১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ

অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 405
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রাম বা সংক্ষেপে ভি-ডব্লিউ-পি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। ২০২৫ সালে প্রোগ্রামে এসেছে কয়েকটি নতুন পরিবর্তন-একদিকে নতুন দেশ যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নিয়মও আরও কঠোর হয়েছে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে একদিকে ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক, আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর।

এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে আরও সহজ করে তোলা। ব্যবসা, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া গেলেও সফরকারীদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হয়, যেমন-সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে, এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য হতে হবে ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিট। কাজ করা, পড়াশোনা বা স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

২০২৫ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কাতার-এর যুক্ত হওয়া। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হলো। এটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় এক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশ রুমানিয়া’কে শুরুতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পরবর্তীতে সেই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকরা এই সুবিধা পাননি। ২০২৫ সালের হিসাবে মোট ৪২টি দেশ এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউরোপের দেশসমূহ (৩২টি): আন্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাতভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (৭টি): অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান।

মধ্যপ্রাচ্য (১টি): কাতার। দক্ষিণ আমেরিকা (১টি): চিলি।

ভ্রমণের আগে অবশ্যই ইলেকট্রনিক অনুমোদন নিতে হবে, যা অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে। ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিটের বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার জন্য দেশগুলিকে কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন- ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার খুব কম হতে হবে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, আধুনিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতে হবে, ই-পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে হবে। এইসব মানদণ্ড নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দেশ ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামের অংশ হতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভিসা ছাড়াই যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করার সুযোগ

আপডেট সময় : ০৭:২১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রাম বা সংক্ষেপে ভি-ডব্লিউ-পি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পান। ২০২৫ সালে প্রোগ্রামে এসেছে কয়েকটি নতুন পরিবর্তন-একদিকে নতুন দেশ যুক্ত হয়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু নিয়মও আরও কঠোর হয়েছে। ফলে এটি হয়ে উঠেছে একদিকে ভ্রমণকারীদের জন্য সুবিধাজনক, আবার অন্যদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় কার্যকর।

এই প্রোগ্রামের মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণকে আরও সহজ করে তোলা। ব্যবসা, পর্যটন বা স্বল্পমেয়াদি সফরের ক্ষেত্রে এটি বিশেষভাবে কার্যকর। ভিসা ছাড়াই ভ্রমণের সুযোগ পাওয়া গেলেও সফরকারীদের অবশ্যই কিছু নিয়ম মানতে হয়, যেমন-সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে, এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য হতে হবে ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিট। কাজ করা, পড়াশোনা বা স্থায়ীভাবে বসবাস করার জন্য এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।

২০২৫ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কাতার-এর যুক্ত হওয়া। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে একটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত হলো। এটি কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় এক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইউরোপের দেশ রুমানিয়া’কে শুরুতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে পরবর্তীতে সেই সুযোগ প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত দেশটির নাগরিকরা এই সুবিধা পাননি। ২০২৫ সালের হিসাবে মোট ৪২টি দেশ এই প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইউরোপের দেশসমূহ (৩২টি): আন্ডোরা, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাতভিয়া, লিচেনস্টাইন, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মোনাকো, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, সান মারিনো, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (৭টি): অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, জাপান, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান।

মধ্যপ্রাচ্য (১টি): কাতার। দক্ষিণ আমেরিকা (১টি): চিলি।

ভ্রমণের আগে অবশ্যই ইলেকট্রনিক অনুমোদন নিতে হবে, যা অনলাইনের মাধ্যমে করা হয়। বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক। সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করা যাবে। ব্যবসা, পর্যটন বা ট্রানজিটের বাইরে অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ সুবিধা ব্যবহার করা যাবে না।

এই প্রোগ্রামে যুক্ত হওয়ার জন্য দেশগুলিকে কিছু কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন- ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার খুব কম হতে হবে, সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, আধুনিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতে হবে, ই-পাসপোর্ট ও বায়োমেট্রিক তথ্যের ব্যবহার বাধ্যতামূলক হতে হবে। এইসব মানদণ্ড নিশ্চিত করতে না পারলে কোনো দেশ ভিসা ওয়াইভার প্রোগ্রামের অংশ হতে পারে না।