০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ Logo মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চড়ুইভাতি Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo তৃণমূলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান Logo বড়লেখায় মহিষকাণ্ডে যুবলীগ ও বিএনপি নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বদেশমেইল সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানের মতবিনিময় Logo জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে দাসের বাজারে দুই শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীর বাসায় আগুন, পুড়ে ছাই দুই ঘর Logo প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত, রাজধানীর বসিলায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

পাথারিয়া পাহাড়ে ভাল্লুক সদৃশ প্রাণী দেখার দাবি, রহস্য ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল

আফজাল হোসেন রুমেল, বড়লেখা
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • / 88
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে ভাল্লুক সদৃশ একটি প্রাণী দেখার দাবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাচীন এই বনাঞ্চল। গহিন অরণ্যে কয়েকজন পর্যটকের চোখে পড়া কালো রঙের বড় আকৃতির একটি প্রাণীকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

সম্প্রতি পর্যটক সুদর্শন দেব কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পাথারিয়া পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ভ্রমণে যান। ভ্রমণের একপর্যায়ে তার দলের দুই সদস্যের সামনে দিয়ে হঠাৎ একটি কালো কুচকুচে বড় আকৃতির প্রাণী চলে যায়। পর্যটকদের দাবি, প্রাণীটির আকার, গায়ের রং ও চলাফেরার ধরন অনেকটা ভাল্লুকের মতো মনে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের গভীর জঙ্গলের একটি অংশে হঠাৎ প্রাণীটি তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখা যাওয়ায় সেটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটি আবার ঘন বনের আড়ালে হারিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে- পাথারিয়া পাহাড়ের গহিন অরণ্যে কি এখনো কোনো ভাল্লুক টিকে আছে, নাকি অন্য কোনো বন্যপ্রাণীকে দূর থেকে ভাল্লুক মনে হয়েছে?

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার ভিত্তিতে কোনো প্রাণীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, ক্যামেরা ট্র্যাপ পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ।

পাথারিয়া পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল। গবেষণায় এর আগে এই বনে সোনালি বিড়াল, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, বন বিড়াল, লজ্জাবতী বানর ও উল্লুকসহ বিভিন্ন বিরল প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, পাথারিয়া পাহাড়ে স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপেও বিভিন্ন সময় নানা দুর্লভ প্রাণীর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই বনাঞ্চলে ফেরেট ব্যাজার, হগ ব্যাজার, বনরুই, ক্ষুদ্র নখযুক্ত উদবিড়াল, মায়া হরিণ, বুনো শূকর ও বিপন্ন কাঠময়ূরের মতো প্রাণীর অস্তিত্বও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও পাথারিয়া পাহাড় ছিল আরও ঘন ও দুর্গম। তখন এই অরণ্যে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সময়ের সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, বসতি স্থাপন ও অবৈধ শিকারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ।

বন্যপ্রাণী গবেষকরা মনে করেন, পাথারিয়ার কিছু অংশে এখনো এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে, যেখানে বিরল প্রাণীরা টিকে থাকতে পারে। নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এই বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

পরিবেশবাদীদের মতে, পাথারিয়া পাহাড় শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পাহাড়ের বুকে এখনো লুকিয়ে আছে প্রকৃতির বহু অজানা রহস্য। তাই অবৈধ শিকার বন্ধ, বন সংরক্ষণ এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাথারিয়া পাহাড়ে ভাল্লুক সদৃশ প্রাণী দেখার দাবি, রহস্য ঘিরে বাড়ছে কৌতূহল

আপডেট সময় : ০২:৩৭:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ে ভাল্লুক সদৃশ একটি প্রাণী দেখার দাবিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রাচীন এই বনাঞ্চল। গহিন অরণ্যে কয়েকজন পর্যটকের চোখে পড়া কালো রঙের বড় আকৃতির একটি প্রাণীকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণীপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।

সম্প্রতি পর্যটক সুদর্শন দেব কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে পাথারিয়া পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় ভ্রমণে যান। ভ্রমণের একপর্যায়ে তার দলের দুই সদস্যের সামনে দিয়ে হঠাৎ একটি কালো কুচকুচে বড় আকৃতির প্রাণী চলে যায়। পর্যটকদের দাবি, প্রাণীটির আকার, গায়ের রং ও চলাফেরার ধরন অনেকটা ভাল্লুকের মতো মনে হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড়ের গভীর জঙ্গলের একটি অংশে হঠাৎ প্রাণীটি তাদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করে। তবে অল্প সময়ের জন্য দেখা যাওয়ায় সেটির সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তারা। মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণীটি আবার ঘন বনের আড়ালে হারিয়ে যায়।

এই ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে- পাথারিয়া পাহাড়ের গহিন অরণ্যে কি এখনো কোনো ভাল্লুক টিকে আছে, নাকি অন্য কোনো বন্যপ্রাণীকে দূর থেকে ভাল্লুক মনে হয়েছে?

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার ভিত্তিতে কোনো প্রাণীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, ক্যামেরা ট্র্যাপ পর্যবেক্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ।

পাথারিয়া পাহাড় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল। গবেষণায় এর আগে এই বনে সোনালি বিড়াল, মেছো বিড়াল, চিতা বিড়াল, বন বিড়াল, লজ্জাবতী বানর ও উল্লুকসহ বিভিন্ন বিরল প্রাণীর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

গবেষকদের মতে, পাথারিয়া পাহাড়ে স্থাপন করা স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা ট্র্যাপেও বিভিন্ন সময় নানা দুর্লভ প্রাণীর উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই বনাঞ্চলে ফেরেট ব্যাজার, হগ ব্যাজার, বনরুই, ক্ষুদ্র নখযুক্ত উদবিড়াল, মায়া হরিণ, বুনো শূকর ও বিপন্ন কাঠময়ূরের মতো প্রাণীর অস্তিত্বও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক দশক আগেও পাথারিয়া পাহাড় ছিল আরও ঘন ও দুর্গম। তখন এই অরণ্যে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর বিচরণ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। তবে সময়ের সঙ্গে বন উজাড়, পাহাড় কাটা, বসতি স্থাপন ও অবৈধ শিকারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ।

বন্যপ্রাণী গবেষকরা মনে করেন, পাথারিয়ার কিছু অংশে এখনো এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ রয়েছে, যেখানে বিরল প্রাণীরা টিকে থাকতে পারে। নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ ও কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলে এই বনাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

পরিবেশবাদীদের মতে, পাথারিয়া পাহাড় শুধু একটি বনাঞ্চল নয়, এটি দেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পাহাড়ের বুকে এখনো লুকিয়ে আছে প্রকৃতির বহু অজানা রহস্য। তাই অবৈধ শিকার বন্ধ, বন সংরক্ষণ এবং নিয়মিত গবেষণার মাধ্যমে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা জরুরি।