কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তরুণের লাশ হস্তান্তর
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- / 77
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ তারা মিয়া (১৯)-এর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক শেষে ভারতীয় পুলিশ মরদেহটি কুলাউড়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তির বাসিন্দা আব্দুল মালেকের ছেলে। তাঁর বড় ভাই রাজু মিয়া মরদেহ গ্রহণ করেন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে মরদেহ হস্তান্তর নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়। এতে কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম এবং বিএসএফের মাগুরুলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিতসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, শনিবার দিবাগত রাত তিনটার পর তারা মিয়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের আলীনগর-শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। তাঁরা ভারতের মাগুরুলী এলাকায় চোরাই পণ্য আনতে গিয়েছিলেন বলে বিজিবির দাবি।
এ সময় বিএসএফের ১৯৯ ব্যাটালিয়নের মাগুরুলী ক্যাম্পের টহল দল তাঁদের গতিরোধের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে বিএসএফ গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান।
তবে নিহতের মা আজিরুন্নেছার দাবি, তাঁর ছেলে চোরাকারবারে জড়িত ছিলেন না। স্থানীয় কয়েকজন টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে ভারতীয় পুলিশ মরদেহটি কুলাউড়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পরিবারের কাছে মরদেহ দেওয়া হয়।
বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, তারা মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিজিবির টহল জোরদার ও স্থানীয়দের নিয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে।

























