স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় আজ ফ্রান্সের জাতীয় দিবস
- আপডেট সময় : ১১:২১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
- / 39
স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের (Liberté, Égalité, Fraternité) অমর আদর্শকে ধারণ করে আজ (১৪ জুলাই) ফ্রান্সজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে দেশটির জাতীয় দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বর্ণাঢ্য আয়োজন, সামরিক কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং মনোমুগ্ধকর আতশবাজির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
ফরাসি ভাষায় জাতীয় দিবসটি ‘লা ফেত নাসিওনাল’ (La Fête Nationale) নামে পরিচিত হলেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এটি ‘বাস্টিল ডে’ (Bastille Day) নামেই অধিক পরিচিত।
১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই প্যারিসের ঐতিহাসিক বাস্তিল দুর্গ দখলের ঘটনাকে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে সময় বাস্তিল দুর্গ ছিল রাজতান্ত্রিক শাসনের নিপীড়ন ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতীক। দুর্গটি দখলের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শে উদ্বুদ্ধ নতুন ফ্রান্স গঠনের পথ উন্মুক্ত হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বের গণতান্ত্রিক আন্দোলনেও গভীর প্রভাব ফেলে।
এর এক বছর পর, ১৭৯০ সালের ১৪ জুলাই জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে ‘ফেত দ্য লা ফেদেরাসিওঁ’ (Fête de la Fédération) উদযাপিত হয়। পরে ১৮৮০ সালে ফরাসি পার্লামেন্ট আইন পাসের মাধ্যমে ১৪ জুলাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
জাতীয় দিবস উপলক্ষে আজ রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক শঁজ-এলিজে (Champs-Élysées) সড়কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সামরিক কুচকাওয়াজ। এতে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি, সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক, সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং হাজারো দর্শক উপস্থিত রয়েছেন। কুচকাওয়াজে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিক সক্ষমতা, শৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রতি দেশের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।
এদিকে সন্ধ্যায় প্যারিসের আইফেল টাওয়ার এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে দৃষ্টিনন্দন আতশবাজির প্রদর্শনী, যা দেখতে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ সমবেত হন। একই সঙ্গে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে সংগীতানুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নৃত্য, উন্মুক্ত কনসার্ট এবং ঐতিহ্যবাহী ‘বাল দে পম্পিয়ে’ (Bal des Pompiers)-এর আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করছেন সাধারণ মানুষ।
ইতিহাসবিদদের মতে, ফরাসি বিপ্লব কেবল একটি দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস নয়; বরং এটি বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্র, মানবাধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ধারণাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সেই কারণে ১৪ জুলাই শুধু ফ্রান্সের জাতীয় দিবস নয়, বরং স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রতীক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের চেতনায় উদযাপিত ফ্রান্সের জাতীয় দিবস আজও বিশ্ববাসীকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নাগরিক মর্যাদার মৌলিক মূল্যবোধ নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।


























