০২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন Logo আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডে নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক Logo উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্যের ঝলক Logo বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী Logo ডলি বেগমের জয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের অভিনন্দন Logo ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

এক একর জমিতে স্বপ্নের ফসল: রাজু আহমদের কৃষি বিপ্লব

আফজাল হোসেন রুমেল :
  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 233
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামের রাজু আহমদ। এক সময় যিনি নানা ব্যবসায়িক ব্যর্থতার ভারে নুয়ে পড়েছিলেন, আজ তিনিই সফল কৃষি উদ্যোক্তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হতাশাকে পেছনে ফেলে কৃষিকেই বেছে নিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের জীবনের পথচলা।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজু আহমদ আশ্রয় নেন কৃষির। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি মাল্টা, কমলা ও লেবু চাষে আগ্রহী হন। প্রায় এক একর জমিতে মাত্র ৯০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন স্বপ্নযাত্রা। শুরুতে এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয় ছিল চারপাশে, পরিবারেও ছিল উদ্বেগ। অনেকেই একে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংশয় রূপ নেয় বিস্ময় আর প্রশংসায়।

প্রথমদিকে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করা এই বাগান এখন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই তিনি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাঁর বাগানে রয়েছে ৭০০টিরও বেশি ফলদ গাছ। মৌসুম এলেই এখানকার মাল্টা, কমলা ও লেবু স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই তাঁর আয় পৌঁছাচ্ছে কয়েক লাখ টাকায়।

সবুজে ঘেরা বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে রসালো মাল্টা, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল।
সবুজে ঘেরা বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে রসালো মাল্টা, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় রাজু আহমদ নির্মাণ করেছেন নিজের স্বপ্নের বাড়ি। পাশাপাশি আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে জৈব সার ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলনের বৃদ্ধি ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি নিজ উদ্যোগেই তৈরি করছেন জৈব সার, যা তাঁর বাগানকে করেছে আরও উৎপাদনশীল।

রাজু আহমদ বলেন, এক সময় নানা ব্যবসা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। অনেকেই তখন আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিল। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করেছি। আজ এই বাগানই আমার পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, এই মাল্টা-কমলার বাগান আমাকে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, নিজের গ্রামে, দেশের মাটিতে থেকেই সফল হওয়া সম্ভব। যুবকদের বলবো-বেকার বসে না থেকে কৃষি কিংবা যেকোনো বৈধ উদ্যোক্তা কাজে যুক্ত হন। ইনশাআল্লাহ, সফলতা আসবেই।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, রাজু আহমদ একজন পরিশ্রমী, উদ্যমী ও আগ্রহী কৃষি উদ্যোক্তা। বড়লেখা উপজেলা কৃষি অফিস হতে পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি পরিকল্পিতভাবে মাল্টা ওয়ান জাতের বাগান গড়ে তুলেছেন। শুরু থেকেই তাকে উন্নতমানের চারা, সার, বালাইনাশক, সেচ সুবিধা ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুকনা মৌসুমে পানির সংকট দূর করতে ডিপ ইরিগেশন ব্যবস্থা এবং জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর সুফল হিসেবে তার বাগানে ভালো ফলন এসেছে এবং তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। রাজু আহমদের সাফল্য বড়লেখার অন্যান্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

রাজু আহমদের এই কৃষি উদ্যোগ বড়লেখা উপজেলার আশপাশের অনেক তরুণ ও কৃষকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এক সময়ের ব্যর্থ মানুষটি এখন নিজ গ্রামে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তার প্রতীক। সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে কৃষিই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি এমনটাই মনে করেন বড়লেখার দক্ষিণভাগের সফল কৃষি উদ্যোক্তা রাজু আহমদ।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর

নিউজটি শেয়ার করুন

এক একর জমিতে স্বপ্নের ফসল: রাজু আহমদের কৃষি বিপ্লব

আপডেট সময় : ০৭:০৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামের রাজু আহমদ। এক সময় যিনি নানা ব্যবসায়িক ব্যর্থতার ভারে নুয়ে পড়েছিলেন, আজ তিনিই সফল কৃষি উদ্যোক্তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হতাশাকে পেছনে ফেলে কৃষিকেই বেছে নিয়ে তিনি বদলে দিয়েছেন নিজের জীবনের পথচলা।

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাজু আহমদ আশ্রয় নেন কৃষির। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় তিনি মাল্টা, কমলা ও লেবু চাষে আগ্রহী হন। প্রায় এক একর জমিতে মাত্র ৯০টি চারা রোপণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুন স্বপ্নযাত্রা। শুরুতে এই উদ্যোগ নিয়ে সংশয় ছিল চারপাশে, পরিবারেও ছিল উদ্বেগ। অনেকেই একে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সংশয় রূপ নেয় বিস্ময় আর প্রশংসায়।

প্রথমদিকে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করা এই বাগান এখন একটি লাভজনক কৃষি উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই তিনি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে সক্ষম হন। বর্তমানে তাঁর বাগানে রয়েছে ৭০০টিরও বেশি ফলদ গাছ। মৌসুম এলেই এখানকার মাল্টা, কমলা ও লেবু স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাইকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। ফলে প্রতি বছরই তাঁর আয় পৌঁছাচ্ছে কয়েক লাখ টাকায়।

সবুজে ঘেরা বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে রসালো মাল্টা, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল।
সবুজে ঘেরা বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে রসালো মাল্টা, ছবি : আফজাল হোসেন রুমেল।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় রাজু আহমদ নির্মাণ করেছেন নিজের স্বপ্নের বাড়ি। পাশাপাশি আরও আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে জৈব সার ব্যবহারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলনের বৃদ্ধি ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি নিজ উদ্যোগেই তৈরি করছেন জৈব সার, যা তাঁর বাগানকে করেছে আরও উৎপাদনশীল।

রাজু আহমদ বলেন, এক সময় নানা ব্যবসা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছিলাম। অনেকেই তখন আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিল। কিন্তু আমি থেমে থাকিনি। নিজের লক্ষ্য ঠিক রেখে পরিশ্রম করেছি। আজ এই বাগানই আমার পরিচয়।

তিনি আরও বলেন, এই মাল্টা-কমলার বাগান আমাকে শুধু আর্থিক স্বচ্ছলতাই দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি। আমি বিশ্বাস করি, নিজের গ্রামে, দেশের মাটিতে থেকেই সফল হওয়া সম্ভব। যুবকদের বলবো-বেকার বসে না থেকে কৃষি কিংবা যেকোনো বৈধ উদ্যোক্তা কাজে যুক্ত হন। ইনশাআল্লাহ, সফলতা আসবেই।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, রাজু আহমদ একজন পরিশ্রমী, উদ্যমী ও আগ্রহী কৃষি উদ্যোক্তা। বড়লেখা উপজেলা কৃষি অফিস হতে পরামর্শ ও সহায়তায় তিনি পরিকল্পিতভাবে মাল্টা ওয়ান জাতের বাগান গড়ে তুলেছেন। শুরু থেকেই তাকে উন্নতমানের চারা, সার, বালাইনাশক, সেচ সুবিধা ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শুকনা মৌসুমে পানির সংকট দূর করতে ডিপ ইরিগেশন ব্যবস্থা এবং জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর সুফল হিসেবে তার বাগানে ভালো ফলন এসেছে এবং তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। রাজু আহমদের সাফল্য বড়লেখার অন্যান্য কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

রাজু আহমদের এই কৃষি উদ্যোগ বড়লেখা উপজেলার আশপাশের অনেক তরুণ ও কৃষকের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। এক সময়ের ব্যর্থ মানুষটি এখন নিজ গ্রামে একজন সফল কৃষি উদ্যোক্তার প্রতীক। সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চললে কৃষিই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি এমনটাই মনে করেন বড়লেখার দক্ষিণভাগের সফল কৃষি উদ্যোক্তা রাজু আহমদ।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর