১০:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ Logo মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চড়ুইভাতি Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo তৃণমূলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান Logo বড়লেখায় মহিষকাণ্ডে যুবলীগ ও বিএনপি নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বদেশমেইল সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানের মতবিনিময় Logo জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে দাসের বাজারে দুই শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীর বাসায় আগুন, পুড়ে ছাই দুই ঘর Logo প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত, রাজধানীর বসিলায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

‘ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল, মনে রাখবে কারা দরজা খুলেছিল’- কলকাতায় ফিরে তসলিমা

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 117
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে সংবর্ধনা গ্রহণ করে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে সংবর্ধনা গ্রহণের পর তিনি বলেন, “ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল। ইতিহাস মনে রাখবে কারা দরজা খুলেছিল।”

২০০৭ সালের নভেম্বরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর এবারই প্রথম শহরটিতে ফিরলেন তসলিমা। দীর্ঘ নির্বাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাসিত মানুষের ক্যালেন্ডারে বছর শুধু সময় নয়, প্রতিটি বছর একটি বন্ধ দরজা, প্রতিটি মাস অপেক্ষার, প্রতিটি দিন নিজের ঠিকানা হারানোর দুঃখের। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, আমি শুধু একটি শহরে ফিরে আসিনি; ফিরে এসেছি একটি অধ্যায়ের কাছে।”

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তসলিমা বলেন, এটি তাঁর জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই তসলিমাকে ঘিরে ছিল বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “একজন লেখককে তাঁর ভাষার শহরে আসতে পুলিশের পাহারার প্রয়োজন হওয়াটাই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক সত্য। আমি এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখি, যেদিন কোনো লেখককে পুলিশের নিরাপত্তায় চলতে হবে না, ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না।” তাঁর মতে, একজন লেখকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একটি প্রাণ রক্ষা নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সুরক্ষা দেওয়া।

সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও নিজের স্বাধীন অবস্থান স্পষ্ট করেন তসলিমা। তিনি বলেন, “কৃতজ্ঞতা আনুগত্যের চুক্তি নয়। কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে আমি আমার স্বাধীন চিন্তাকে বন্ধক দিই না। কোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে দলীয় আনুগত্যের প্রয়োজন নেই, আবার দ্বিমত প্রকাশ করতেও বিদ্বেষের প্রয়োজন হয় না। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে এখানে কথা বলতে আসিনি, কাউকে পরাজিত করতেও আসিনি।”

তসলিমা আরও বলেন, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে ভয় ও নিষেধাজ্ঞা কখনোই স্থায়ী নয়। “বন্ধ দরজাও চিরকাল বন্ধ থাকে না,”- মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৯৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তসলিমা বলেন, “আগস্ট আমার জন্মের মাস, আগস্ট আমার নির্বাসনের মাস। আজ থেকে আগস্ট আমার প্রত্যাবর্তনের মাসও।” তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল এবং এরপর বিভিন্ন সরকার এলেও তাঁর জন্য স্বদেশের সেই দরজা আর খুলে দেওয়া হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল, মনে রাখবে কারা দরজা খুলেছিল’- কলকাতায় ফিরে তসলিমা

আপডেট সময় : ০১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরে সংবর্ধনা গ্রহণ করে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে সংবর্ধনা গ্রহণের পর তিনি বলেন, “ইতিহাস মনে রাখে কারা দরজা বন্ধ করেছিল। ইতিহাস মনে রাখবে কারা দরজা খুলেছিল।”

২০০৭ সালের নভেম্বরে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর এবারই প্রথম শহরটিতে ফিরলেন তসলিমা। দীর্ঘ নির্বাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাসিত মানুষের ক্যালেন্ডারে বছর শুধু সময় নয়, প্রতিটি বছর একটি বন্ধ দরজা, প্রতিটি মাস অপেক্ষার, প্রতিটি দিন নিজের ঠিকানা হারানোর দুঃখের। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার পর কলকাতার মাটিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, আমি শুধু একটি শহরে ফিরে আসিনি; ফিরে এসেছি একটি অধ্যায়ের কাছে।”

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। আপনি যতবার ইচ্ছা, যখন ইচ্ছা আসবেন, কথা বলবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তসলিমা বলেন, এটি তাঁর জন্য ছিল সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত।

কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর থেকেই তসলিমাকে ঘিরে ছিল বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “একজন লেখককে তাঁর ভাষার শহরে আসতে পুলিশের পাহারার প্রয়োজন হওয়াটাই আমাদের জন্য বেদনাদায়ক সত্য। আমি এমন একটি দিনের স্বপ্ন দেখি, যেদিন কোনো লেখককে পুলিশের নিরাপত্তায় চলতে হবে না, ভিন্নমত প্রকাশের কারণে কাউকে দেশ ছাড়তে হবে না।” তাঁর মতে, একজন লেখকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু একটি প্রাণ রক্ষা নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকেও সুরক্ষা দেওয়া।

সরকারকে ধন্যবাদ জানালেও নিজের স্বাধীন অবস্থান স্পষ্ট করেন তসলিমা। তিনি বলেন, “কৃতজ্ঞতা আনুগত্যের চুক্তি নয়। কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে আমি আমার স্বাধীন চিন্তাকে বন্ধক দিই না। কোনো ভালো কাজের স্বীকৃতি দিতে দলীয় আনুগত্যের প্রয়োজন নেই, আবার দ্বিমত প্রকাশ করতেও বিদ্বেষের প্রয়োজন হয় না। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে এখানে কথা বলতে আসিনি, কাউকে পরাজিত করতেও আসিনি।”

তসলিমা আরও বলেন, তাঁর এই প্রত্যাবর্তন প্রমাণ করে ভয় ও নিষেধাজ্ঞা কখনোই স্থায়ী নয়। “বন্ধ দরজাও চিরকাল বন্ধ থাকে না,”- মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৯৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তসলিমা বলেন, “আগস্ট আমার জন্মের মাস, আগস্ট আমার নির্বাসনের মাস। আজ থেকে আগস্ট আমার প্রত্যাবর্তনের মাসও।” তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল এবং এরপর বিভিন্ন সরকার এলেও তাঁর জন্য স্বদেশের সেই দরজা আর খুলে দেওয়া হয়নি।