০৯:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিশ্বকাপের মঞ্চে সিলেটের সঞ্জয় Logo বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন Logo সরকার এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে- নাসির উদ্দিন আহমেদ Logo মৌলভীবাজারে ঘুমন্ত নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: দুই আসামি গ্রেপ্তার Logo সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে ফুলতলা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ Logo সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন কয়েস লোদী Logo কুলাউড়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত Logo বড়লেখায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘ব্রাজিল বাড়ি’ Logo চার বছরের অপেক্ষার অবসান, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ

কবর থেকে সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০২:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 36
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় করা মামলায় হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
এদিন বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ২০ মে মামলার তদন্তকর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেওয়া হয়।
আইনজীবী আরও বলেন, পুলিশের তরফ থেকে এই আবেদন করা হয়েছে। তবে আমি পরিবারের সাথে কথা বলেছি। আমরা লাশ উত্তোলন করতে দিবো না। এই জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থান থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন করা হবে। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এই হত্যা মামলাটি রমনা থানায় দায়ের করেন। এরপর আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য রমনা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয় এবং সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তার মরদেহ দাফন করা হয়। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়।
পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি সিএমএম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। এরপর ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করে বাদীপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কবর থেকে সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

আপডেট সময় : ০২:১৪:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় করা মামলায় হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্তের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। বুধবার আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এ আদেশ দেন।
এদিন বাদী পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ গণমাধ্যম কর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গত ২০ মে মামলার তদন্তকর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ লাশ উত্তোলনের আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৪ মে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেওয়া হয়।
আইনজীবী আরও বলেন, পুলিশের তরফ থেকে এই আবেদন করা হয়েছে। তবে আমি পরিবারের সাথে কথা বলেছি। আমরা লাশ উত্তোলন করতে দিবো না। এই জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থান থেকে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলন করা হবে। এরপর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এই হত্যা মামলাটি রমনা থানায় দায়ের করেন। এরপর আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামীরা হক, সামীরা হকের মা লতিফা হক লুছি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
এর আগে গত ২০ অক্টোবর সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের জন্য রমনা থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চলচ্চিত্র নায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। সে সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছিলেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। ওই সময় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয় এবং সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে তার মরদেহ দাফন করা হয়। অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়।
পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি সিএমএম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি পিবিআই তদন্ত করে। ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। এরপর ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করে বাদীপক্ষ।