১১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখায় ছাত্রশিবিরের দোয়া মাহফিল Logo বড়লেখায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা Logo সুর-নৃত্য-নাট্যে মণিপুরি থিয়েটারের বর্ণিল বিষু উৎসবের সমাপ্তি Logo দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে জুড়ীতে চ্যাম্পিয়ন মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় Logo বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, আর দেশে বাড়ছে, খুবই দুঃখজনক: জামায়াত আমির Logo জ্বালানি তেলের জন্য সড়কেই রাত কাটাতে বাধ্য হয় বাইকাররা Logo চা বাগানের ৪ হাজার ৬শ’ ৬৮ জন অসচ্ছল শ্রমিক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভাতা Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানান শওকতুল ইসলাম এমপি Logo জুড়ীতে ৩৭০০ কৃষকের হাতে পৌঁছাল সার ও বীজ

স্বাস্থ্যে ৩২ শতাংশ পদ খালি, বেশি সিলেটে, কম ময়মনসিংহে

শিশির মোড়ল
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫
  • / 185
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্বাস্থ্য খাত ব্যাপক জনবলসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে ৩২ শতাংশ পদ খালি। খালি পদের মোট সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৭৭। খালি পদের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে ৪০ শতাংশ পদে কোনো মানুষ নেই।

স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদের এই তথ্য প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য জনবল কৌশলপত্র ২০২৪’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই কৌশলপত্র তৈরি করেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এই কৌশলপত্র প্রকাশ করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যন্ত মোট ৩৩ শ্রেণির পদ আছে। এসব শ্রেণিতে মোট পদের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৪ পদে জনবল আছে। পদ খালি আছে ৭৭ হাজার ৮৭৭টি। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদ ৩২ শতাংশ।

আট বিভাগের মধ্যে শূন্য পদের হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে পদ আছে ১৫ হাজার ৯৭৬টি। এর মধ্যে শূন্য পদ ৪ হাজার ২২৬টি। শূন্য পদ ২৬ শতাংশ। শূন্য পদের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে পদ আছে ১৪ হাজার ৫৩৬টি, এর মধ্যে ৫ হাজার ৮২৭ পদে কোনো জনবল নেই। অর্থাৎ শূন্য পদ ৪০ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শ্রেণিতে শূন্য পদের হার বেশি। এটি ৬২ শতাংশ। চিকিৎসকদের পদ খালি ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ৪০ শতাংশ পদে লোক নেই।

শূন্য পদের কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় সেবা গ্রহণকারীকে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষ বা রোগীকে। অন্যদিকে কাজের চাপ পড়ে অন্যদের ওপর অর্থাৎ যাঁরা কাজ করছেন। কৌশলপত্র বলছে, চিকিৎসকদের মধ্যে বাড়তি চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে মেডিসিন, শিশুস্বাস্থ্য, অবেদনবিদ, স্ত্রীরোগ ও শল্যচিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ওপর। নার্সদেরও প্রবল চাপে থাকতে হয়, নার্সিং সেবার বাইরে তাঁদের অন্য কাজও করতে হয়।

কৌশলপত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বর্ধন জং রানার বার্তা ছাপা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ মিলে মোট ৪৯ জন স্বাস্থ্যকর্মীর একটি দল প্রয়োজন। এটিই বৈশ্বিক মানদণ্ড। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য আছে ১৩ জন চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ।

বর্ধন জং রানা আরও বলেছেন, জনবল যা আছে, তার বণ্টন ঠিকভাবে হচ্ছে না, বিভিন্ন শ্রেণির জনবলকে একসঙ্গে কাজ করানোর ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা আছে, পেশার ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির সুযোগ সীমিত, অনেকের কাজের চাপ বেশি। এগুলো স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্যে ৩২ শতাংশ পদ খালি, বেশি সিলেটে, কম ময়মনসিংহে

আপডেট সময় : ০৮:১৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৫

স্বাস্থ্য খাত ব্যাপক জনবলসংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে ৩২ শতাংশ পদ খালি। খালি পদের মোট সংখ্যা ৭৭ হাজার ৮৭৭। খালি পদের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে ৪০ শতাংশ পদে কোনো মানুষ নেই।

স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদের এই তথ্য প্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য জনবল কৌশলপত্র ২০২৪’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই কৌশলপত্র তৈরি করেছে। সম্প্রতি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এই কৌশলপত্র প্রকাশ করা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যন্ত মোট ৩৩ শ্রেণির পদ আছে। এসব শ্রেণিতে মোট পদের সংখ্যা ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৮৩৪ পদে জনবল আছে। পদ খালি আছে ৭৭ হাজার ৮৭৭টি। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে শূন্য পদ ৩২ শতাংশ।

আট বিভাগের মধ্যে শূন্য পদের হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে। এই বিভাগে পদ আছে ১৫ হাজার ৯৭৬টি। এর মধ্যে শূন্য পদ ৪ হাজার ২২৬টি। শূন্য পদ ২৬ শতাংশ। শূন্য পদের হার সবচেয়ে বেশি সিলেট বিভাগে। এই বিভাগে পদ আছে ১৪ হাজার ৫৩৬টি, এর মধ্যে ৫ হাজার ৮২৭ পদে কোনো জনবল নেই। অর্থাৎ শূন্য পদ ৪০ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শ্রেণিতে শূন্য পদের হার বেশি। এটি ৬২ শতাংশ। চিকিৎসকদের পদ খালি ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ৪০ শতাংশ পদে লোক নেই।

শূন্য পদের কারণে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়তে হয় সেবা গ্রহণকারীকে, অর্থাৎ সাধারণ মানুষ বা রোগীকে। অন্যদিকে কাজের চাপ পড়ে অন্যদের ওপর অর্থাৎ যাঁরা কাজ করছেন। কৌশলপত্র বলছে, চিকিৎসকদের মধ্যে বাড়তি চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে মেডিসিন, শিশুস্বাস্থ্য, অবেদনবিদ, স্ত্রীরোগ ও শল্যচিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ওপর। নার্সদেরও প্রবল চাপে থাকতে হয়, নার্সিং সেবার বাইরে তাঁদের অন্য কাজও করতে হয়।

কৌশলপত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি বর্ধন জং রানার বার্তা ছাপা হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ মিলে মোট ৪৯ জন স্বাস্থ্যকর্মীর একটি দল প্রয়োজন। এটিই বৈশ্বিক মানদণ্ড। কিন্তু বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য আছে ১৩ জন চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ।

বর্ধন জং রানা আরও বলেছেন, জনবল যা আছে, তার বণ্টন ঠিকভাবে হচ্ছে না, বিভিন্ন শ্রেণির জনবলকে একসঙ্গে কাজ করানোর ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা আছে, পেশার ক্ষেত্রে উন্নতি ও অগ্রগতির সুযোগ সীমিত, অনেকের কাজের চাপ বেশি। এগুলো স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ।