০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি এমবাপ্পে ও হালান্ড Logo মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন ফুটবলারের স্ত্রী Logo বিশ্বকাপের মঞ্চেই বিদায় বললেন গিলের্মো ওচোয়া, শেষ হলো মেক্সিকোর এক স্বর্ণালী অধ্যায় Logo রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের কাছে বিদায় নেবে ব্রাজিল Logo বড়লেখায় কাদামাটিতে পিচ্ছিল সড়ক, জনস্বার্থে নিসচা’র উদ্যোগে সংস্কার কার্যক্রম Logo জাপান-সুইডেন ড্র, নকআউটে উঠল দুই দলই Logo ভিনির বাতিল গোল নিয়ে রেফারিকে যা বললেন ব্রাজিল কোচ Logo জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল ইকুয়েডর Logo শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি Logo আজ কুলাউড়ায় আসছেন এনসিপির নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 323
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রাম বা সংক্ষেপে ভি-ডব্লিউ-পি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। ২০২৫ সালে প্রোগ্রামে এসেছে কয়েকটি নতুন পরিবর্তন-একদিকে নতুন দেশ যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নিয়মও আরও কঠোর হয়েছে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে একদিকে ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক, আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর।

এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে আরও সহজ করে তোলা। ব্যবসা, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া গেলেও সফরকারীদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হয়, যেমন-সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে, এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য হতে হবে ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিট। কাজ করা, পড়াশোনা বা স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

২০২৫ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কাতার-এর যুক্ত হওয়া। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হলো। এটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় এক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশ রুমানিয়া’কে শুরুতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পরবর্তীতে সেই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকরা এই সুবিধা পাননি। ২০২৫ সালের হিসাবে মোট ৪২টি দেশ এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউরোপের দেশসমূহ (৩২টি): আন্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাতভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (৭টি): অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান।

মধ্যপ্রাচ্য (১টি): কাতার। দক্ষিণ আমেরিকা (১টি): চিলি।

ভ্রমণের আগে অবশ্যই ইলেকট্রনিক অনুমোদন নিতে হবে, যা অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে। ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিটের বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার জন্য দেশগুলিকে কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন- ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার খুব কম হতে হবে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, আধুনিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতে হবে, ই-পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে হবে। এইসব মানদণ্ড নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দেশ ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামের অংশ হতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ

আপডেট সময় : ০৭:২১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রাম বা সংক্ষেপে ভি-ডব্লিউ-পি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। ২০২৫ সালে প্রোগ্রামে এসেছে কয়েকটি নতুন পরিবর্তন-একদিকে নতুন দেশ যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নিয়মও আরও কঠোর হয়েছে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে একদিকে ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক, আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর।

এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে আরও সহজ করে তোলা। ব্যবসা, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া গেলেও সফরকারীদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হয়, যেমন-সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে, এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য হতে হবে ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিট। কাজ করা, পড়াশোনা বা স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

২০২৫ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কাতার-এর যুক্ত হওয়া। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হলো। এটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় এক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশ রুমানিয়া’কে শুরুতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পরবর্তীতে সেই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকরা এই সুবিধা পাননি। ২০২৫ সালের হিসাবে মোট ৪২টি দেশ এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউরোপের দেশসমূহ (৩২টি): আন্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাতভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (৭টি): অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান।

মধ্যপ্রাচ্য (১টি): কাতার। দক্ষিণ আমেরিকা (১টি): চিলি।

ভ্রমণের আগে অবশ্যই ইলেকট্রনিক অনুমোদন নিতে হবে, যা অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে। ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিটের বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার জন্য দেশগুলিকে কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন- ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার খুব কম হতে হবে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, আধুনিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতে হবে, ই-পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে হবে। এইসব মানদণ্ড নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দেশ ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামের অংশ হতে পারে না।