০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস Logo বন্ধ থাকা ৩ টি রাস্তার কাজ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম রাজন Logo সড়ক দুর্ঘটনায় আলী হোসেনের মৃত্যুতে জুড়ীতে শোকের ছায়া Logo বড়লেখায় সড়ক দুর্ঘটনায় জুড়ীর যুবক নিহত, গুরুতর আহত ৩ Logo প্যারিসে বিশেষ কনস্যুলার সেবা শুরু, ই-পাসপোর্টে স্বস্তি; আরও উদ্যোগ চান প্রবাসীরা Logo ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি আরিফ, সম্পাদক মুনা Logo দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ আর দুর্নীতিবাজ দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে Logo নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যু: আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান Logo মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সিলেটে চা শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ Logo জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ছাড়ল খেলাফত মজলিস

কাঠমান্ডুতে ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ উৎসব

বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • / 11
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের সুস্বাদু আম ও আমজাত পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এক বিশেষ আম উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস-সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

উৎসবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, চেম্বার নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

তিনি জানান, দেশের উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। খিরসাপাত (হিমসাগর), হারিভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, বানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন, গৌরমতি এবং বিভিন্ন বারি জাতের আমের অনন্য স্বাদ, সুবাস, পুষ্টিগুণ ও গুণগত মান বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেরিতে ফলনশীল নতুন বারি জাতের আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে দেশের বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক বাজারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে অভিনন্দন জানান এবং কৃষি ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বলেন, এ আয়োজন শুধু বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচায়ক নয়, বরং বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের তাজা আমের পাশাপাশি আমভিত্তিক নানা প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের আমের স্বাদ, বৈচিত্র্য ও রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক উদ্যানতত্ত্ব, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্রও প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সফল আমচাষি রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (জিএপি) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন।

প্রদর্শনীতে রাজশাহীর মৌসুম-পরবর্তী জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের আম- ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি ও আশ্বিনা—প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমের জুস, আচার, চাটনি, জ্যাম, জেলি, ফ্রুট বার ও শুকনো আমসহ বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্যও স্থান পায়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ নানা ধরনের ডেজার্ট। এছাড়া বাংলাদেশে আমচাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, এই আয়োজন শুধু দেশের কৃষি সাফল্য তুলে ধরার উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং কৃষিভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নেপালের ভোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের আমের স্বাদ, গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের উচ্চ প্রশংসা করেন। শেষে তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। সমাপনীতে বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারণে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং আশা প্রকাশ করে, ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’র মতো উদ্যোগ বাংলাদেশ-নেপাল বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কাঠমান্ডুতে ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ উৎসব

বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরল দূতাবাস

আপডেট সময় : ০৫:৫৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের সুস্বাদু আম ও আমজাত পণ্যের বৈচিত্র্য, গুণগত মান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর রপ্তানি সম্ভাবনা তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’ শীর্ষক এক বিশেষ আম উৎসবের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস-সংলগ্ন উৎসব কুঞ্জ ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন অতিথি অংশ নেন।

উৎসবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, নেপাল সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ফল আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি, চেম্বার নেতৃবৃন্দ, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার। নেপালের পররাষ্ট্র সচিবের পক্ষে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের যুগ্মসচিব গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে আম শুধু একটি ফল নয়; এটি আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, কৃষি ও জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

তিনি জানান, দেশের উর্বর পলিমাটি ও অনুকূল জলবায়ুর কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম উৎকৃষ্ট আম উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে। খিরসাপাত (হিমসাগর), হারিভাঙ্গা, ল্যাংড়া, ফজলি, গোপালভোগ, আম্রপালি, আশ্বিনা, বানানা ম্যাঙ্গো, কাটিমন, গৌরমতি এবং বিভিন্ন বারি জাতের আমের অনন্য স্বাদ, সুবাস, পুষ্টিগুণ ও গুণগত মান বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকেরা দেরিতে ফলনশীল নতুন বারি জাতের আম উদ্ভাবন এবং বিদেশি জাতের সফল অভিযোজনের মাধ্যমে আম গবেষণায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে দেশের বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আমের জুস, নেকটার, পাল্প, জ্যাম, আচার, চাটনি, শুকনো আম, ক্যান্ডি, ফ্রুট বার ও বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বৈদেশিক বাজারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সার্ক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আমের ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এ অঞ্চলের আম ও আমজাত পণ্যের রপ্তানি এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। তিনি এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসকে অভিনন্দন জানান এবং কৃষি ও কৃষিপণ্যের বাণিজ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি গহেন্দ্র রাজভাণ্ডারী বলেন, এ আয়োজন শুধু বাংলাদেশের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তার পরিচায়ক নয়, বরং বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের ‘ম্যাঙ্গো ডিপ্লোমেসি’ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উৎসবে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতের তাজা আমের পাশাপাশি আমভিত্তিক নানা প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্রদর্শন করা হয়। দর্শনার্থীরা বাংলাদেশের আমের স্বাদ, বৈচিত্র্য ও রন্ধনশৈলীর সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি আধুনিক উদ্যানতত্ত্ব, টেকসই কৃষি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্রও প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সফল আমচাষি রফিকুল ইসলাম গত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (জিএপি) অনুসরণ করে নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন।

প্রদর্শনীতে রাজশাহীর মৌসুম-পরবর্তী জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের আম- ফজলি, আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, গৌরমতি ও আশ্বিনা—প্রদর্শিত হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমের জুস, আচার, চাটনি, জ্যাম, জেলি, ফ্রুট বার ও শুকনো আমসহ বিভিন্ন মূল্যসংযোজিত পণ্যও স্থান পায়। অতিথিদের জন্য পরিবেশন করা হয় আমের কেক, ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, ম্যাঙ্গো পুডিংসহ নানা ধরনের ডেজার্ট। এছাড়া বাংলাদেশে আমচাষ, দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন এবং ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ বিষয়ক প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, এই আয়োজন শুধু দেশের কৃষি সাফল্য তুলে ধরার উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং কৃষিভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে নেপালের ভোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশের আম ও আমজাত পণ্যের প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকদের মধ্যে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অতিথিরা বাংলাদেশের আমের স্বাদ, গুণগত মান ও বৈচিত্র্যের উচ্চ প্রশংসা করেন। শেষে তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার। সমাপনীতে বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও সম্প্রসারণে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে এবং আশা প্রকাশ করে, ‘বাংলাদেশ ম্যাঙ্গো ডেলিকেসি’র মতো উদ্যোগ বাংলাদেশ-নেপাল বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্বকে ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় করবে।