১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় হাতের টানে উঠে যাচ্ছে সড়কের কার্পেটিং Logo জুড়ীতে অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফুটালো S&S Charity ও আল হাবিব লতিফিয়া কমপ্লেক্স Logo ভাইরাল সেই পুলিশ কনস্টেবলকে নিজ এলাকায় সংবর্ধনা Logo জুড়ীতে সৈয়দ সিরাজ আলেয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে স্কুল ব্যাগ বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে বড়লেখায় বিএনপির মিছিল Logo স্পেনকে রুখে দিল বিশ্বকাপ নবাগত কেপ ভার্দে Logo পাকশাইল আইডিয়াল হাই স্কুলের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন, সভাপতি অধ্যক্ষ আসুক উদ্দিন Logo ‘শতাব্দীর আবিষ্কার’ সাবেত ইঞ্জিন, দারিদ্র্য থেকে মুক্তির এক নতুন ইঞ্জিন Logo সীমান্ত ব্যাংকে ‘সিনিয়র রিলেশনশিপ ম্যানেজার’ পদে নিয়োগ Logo কুলাউড়ার আবু সাইদ যুবদলের সহ-সভাপতি মনোনীত

‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত: মাস্টারশেফ ইউকে-র কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 80
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বখ্যাত রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ ইউকে-র মঞ্চে বাংলাদেশি স্বাদের অনন্য উপস্থাপনায় বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী সাবিনা খান। প্রতিযোগিতার ২২তম আসরে নিজস্ব রন্ধনশৈলীর জাদু দেখিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

সাবিনার পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি নাস্তা মুড়ি ও পিয়াজু বিচারকদের কাছ থেকে পেয়েছে দারুণ সাড়া। বিশেষ করে তার তৈরি পিয়াজুর স্বাদে অভিভূত হয়ে বিচারকরা এর নাম দিয়েছেন ‘Bullets of Joy’, যা মুহূর্তেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

লন্ডনভিত্তিক পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত সাবিনা খানের শৈশব কেটেছে ঢাকার গুলশানে। পারিবারিক রান্নার ঐতিহ্য, দেশীয় মশলার ঘ্রাণ এবং শৈশবের স্বাদ-স্মৃতিই তার রান্নার মূল প্রেরণা। বর্তমানে তিনি স্বামী আসিফ ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রেটার লন্ডন-এ বসবাস করছেন।

নিজের রান্নাঘরকে সাবিনা ‘স্বাদের পরীক্ষাগার’ হিসেবে দেখেন। নতুন স্বাদ নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক স্বতন্ত্র রন্ধনধারা। বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি ঐতিহ্যের প্রভাব থাকলেও তিনি তার রান্নাকে ‘ফিউশন’ বলতে নারাজ। বরং প্রতিটি খাবারের নিজস্ব স্বাদ ও পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সাবিনার রান্নায় কাঁচামরিচের ঝাঁজ, সরিষা বাটার তীব্রতা এবং পাঁচফোড়নের সুনিপুণ ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার মতে, ভিন্ন ভিন্ন রন্ধনপ্রণালী একই প্লেটে সহাবস্থান করতে পারে, তবে তা কখনোই খাবারের মূল স্বাদকে আড়াল করা উচিত নয়।

এবারের আসরটি বিবিসি ওয়ান এবং আইপ্লেয়ার প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্বে বিভিন্ন পেশার ছয়জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন সাবিনা।

মাস্টারশেফের মঞ্চে সাবিনা খানের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশি খাবারের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। তার এই অগ্রযাত্রা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি আন্তর্জাতিক ভোজনরসিকদের কাছে দেশীয় রন্ধনশৈলীর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত: মাস্টারশেফ ইউকে-র কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বখ্যাত রান্নাবিষয়ক রিয়েলিটি শো মাস্টারশেফ ইউকে-র মঞ্চে বাংলাদেশি স্বাদের অনন্য উপস্থাপনায় বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী সাবিনা খান। প্রতিযোগিতার ২২তম আসরে নিজস্ব রন্ধনশৈলীর জাদু দেখিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই জায়গা করে নিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনালে।

সাবিনার পরিবেশিত ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি নাস্তা মুড়ি ও পিয়াজু বিচারকদের কাছ থেকে পেয়েছে দারুণ সাড়া। বিশেষ করে তার তৈরি পিয়াজুর স্বাদে অভিভূত হয়ে বিচারকরা এর নাম দিয়েছেন ‘Bullets of Joy’, যা মুহূর্তেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

লন্ডনভিত্তিক পরিবেশ উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত সাবিনা খানের শৈশব কেটেছে ঢাকার গুলশানে। পারিবারিক রান্নার ঐতিহ্য, দেশীয় মশলার ঘ্রাণ এবং শৈশবের স্বাদ-স্মৃতিই তার রান্নার মূল প্রেরণা। বর্তমানে তিনি স্বামী আসিফ ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্রেটার লন্ডন-এ বসবাস করছেন।

নিজের রান্নাঘরকে সাবিনা ‘স্বাদের পরীক্ষাগার’ হিসেবে দেখেন। নতুন স্বাদ নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন এক স্বতন্ত্র রন্ধনধারা। বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি ঐতিহ্যের প্রভাব থাকলেও তিনি তার রান্নাকে ‘ফিউশন’ বলতে নারাজ। বরং প্রতিটি খাবারের নিজস্ব স্বাদ ও পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখাই তার প্রধান লক্ষ্য।

সাবিনার রান্নায় কাঁচামরিচের ঝাঁজ, সরিষা বাটার তীব্রতা এবং পাঁচফোড়নের সুনিপুণ ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তার মতে, ভিন্ন ভিন্ন রন্ধনপ্রণালী একই প্লেটে সহাবস্থান করতে পারে, তবে তা কখনোই খাবারের মূল স্বাদকে আড়াল করা উচিত নয়।

এবারের আসরটি বিবিসি ওয়ান এবং আইপ্লেয়ার প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচারিত হচ্ছে। প্রাথমিক পর্বে বিভিন্ন পেশার ছয়জন প্রতিযোগীর মধ্যে থেকে নিজস্ব স্বকীয়তা দিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন সাবিনা।

মাস্টারশেফের মঞ্চে সাবিনা খানের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, বরং বিশ্বদরবারে বাংলাদেশি খাবারের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারও প্রতিফলন। তার এই অগ্রযাত্রা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি আন্তর্জাতিক ভোজনরসিকদের কাছে দেশীয় রন্ধনশৈলীর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।