি জয়

ছাদিক হোসেন, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 97
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কঠিন মুহূর্তে ম্যাচে টিকে থাকা। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের জয় যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষ হয় হতাশায়। নিজেদের রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপান এগিয়ে যায়। মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল, আবারও কি বিশ্বকাপে কোনো অঘটনের জন্ম হতে যাচ্ছে?

তবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে এত সহজে লেখা যায় না। তার কোচিং দর্শনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হলো—শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ার্ধে সেই মানসিকতাই দেখা গেল ব্রাজিলের খেলায়। আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে, মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন, আর একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে জাপানের রক্ষণে।

সমতাসূচক গোলের পরও ব্রাজিল থামেনি। কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া নয়, নির্ধারিত সময়েই শেষ করা। যোগ করা সময়ে রায়ানের দারুণ লড়াই থেকে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস নিখুঁত পাস বাড়ান বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দিকে। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জাপানের প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, এটি ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তারও গল্প। অনেক বছর ধরেই আনচেলত্তির দলগুলোকে আলাদা করেছে তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার ক্ষমতা। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যেভাবে অসংখ্য নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিলেন তিনি, ব্রাজিলের জার্সিতেও যেন সেই একই চরিত্র ফুটে উঠছে।

তবে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তাও। রক্ষণে ছোট ছোট ভুল, সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা এবং ম্যাচ শেষ করতে দেরি করা—এসব বিষয় কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ঠিক করতেই হবে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি ভুলের মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

জাপান হারলেও মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ ছাড়ছে। সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা দিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করেছে, বড় দলগুলোর জন্য তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেষ মুহূর্তে জাপানের স্বপ্ন ভাঙল ব্রাজিল, আনচেলত্তির দর্শনের আরেকটি জয়

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কঠিন মুহূর্তে ম্যাচে টিকে থাকা। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের জয় যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষ হয় হতাশায়। নিজেদের রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপান এগিয়ে যায়। মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল, আবারও কি বিশ্বকাপে কোনো অঘটনের জন্ম হতে যাচ্ছে?

তবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে এত সহজে লেখা যায় না। তার কোচিং দর্শনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হলো—শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ার্ধে সেই মানসিকতাই দেখা গেল ব্রাজিলের খেলায়। আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে, মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন, আর একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে জাপানের রক্ষণে।

সমতাসূচক গোলের পরও ব্রাজিল থামেনি। কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া নয়, নির্ধারিত সময়েই শেষ করা। যোগ করা সময়ে রায়ানের দারুণ লড়াই থেকে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস নিখুঁত পাস বাড়ান বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দিকে। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জাপানের প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, এটি ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তারও গল্প। অনেক বছর ধরেই আনচেলত্তির দলগুলোকে আলাদা করেছে তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার ক্ষমতা। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যেভাবে অসংখ্য নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিলেন তিনি, ব্রাজিলের জার্সিতেও যেন সেই একই চরিত্র ফুটে উঠছে।

তবে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তাও। রক্ষণে ছোট ছোট ভুল, সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা এবং ম্যাচ শেষ করতে দেরি করা—এসব বিষয় কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ঠিক করতেই হবে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি ভুলের মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

জাপান হারলেও মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ ছাড়ছে। সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা দিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করেছে, বড় দলগুলোর জন্য তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ।