সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সুনামগঞ্জে বন্যা শঙ্কা অব্যাহত
- আপডেট সময় : ০৭:০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / 64
সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্ট এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এবং সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং কুশিয়ারা নদীর মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীপয়েন্ট সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বৃষ্টিপাতের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে সর্বোচ্চ ১১৫ মিলিমিটার এবং বাংলাদেশের মধ্যে জামালপুরে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানের বৃষ্টিপাত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বর্ষণের কারণে আগামী দিনগুলোতেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন। জরুরি সেবা সচল রাখতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার চারটি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানান, সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া জেলার ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ২০০ প্যাকেট শুকনা খাবার ও জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রীও মজুত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।























