০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য, প্রতিটি নবজাতকের স্মরণে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান

আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / 71
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেশবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে কেবল সরকারি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন কেবল একটি বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারে নতুন সন্তান জন্ম নিলে তার স্মরণে একটি করে গাছ রোপণ করা যেতে পারে। এতে যেমন শিশুর জন্ম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশও ধীরে ধীরে সবুজে আচ্ছাদিত হবে। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি প্রাণের জন্ম উদযাপনের সঙ্গে যদি একটি করে গাছ যুক্ত হয়, তাহলে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠবে এবং এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন সফল হবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, শুধু সংখ্যার লক্ষ্য পূরণ করলেই হবে না। কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে এবং কোন জলবায়ুতে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রজাতির গাছ পরিহার করে দেশীয় ঔষধি, ফলদ, বনজ, বাঁশজাতীয়, অর্কিড এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়; রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ুর মধ্যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সুস্থ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নদী রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পানি নিরাপত্তা- কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্কুলে একযোগে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’, ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’, ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএসভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদীতীর সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজম বিকাশেও সরকার কাজ করছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ বা ‘থ্রি আর’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে নাগরিকদের সচেতনতার বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান এবং পরিবার ও সমাজে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী ও জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়ের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। পাশাপাশি বনায়নের অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ছিল- ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য, প্রতিটি নবজাতকের স্মরণে একটি গাছ লাগানোর আহ্বান

আসুন ‘সবুজ বসতি’ গড়ে তুলি : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৫২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন, জলবায়ু-সহনশীল ও টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে দেশবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে কেবল সরকারি কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের নিত্যদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। সবাই মিলে কাজ করলেই একটি সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ বসতি গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত বিশ্ব পরিবেশ দিবস, পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ মেলা কিংবা বৃক্ষমেলার আয়োজন কেবল একটি বাৎসরিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সবুজায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবারে নতুন সন্তান জন্ম নিলে তার স্মরণে একটি করে গাছ রোপণ করা যেতে পারে। এতে যেমন শিশুর জন্ম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশও ধীরে ধীরে সবুজে আচ্ছাদিত হবে। তাঁর ভাষায়, প্রতিটি প্রাণের জন্ম উদযাপনের সঙ্গে যদি একটি করে গাছ যুক্ত হয়, তাহলে নবজাতকের পাশাপাশি একটি গাছও বেড়ে উঠবে এবং এভাবেই সবুজায়নের সামাজিক আন্দোলন সফল হবে।

সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে নতুন করে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বলেন, শুধু সংখ্যার লক্ষ্য পূরণ করলেই হবে না। কোন পরিবেশে, কোন মাটিতে এবং কোন জলবায়ুতে কোন প্রজাতির গাছ উপযোগী, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ধারণা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্রজাতির গাছ পরিহার করে দেশীয় ঔষধি, ফলদ, বনজ, বাঁশজাতীয়, অর্কিড এবং বিপন্ন প্রজাতির গাছ রোপণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়; রোপণের পর সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের অংশ হয়ে থাকা পুরোনো ‘মাদার ট্রি’ সংরক্ষণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বন বিভাগের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, গাছপালা, প্রাণী, মাটি, পানি ও বায়ুর মধ্যে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে একটি সুস্থ ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নদী রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী বাঁচাতে না পারলে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পানি নিরাপত্তা- কোনোটিই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাই উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।

পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি একটি কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন স্কুলে একযোগে প্রায় ৯০ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট ইউথ ফেলোশিপ’, ‘এনভায়রনমেন্ট স্টার্টআপ ফান্ড’, ছাদবাগান, নগর বনায়ন, জিআইএসভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, নদীতীর সবুজায়ন এবং ইকোট্যুরিজম বিকাশেও সরকার কাজ করছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং ‘রিডিউস, রি-ইউজ, রিসাইকেল’ বা ‘থ্রি আর’ নীতি বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এসব উদ্যোগ সফল করতে নাগরিকদের সচেতনতার বিকল্প নেই। তিনি সবাইকে যেখানে-সেখানে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান এবং পরিবার ও সমাজে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ উদ্যোগ কৃষিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, নদী ও জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়ের কারণে দেশের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করেন। পাশাপাশি বনায়নের অংশীজনদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ছিল- ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খানমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।