নিজের মেয়ের নামেই অনুদানের টাকা নিলেন জামায়াত এমপি
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬
- / 22
নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু)-এর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের তালিকায় তাঁর নিজের মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অনুদানপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ তাঁর নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ির এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগও উঠেছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে জারি করা একটি সরকারি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিতে দেখা যায়, সংসদ সদস্যের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিল থেকে ২১ জনের নামে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা অনুদান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া তালিকায় ১ ও ৮ নম্বরে ‘ফাইজা’ নামের একজনের নাম রয়েছে। দুটি এন্ট্রির বাবার নামের স্থলে যথাক্রমে ‘মো. বাচ্চু’ ও ‘মো. আতাউর’ উল্লেখ করা হয়েছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই ১০ হাজার টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই ফাইজা সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের মেয়ে।
তালিকাটি পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জন সুবিধাভোগীর মধ্যে ৯ জনই এমপির নিজ ইউনিয়ন হবখালীর বাসিন্দা। অপরদিকে লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকা লাহুড়িয়ায়।
শনিবার (২৭ জুন) নড়াইল জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান ভাইরাল হওয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তালিকা তৈরির বিষয়টি তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) দেখভাল করেছেন এবং এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত অবগত ছিলেন না।
তিনি বলেন, তিনি তখন নড়াইলে ছিলেন না। তাঁর পিএস জানিয়েছিলেন, দ্রুত একটি তালিকা জমা দিতে হবে। সে সময় স্বাক্ষরিত প্যাড পিএসের কাছেই ছিল। তাই পরিচিত কয়েকজনের নাম দিয়ে তালিকা তৈরি করে জমা দিতে বলেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, সেই তালিকায় পরিবারের সদস্য ও পরিচিত এলাকার মানুষের নাম বেশি চলে এসেছে।
সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, নিজের মেয়ের নামে অনুদান বরাদ্দ হয়েছে এ বিষয়টি তিনি জানতেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার সন্তানের নামে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। প্রকৃত অসচ্ছলদের জন্য নতুন তালিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তবে নতুন তালিকা অনুযায়ী অনুদান বিতরণের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে সচিবালয় থেকে যাদের নামে অনুদান অনুমোদন হয়েছে, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কেবল তাদের কাছেই অর্থ বিতরণ করা যাবে। তালিকা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ অনুদান গ্রহণ না করলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাবে। তালিকা সংশোধন করতে হলে পুনরায় সচিবালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
























