১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মইনুল ইসলাম Logo পাহাড় ও সমতলে উন্নয়ন করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, থাকবেনা কোনো বৈষম্য- মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান Logo এনসিপির জুড়ী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন Logo কুলাউড়ায় এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ঈদ উপহার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধুম্রজাল তৈরী করার অপচেষ্টা Logo কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ঈদের নামাজ বাদ দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২৮ Logo বড়লেখায় গভীর রাতে সড়কে নিসচা, লক্ষ্য একটাই মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা Logo ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo কুলাউড়া পৌরবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জয়নাল আবেদীন বাচ্চু Logo ঈদুল আজহা’র শুভেচ্ছা জানালেন ষাটমাকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক Logo শেষ মূহুর্তে জমে ওঠেছে পশুর হাট; কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শিক্ষক বদলীর দাবি তুললেন অভিভাবকরা

কুলাউড়ার মোবারকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / 255
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী অভিভাবক মোঃ রুনেল আহমদ, মাসুক মিয়া, মুহিদ আহমদ, সাহেদা আক্তার, পলি বেগম। যার অনুলিপি দেয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষক রয়েছেন ৭জন। বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও অবকাঠামো সমস্যাসহ কয়েকজন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো হলো, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসা-যাওয়া করেন না। বর্তমানে চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষক ও তাদের পছন্দের অভিভাবকরা পরীক্ষা চলাকালীন সময় ক্লাসে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। সচেতন অভিভাবকরা বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমলে না নিয়ে দূর্ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের আশে-পাশে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করাতে বাধ্য করেন। ক্লাস চলাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষক মোবাইল ফোনালাপ করে থাকেন এবং ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই বাইরে চলে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজির উদ্দিন ও রেহানা আক্তার শিক্ষার্থীর সাথে ক্লাসে অশালীন আচরণ ও অভিভাবকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগী অভিভাবক রুনেল আহমদ ও মাসুক মিয়া বলেন, স্কুলে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। সময়মত অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। বেশিরভাগ সময় সাড়ে দশটা থেকে এগোরটার পর আসেন। শিক্ষকরা স্থানীয় এলাকার হওয়ায় তারা নিজেদের খুশিমত বিদ্যালয়ে আসেন ও যান। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের স্বার্থে তাদের অন্যত্র বদলী করার দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক পলি বেগমসহ আরো কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অফিসে বসে খোশগল্পে ও আড্ডায় মেতে উঠেন। সময়মত স্কুলে আসেন না। তাদের নিয়মমাফিক আসা-যাওয়া করেন। এতে প্রকৃত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়লা বেগম, মুজির উদ্দিন, রেহানা বেগমসহ কিছু অভিভাবক। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক সাহেদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা খুবই দুর্বল। তাদের সঠিকভাবে পড়াশোনা করানো হচ্ছে না। ক্লাস না করিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিয়ে দেয় বাড়ি থেকে উত্তর লিখে আনার জন্য। পরীক্ষার সময় কতিপয় শিক্ষকসহ অনেক অভিভাবকরা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। এ নিয়ে সচেতন অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের ক্লাসে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রজেস কান্তি দেবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ষাটমা/এমরান/মহি

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিক্ষক বদলীর দাবি তুললেন অভিভাবকরা

কুলাউড়ার মোবারকপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আপডেট সময় : ০৫:২৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে অবস্থিত মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী অভিভাবক মোঃ রুনেল আহমদ, মাসুক মিয়া, মুহিদ আহমদ, সাহেদা আক্তার, পলি বেগম। যার অনুলিপি দেয়া হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে।

অভিযোগসূত্রে জানা যায়, মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষক রয়েছেন ৭জন। বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ও অবকাঠামো সমস্যাসহ কয়েকজন শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলো হলো, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক সময়মতো স্কুলে আসা-যাওয়া করেন না। বর্তমানে চলমান দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় অনেক শিক্ষক ও তাদের পছন্দের অভিভাবকরা পরীক্ষা চলাকালীন সময় ক্লাসে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। সচেতন অভিভাবকরা বিষয়গুলো নিয়ে প্রতিবাদ করলে আমলে না নিয়ে দূর্ব্যবহার করা হয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন সময় প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের আশে-পাশে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ করাতে বাধ্য করেন। ক্লাস চলাকালীন সময়ে কিছু শিক্ষক মোবাইল ফোনালাপ করে থাকেন এবং ব্যক্তিগত কাজে প্রায়ই বাইরে চলে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজির উদ্দিন ও রেহানা আক্তার শিক্ষার্থীর সাথে ক্লাসে অশালীন আচরণ ও অভিভাবকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেন।

ভুক্তভোগী অভিভাবক রুনেল আহমদ ও মাসুক মিয়া বলেন, স্কুলে অনেক অনিয়ম হচ্ছে। এসব দেখার কেউ নেই। সময়মত অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেন না। বেশিরভাগ সময় সাড়ে দশটা থেকে এগোরটার পর আসেন। শিক্ষকরা স্থানীয় এলাকার হওয়ায় তারা নিজেদের খুশিমত বিদ্যালয়ে আসেন ও যান। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উন্নত পাঠদানের স্বার্থে তাদের অন্যত্র বদলী করার দাবি জানাচ্ছি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক পলি বেগমসহ আরো কয়েকজন বলেন, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে অফিসে বসে খোশগল্পে ও আড্ডায় মেতে উঠেন। সময়মত স্কুলে আসেন না। তাদের নিয়মমাফিক আসা-যাওয়া করেন। এতে প্রকৃত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের উত্তর বলে দেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক লায়লা বেগম, মুজির উদ্দিন, রেহানা বেগমসহ কিছু অভিভাবক। এসব বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দিলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি।

ভুক্তভোগী অভিভাবক সাহেদা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীরা খুবই দুর্বল। তাদের সঠিকভাবে পড়াশোনা করানো হচ্ছে না। ক্লাস না করিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন দিয়ে দেয় বাড়ি থেকে উত্তর লিখে আনার জন্য। পরীক্ষার সময় কতিপয় শিক্ষকসহ অনেক অভিভাবকরা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে এবং জানালা দিয়ে প্রশ্নের উত্তর বলে দেন। এ নিয়ে সচেতন অভিভাবকরা প্রতিবাদ করলে তাদের সন্তানদের ক্লাসে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রজেস কান্তি দেবের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ষাটমা/এমরান/মহি