হাইকোর্টে হার মানবজমিনের; ১০ হাজার টাকা দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা
সাংবাদিক এমএ রহিমের সব পাওনা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
- / 68
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আইনগত পাওনা থেকে বঞ্চিত সাংবাদিক এমএ রহিমের পক্ষে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। দৈনিক মানবজমিন কর্তৃপক্ষকে তার সব আইনগত পাওনা ও সুবিধা ৬০ দিনের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করেছেন আদালত। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম শ্রম আদালত এবং শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় বহাল রেখে মানবজমিন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২০ মে এ রায় ও আদেশ দেন।
রায়ে আদালত বলেন, চট্টগ্রাম শ্রম আদালত এমএ রহিমের শ্রম বিরোধ সংক্রান্ত মামলা যথাযথ এখতিয়ারেই গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করেছেন। এ বিষয়ে রিট আবেদনকারীর আঞ্চলিক এখতিয়ার সংক্রান্ত আপত্তি ভ্রান্ত ও ভিত্তিহীন। ফলে শ্রম আদালতের রায় এবং শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের অনুমোদিত সিদ্ধান্ত আইনসম্মত হওয়ায় রুল খারিজ করা হয়।
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণে বলেন, সাংবাদিক এমএ রহিম বিগত ১৬ বছর ধরে তার বেতন ও অন্যান্য প্রাপ্য আদায়ের জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ কারণে তিনি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অন্যান্য আইনগত সুবিধার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা পাওয়ার অধিকারী। আদালত আরও নির্দেশ দেন, কোনো ধরনের সময়ক্ষেপণ না করে ৬০ দিনের মধ্যে তার সব বকেয়া ও আইনগত পাওনা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পাওনা আদায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের স্বাধীনতা থাকবে তার।
মামলার নথি অনুযায়ী, এমএ রহিম ১৯৯৮ সালের ১ নভেম্বর দৈনিক মানবজমিন-এর সিলেট ব্যুরো চিফ হিসেবে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘদিন সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তার দাবি, সংবাদকর্মীদের জন্য ঘোষিত ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আইনগত সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি এবং বৈধ ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কারণে কর্তৃপক্ষ তার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৮ নভেম্বর অসুস্থ অবস্থায় তাকে মৌখিকভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়। পরবর্তীতে একাধিকবার কর্মস্থলে যোগদানের আবেদন করেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে তিনি ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রামের দ্বিতীয় শ্রম আদালতে আইআর মামলা নং-৩৫/২০১০ দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর দ্বিতীয় শ্রম আদালত এমএ রহিমের পক্ষে রায় দেন। রায়ে সর্বশেষ ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ী তার প্রাপ্য বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ এবং তাকে সিলেট ব্যুরো চিফ পদে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে মানবজমিন কর্তৃপক্ষ শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করলে ২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আপিল খারিজ করে শ্রম আদালতের রায় বহাল রাখেন। এরপর মানবজমিন কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট পিটিশন নং-২৮৬৬/২০১৮ দায়ের করলেও শুনানি শেষে হাইকোর্টও রিট খারিজ করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।
দীর্ঘ প্রায় দেড় দশকের আইনি লড়াই শেষে এ রায়ের মাধ্যমে এমএ রহিমের ন্যায্য পাওনা পরিশোধের পথ সুগম হলো। শ্রম আইন, ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন এবং সংবাদকর্মীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে এ রায়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
























