১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

শেষ মুহূর্তে জাপানের স্বপ্ন ভাঙল ব্রাজিল, আনচেলত্তির দর্শনের আরেকটি জয়

ছাদিক হোসেন, ক্রীড়া প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
  • / 159
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কঠিন মুহূর্তে ম্যাচে টিকে থাকা। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের জয় যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষ হয় হতাশায়। নিজেদের রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপান এগিয়ে যায়। মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল, আবারও কি বিশ্বকাপে কোনো অঘটনের জন্ম হতে যাচ্ছে?

তবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে এত সহজে লেখা যায় না। তার কোচিং দর্শনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হলো—শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ার্ধে সেই মানসিকতাই দেখা গেল ব্রাজিলের খেলায়। আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে, মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন, আর একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে জাপানের রক্ষণে।

সমতাসূচক গোলের পরও ব্রাজিল থামেনি। কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া নয়, নির্ধারিত সময়েই শেষ করা। যোগ করা সময়ে রায়ানের দারুণ লড়াই থেকে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস নিখুঁত পাস বাড়ান বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দিকে। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জাপানের প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, এটি ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তারও গল্প। অনেক বছর ধরেই আনচেলত্তির দলগুলোকে আলাদা করেছে তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার ক্ষমতা। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যেভাবে অসংখ্য নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিলেন তিনি, ব্রাজিলের জার্সিতেও যেন সেই একই চরিত্র ফুটে উঠছে।

তবে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তাও। রক্ষণে ছোট ছোট ভুল, সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা এবং ম্যাচ শেষ করতে দেরি করা—এসব বিষয় কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ঠিক করতেই হবে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি ভুলের মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

জাপান হারলেও মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ ছাড়ছে। সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা দিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করেছে, বড় দলগুলোর জন্য তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শেষ মুহূর্তে জাপানের স্বপ্ন ভাঙল ব্রাজিল, আনচেলত্তির দর্শনের আরেকটি জয়

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে শুধু সুন্দর ফুটবল খেললেই হয় না, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কঠিন মুহূর্তে ম্যাচে টিকে থাকা। জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলের জয় যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি।

পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ আর সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। কিন্তু আধিপত্য থাকা সত্ত্বেও প্রথমার্ধ শেষ হয় হতাশায়। নিজেদের রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপান এগিয়ে যায়। মুহূর্তের জন্য মনে হচ্ছিল, আবারও কি বিশ্বকাপে কোনো অঘটনের জন্ম হতে যাচ্ছে?

তবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে এত সহজে লেখা যায় না। তার কোচিং দর্শনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্যই হলো—শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ার্ধে সেই মানসিকতাই দেখা গেল ব্রাজিলের খেলায়। আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে, মাঝমাঠে ব্রুনো গিমারায়েস খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন, আর একের পর এক সুযোগ তৈরি হতে থাকে জাপানের রক্ষণে।

সমতাসূচক গোলের পরও ব্রাজিল থামেনি। কারণ তাদের লক্ষ্য ছিল ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নেওয়া নয়, নির্ধারিত সময়েই শেষ করা। যোগ করা সময়ে রায়ানের দারুণ লড়াই থেকে বল পেয়ে ব্রুনো গিমারায়েস নিখুঁত পাস বাড়ান বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির দিকে। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জাপানের প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।

এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতার গল্প নয়, এটি ব্রাজিলের মানসিক দৃঢ়তারও গল্প। অনেক বছর ধরেই আনচেলত্তির দলগুলোকে আলাদা করেছে তাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখার ক্ষমতা। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে যেভাবে অসংখ্য নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী ছিলেন তিনি, ব্রাজিলের জার্সিতেও যেন সেই একই চরিত্র ফুটে উঠছে।

তবে এই ম্যাচ ব্রাজিলের জন্য একটি সতর্কবার্তাও। রক্ষণে ছোট ছোট ভুল, সুযোগ নষ্ট করার প্রবণতা এবং ম্যাচ শেষ করতে দেরি করা—এসব বিষয় কোয়ার্টার ফাইনালের আগে ঠিক করতেই হবে। কারণ সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন পরীক্ষা, যেখানে প্রতিটি ভুলের মূল্য আরও বেশি হতে পারে।

জাপান হারলেও মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ ছাড়ছে। সংগঠিত ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতা দিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করেছে, বড় দলগুলোর জন্য তারা কতটা কঠিন প্রতিপক্ষ।