০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ Logo মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চড়ুইভাতি Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo তৃণমূলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান Logo বড়লেখায় মহিষকাণ্ডে যুবলীগ ও বিএনপি নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বদেশমেইল সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানের মতবিনিময় Logo জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে দাসের বাজারে দুই শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীর বাসায় আগুন, পুড়ে ছাই দুই ঘর Logo প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত, রাজধানীর বসিলায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

জুড়ীতে শিকলবন্দী দুই মেয়ের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন মা

মঞ্জুরে আলম লাল, জুড়ী ::
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / 85
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের বাসিন্দা মৃত মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুন এর দুই মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন থেকে নিজ গৃহে শিকলবন্দী হয়ে আছেন। অর্থাভাবে ও সঠিক জানার অভাবে মেয়ে দু’টি বিনাচিকিৎসায় ধুকছে। তাদের সঠিক চিকিৎসার জন্য ভিক্ষুক মা সবার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলা ও আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে পারেন ০১৭৮৫-৬৬৬০১০ এই বিকাশ (জামিনা খাতুন) নম্বরে।

মরতুজ আলী ও জামিনা খাতুন দম্পতির তিন মেয়ে। দিনমজুর স্বামীর আয়ে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। প্রায় ২৫ বছর আগে মরতুজ আলী মারা যান। তখন ছোট মেয়ের বয়স ছিল ছয় মাস। অসহায় জামিনা খাতুন নিজ কাধে তুলে নেন সংসারের বোঝা। মানুষের বাড়ি কাজ করে ও ভিক্ষা করে সংসার চালান, মেয়েদের লালন-পালন করে বড় করেন। বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। বিয়ের বছর যেতেই তার মৃত সন্তান জন্ম হয়। এনিয়ে সে দুশ্চিন্তায় ভোগতে থাকে। কিছু দিনের মধ্যে তার মানসিক সমস্যা দেখ দেয়। তখন স্বামী তার কোনো চিকিৎসা না করিয়ে তাকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং তালাক দেয়। এতে করে আফিয়ার মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে, একপর্যায়ে তা বড় আকার ধারণ করে। মা বাধ্য হয়ে মেয়েকে শিকলবন্দী করেন। দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনা বেগম ছিল সহজ-সরল। তাকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম হরিরামপুর (মইজন নগর) গ্রামে বিয়ে দেন। বছরান্তে তার সন্তান প্রসবের সময় হলে তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনে তার মৃত সন্তান হয়। একথা শুনে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতাল রেখে পালিয়ে যান। পরে মা ভিক্ষা করে ও জমি বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান। সেই থেকে রোবিনাও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মা বাধ্য হন তাকেও বেঁধে রাখতে। কেননা, একটু সুযোগ পেলেই সে দৌঁড়ে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। যদিও এরই মধ্যে স্বামী তাকে তালাক দেয়। মেয়ে দু’টিকে কোনো এক চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা করালে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া হয়। অর্থাভাবে ও সঠিক জানার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো হয়নি। আফিয়া ১৪/১৫ বছর এবং রোবেনা ৭/৮ বছর থেকে শিকলবন্দী।

জামিনা খাতুনের মুলঘরের সাথে একচালা একটি কক্ষে মাটির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুই বোন শিকলবন্দী অবস্থায় আছেন। মাঝে মধ্যে শিকল খুলে দিয়ে দরজা বাহিরে থেকে বেঁধে রাখা হয়। যাতে তারা বের হয়ে যেতে না পারে। বৃদ্ধা মা যতটুকু সম্ভব মেয়েদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। তবে ইচ্ছা থাকলেও সকল সময় সেটা সম্ভব হয় না। ভালো কোনো পোশাক তাদের পরানোর সামর্থ্য মায়ের নেই।

জামিনা খাতুন বলেন- ‘ভিক্ষা করে পেটের ভাত যোগাইতে কষ্ট হয়। চিকিৎসা কী দিয়ে করব? তাছাড়া ভালো ডাক্তার কই আছে আমিতো জানিনা। আমি একা মানুষ এই পাগল মেয়েদের নিয়ে যাইতেও পারব না। আপনারা সহযোগিতা করে চিকিৎসা করালে হয়তো আমার মেয়েগুলো ভালো হইতো।’

সম্মানীত সুধী, আসুন আমরা জামিনা খাতুনের মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াই। সকলে সাধ্য মত আফিয়া ও রোবেনার চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি।আল্লাহ সবার সহায় হোন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জুড়ীতে শিকলবন্দী দুই মেয়ের চিকিৎসায় আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন মা

আপডেট সময় : ০২:০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের বাসিন্দা মৃত মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুন এর দুই মেয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন থেকে নিজ গৃহে শিকলবন্দী হয়ে আছেন। অর্থাভাবে ও সঠিক জানার অভাবে মেয়ে দু’টি বিনাচিকিৎসায় ধুকছে। তাদের সঠিক চিকিৎসার জন্য ভিক্ষুক মা সবার কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন। চিকিৎসার বিষয়ে কথা বলা ও আর্থিক সহযোগিতা পাঠাতে পারেন ০১৭৮৫-৬৬৬০১০ এই বিকাশ (জামিনা খাতুন) নম্বরে।

মরতুজ আলী ও জামিনা খাতুন দম্পতির তিন মেয়ে। দিনমজুর স্বামীর আয়ে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। প্রায় ২৫ বছর আগে মরতুজ আলী মারা যান। তখন ছোট মেয়ের বয়স ছিল ছয় মাস। অসহায় জামিনা খাতুন নিজ কাধে তুলে নেন সংসারের বোঝা। মানুষের বাড়ি কাজ করে ও ভিক্ষা করে সংসার চালান, মেয়েদের লালন-পালন করে বড় করেন। বড় মেয়ে আফিয়া খাতুনকে বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ এলাকায়। বিয়ের বছর যেতেই তার মৃত সন্তান জন্ম হয়। এনিয়ে সে দুশ্চিন্তায় ভোগতে থাকে। কিছু দিনের মধ্যে তার মানসিক সমস্যা দেখ দেয়। তখন স্বামী তার কোনো চিকিৎসা না করিয়ে তাকে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেয় এবং তালাক দেয়। এতে করে আফিয়ার মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে, একপর্যায়ে তা বড় আকার ধারণ করে। মা বাধ্য হয়ে মেয়েকে শিকলবন্দী করেন। দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনা বেগম ছিল সহজ-সরল। তাকে একই ইউনিয়নের পশ্চিম হরিরামপুর (মইজন নগর) গ্রামে বিয়ে দেন। বছরান্তে তার সন্তান প্রসবের সময় হলে তাকে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনে তার মৃত সন্তান হয়। একথা শুনে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে হাসপাতাল রেখে পালিয়ে যান। পরে মা ভিক্ষা করে ও জমি বিক্রি করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে মেয়েকে বাড়ি নিয়ে যান। সেই থেকে রোবিনাও মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। মা বাধ্য হন তাকেও বেঁধে রাখতে। কেননা, একটু সুযোগ পেলেই সে দৌঁড়ে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। যদিও এরই মধ্যে স্বামী তাকে তালাক দেয়। মেয়ে দু’টিকে কোনো এক চিকিৎসকের নিকট চিকিৎসা করালে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসা বন্ধ করে দেয়া হয়। অর্থাভাবে ও সঠিক জানার অভাবে উন্নত চিকিৎসা করানো হয়নি। আফিয়া ১৪/১৫ বছর এবং রোবেনা ৭/৮ বছর থেকে শিকলবন্দী।

জামিনা খাতুনের মুলঘরের সাথে একচালা একটি কক্ষে মাটির মধ্যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুই বোন শিকলবন্দী অবস্থায় আছেন। মাঝে মধ্যে শিকল খুলে দিয়ে দরজা বাহিরে থেকে বেঁধে রাখা হয়। যাতে তারা বের হয়ে যেতে না পারে। বৃদ্ধা মা যতটুকু সম্ভব মেয়েদের পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করেন। তবে ইচ্ছা থাকলেও সকল সময় সেটা সম্ভব হয় না। ভালো কোনো পোশাক তাদের পরানোর সামর্থ্য মায়ের নেই।

জামিনা খাতুন বলেন- ‘ভিক্ষা করে পেটের ভাত যোগাইতে কষ্ট হয়। চিকিৎসা কী দিয়ে করব? তাছাড়া ভালো ডাক্তার কই আছে আমিতো জানিনা। আমি একা মানুষ এই পাগল মেয়েদের নিয়ে যাইতেও পারব না। আপনারা সহযোগিতা করে চিকিৎসা করালে হয়তো আমার মেয়েগুলো ভালো হইতো।’

সম্মানীত সুধী, আসুন আমরা জামিনা খাতুনের মানবিক আবেদনে সাড়া দিয়ে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াই। সকলে সাধ্য মত আফিয়া ও রোবেনার চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করি।আল্লাহ সবার সহায় হোন।