০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 21
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, খ্যাতিমান আলেম ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে দুই দিন তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা শাখার সাবেক আমীর এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। তিনি সিলেট অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সংগঠন গঠন এবং আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আশির দশকে তাঁর নেতৃত্বে সিলেট নগরের মিরাবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। পরবর্তীতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার লক্ষ্যে ‘দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটি’ গড়ে তোলেন। সোসাইটির উদ্যোগে পাঠানটুলায় প্রতিষ্ঠিত হয় জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা এবং ইসলামপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় আল-আমিন জামেয়া ইসলামিয়া। এছাড়া পশ্চিম নাজিরেরগাঁও জামেয়া ও জালালাবাদ কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিজ গ্রাম তালবাড়িতে দাদার নামে প্রতিষ্ঠা করেন মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও প্রচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন ‘আনজুমানে খেদমতে কোরআন’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা ও দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি সিলেট অঞ্চলে কোরআনের শিক্ষা প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সিলেট নগরের জিন্দাবাজারে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ‘আলহামরা শপিং সিটি’র প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল এবং এমসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাবেক এমপি ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ইন্তেকাল

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, খ্যাতিমান আলেম ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে সিলেটের ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুর আগে দুই দিন তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, চার কন্যা, এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৪টায় কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিলেট জেলা শাখার সাবেক আমীর এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য। তিনি সিলেট অঞ্চলে ইসলামী শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সংগঠন গঠন এবং আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আশির দশকে তাঁর নেতৃত্বে সিলেট নগরের মিরাবাজার এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন। পরবর্তীতে আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা পরিচালনার লক্ষ্যে ‘দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটি’ গড়ে তোলেন। সোসাইটির উদ্যোগে পাঠানটুলায় প্রতিষ্ঠিত হয় জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদরাসা এবং ইসলামপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় আল-আমিন জামেয়া ইসলামিয়া। এছাড়া পশ্চিম নাজিরেরগাঁও জামেয়া ও জালালাবাদ কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিজ গ্রাম তালবাড়িতে দাদার নামে প্রতিষ্ঠা করেন মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া ইসলামিয়া ইউসুফিয়া ফাজিল মাদরাসা।

পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও প্রচারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত সামাজিক সংগঠন ‘আনজুমানে খেদমতে কোরআন’-এর অন্যতম উদ্যোক্তা ও দীর্ঘদিনের সভাপতি ছিলেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি সিলেট অঞ্চলে কোরআনের শিক্ষা প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষা ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। সিলেট নগরের জিন্দাবাজারে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক বাণিজ্যিক কমপ্লেক্স ‘আলহামরা শপিং সিটি’র প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের তালবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল এবং এমসি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।