০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

ফুলে-ফলে ভরা শিমের ক্ষেতে নতুন মৌসুমে কৃষকদের স্বপ্ন আরও পোক্ত

বড়লেখায় শিমচাষে ব্যয়বৃদ্ধির চাপ, তবু আশাবাদী কৃষকেরা

আফজাল হোসেন রুমেল :
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 303
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাঠজুড়ে এখন যেন রঙের উৎসব। শীতের আগমনী হাওয়ায় আগাম শিমের গাছে লাল-হলুদ ফুলের দোলা, ভোরের আলোয় শিমচাষের মাঠে কৃষকের ব্যস্ত পদচারণা-সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। শিশিরমাখা পাতায় ঝিলমিল সূর্যের আলো, সেচের পানিতে ভেজা জমি আর নিড়ানির মৃদু শব্দ যেন জানান দিচ্ছে-নতুন মৌসুমে নতুন সম্ভাবনা।

মাঠে হাঁটলে চোখে পড়ে-কেউ সার দিচ্ছেন, কেউ কীটনাশক স্প্রে করছেন, কেউবা নিবিড়ভাবে শস্যের রোগ-বালাই পরীক্ষা করছেন। প্রতিটি কৃষকের চেহারায় আশাবাদের রেখা স্পষ্ট। ব্যয়বৃদ্ধির বাস্তবতা থাকলেও তারা থেমে নেই, বরং আরও দৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় আছেন।

রঙিন শিমফুলে করছে ঝলমল, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল, ষাটমাকন্ঠ।
রঙিন শিমফুলে করছে ঝলমল, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল, ষাটমাকন্ঠ।

শিমচাষি সারজান আহমদ বলেন, “গাছে এত ফুল আর শিম যে মনটাই ভরে যায়। আগাম শিম হওয়ায় দামও ভালো পাব বলে আশারাখি। সরকারি নির্ধারিত দামে সার-কীটনাশক মিলছে বলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে। আল্লাহ চাইলে এবার লাভও হবে।”

পূর্ব সিলেটের চিকনাগুল বাজারে জমজমাট কৃষিপণ্যের হাট

বড়লেখার নিজ বাহাদুরপুর, দক্ষিণ শাহাবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ, বর্ণি ও তালিমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার ব্যাপক শিমচাষ হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গাছের বৃদ্ধি, ফুলের পরিমাণ ও শিম ধরার হার চোখে পড়ার মতো বেশি। কৃষকেরা বলছেন, নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ এবং সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগের ফলেই ফলন বেড়েছে।

শিম এখন শুধু খাদ্যশস্য নয়-এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় ভরসা। স্থানীয় বাজারে আগাম শিমের চাহিদা দারুণ, পাশাপাশি বড়লেখার শিম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও। অনেক পরিবার পুরোপুরি শিমচাষনির্ভর হয়ে উঠেছে।

তবে সাফল্যের সঙ্গে এসেছে চ্যালেঞ্জও। শ্রমিকের মজুরি কিছুটা বেড়েছে, তবে সরকারি নিয়ন্ত্রিত দামে সার ও কীটনাশক পাওয়ায় মোট ব্যয় আগের বছরের তুলনায় তেমন বাড়েনি। কৃষকেরা মনে করছেন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত থাকলে শিমচাষ আরও লাভজনক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।

রঙিন শিমের ক্ষেত আজ বড়লেখায় শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয় বরং এটি মানুষের স্বপ্ন, কঠোর পরিশ্রম ও টিকে থাকার সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি শিমগাছ যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে নতুন মৌসুমের নতুন প্রত্যাশার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হুসেন জানান,
“এ বছর বড়লেখায় প্রায় ২৬৭ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে দক্ষিণ শাহাবাজপুরে। কৃষকদের উৎসাহ দিতে পাঁচজনকে প্রদর্শনী আকারে সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যে কোনো কৃষক পরামর্শ চাইলে আমরা তাৎক্ষণিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।”

বড়লেখার এই রঙিন শিম-একদিকে কৃষকের ঘামে গড়া সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে ব্যয়বৃদ্ধির বাস্তবতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলে-ফলে ভরা শিমের ক্ষেতে নতুন মৌসুমে কৃষকদের স্বপ্ন আরও পোক্ত

বড়লেখায় শিমচাষে ব্যয়বৃদ্ধির চাপ, তবু আশাবাদী কৃষকেরা

আপডেট সময় : ০৩:১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মাঠজুড়ে এখন যেন রঙের উৎসব। শীতের আগমনী হাওয়ায় আগাম শিমের গাছে লাল-হলুদ ফুলের দোলা, ভোরের আলোয় শিমচাষের মাঠে কৃষকের ব্যস্ত পদচারণা-সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে এক অন্যরকম প্রাণচাঞ্চল্য। শিশিরমাখা পাতায় ঝিলমিল সূর্যের আলো, সেচের পানিতে ভেজা জমি আর নিড়ানির মৃদু শব্দ যেন জানান দিচ্ছে-নতুন মৌসুমে নতুন সম্ভাবনা।

মাঠে হাঁটলে চোখে পড়ে-কেউ সার দিচ্ছেন, কেউ কীটনাশক স্প্রে করছেন, কেউবা নিবিড়ভাবে শস্যের রোগ-বালাই পরীক্ষা করছেন। প্রতিটি কৃষকের চেহারায় আশাবাদের রেখা স্পষ্ট। ব্যয়বৃদ্ধির বাস্তবতা থাকলেও তারা থেমে নেই, বরং আরও দৃঢ় মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টায় আছেন।

রঙিন শিমফুলে করছে ঝলমল, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল, ষাটমাকন্ঠ।
রঙিন শিমফুলে করছে ঝলমল, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল, ষাটমাকন্ঠ।

শিমচাষি সারজান আহমদ বলেন, “গাছে এত ফুল আর শিম যে মনটাই ভরে যায়। আগাম শিম হওয়ায় দামও ভালো পাব বলে আশারাখি। সরকারি নির্ধারিত দামে সার-কীটনাশক মিলছে বলে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে। আল্লাহ চাইলে এবার লাভও হবে।”

পূর্ব সিলেটের চিকনাগুল বাজারে জমজমাট কৃষিপণ্যের হাট

বড়লেখার নিজ বাহাদুরপুর, দক্ষিণ শাহাবাজপুর, দক্ষিণভাগ দক্ষিণ, বর্ণি ও তালিমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকায় এবার ব্যাপক শিমচাষ হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গাছের বৃদ্ধি, ফুলের পরিমাণ ও শিম ধরার হার চোখে পড়ার মতো বেশি। কৃষকেরা বলছেন, নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ এবং সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগের ফলেই ফলন বেড়েছে।

শিম এখন শুধু খাদ্যশস্য নয়-এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় ভরসা। স্থানীয় বাজারে আগাম শিমের চাহিদা দারুণ, পাশাপাশি বড়লেখার শিম যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও। অনেক পরিবার পুরোপুরি শিমচাষনির্ভর হয়ে উঠেছে।

তবে সাফল্যের সঙ্গে এসেছে চ্যালেঞ্জও। শ্রমিকের মজুরি কিছুটা বেড়েছে, তবে সরকারি নিয়ন্ত্রিত দামে সার ও কীটনাশক পাওয়ায় মোট ব্যয় আগের বছরের তুলনায় তেমন বাড়েনি। কৃষকেরা মনে করছেন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত থাকলে শিমচাষ আরও লাভজনক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্ত ভিত্তি পাবে।

রঙিন শিমের ক্ষেত আজ বড়লেখায় শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয় বরং এটি মানুষের স্বপ্ন, কঠোর পরিশ্রম ও টিকে থাকার সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি শিমগাছ যেন সাক্ষ্য দিচ্ছে নতুন মৌসুমের নতুন প্রত্যাশার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হুসেন জানান,
“এ বছর বড়লেখায় প্রায় ২৬৭ হেক্টর জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে দক্ষিণ শাহাবাজপুরে। কৃষকদের উৎসাহ দিতে পাঁচজনকে প্রদর্শনী আকারে সহায়তাও দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে যে কোনো কৃষক পরামর্শ চাইলে আমরা তাৎক্ষণিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি।”

বড়লেখার এই রঙিন শিম-একদিকে কৃষকের ঘামে গড়া সাফল্যের গল্প, অন্যদিকে ব্যয়বৃদ্ধির বাস্তবতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর