১২:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন Logo প্রাথমিক শিক্ষা পদক/ জুড়ীর অনিক জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ সহকারি শিক্ষক নির্বাচিত Logo জুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপি পরিবারের ঔষধ সহায়তা Logo ফ্রী-ফায়ার গেম নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২ Logo শাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম Logo ঢাবি ছাত্র ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্বে দূর্জয়-মোস্তাকিম Logo বিসিবি নির্বাচনে বিনা ভোটে আসছেন ৪ পরিচালক, জমজমাট লড়াই ক্লাব ক্যাটাগরিতে Logo জুড়ীর বেলাগাঁও-কন্টিনালা নদী ভাঙন রোধে চলমান কাজ পরিদর্শনে এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ Logo কমলগঞ্জে বজ্রপাতে একজন চা-শ্রমিকের মৃত্যু, আহত পাঁচ Logo স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ের ১ম বর্ষ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আবেদন শুরু

আজ বড়লেখা শত্রুমুক্ত দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:২৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 170
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ৬ ডিসেম্বর- মৌলভীবাজারের বড়লেখা শত্রুমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী বড়লেখা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ সাড়ে আট মাসের দখল ও নৃশংসতার অবসান ঘটিয়ে এদিন ভোরে বড়লেখা পুরোপুরি মুক্ত হয়।

৪ নম্বর সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট ছিল বড়লেখা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বড়লেখা ছিল ৪ নম্বর সেক্টরের অধীন, যার নেতৃত্বে ছিলেন মেজর সি আর দত্ত (বীর উত্তম)। ভারতের করিমগঞ্জে প্রয়াত এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে এ সেক্টরের সদর দফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। বড়লেখার ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী বারপুঞ্জি ও কুকিরতল এলাকায় স্থাপন করা হয় দুটি সাব-সেক্টর। এখান থেকেই বৃহৎ আক্রমণ, গেরিলা অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই বড়লেখাবাসী সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বড়লেখা থানার প্রায় ৩২৫টি গ্রাম যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেয়। গ্রামবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আশ্রয়, রসদ ও তথ্য সরবরাহ করে প্রতিরোধের শক্তিকে আরও তীব্র করে তোলে।

৬ ডিসেম্বরের আক্রমণে হানাদারদের পরাজয়

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সংগঠিত প্রতিরোধ বাহিনী ৫ ডিসেম্বর রাত থেকে বিভিন্ন দিক দিয়ে পাক বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা গেরিলা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে হানাদাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে তারা বড়লেখা ত্যাগে বাধ্য হয়।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে জনপদজুড়ে- গ্রামে গ্রামে শুরু হয় উল্লাস, কাঁদে কেউ, আর কেউ ছুটে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করতে।

বিজয় সমাবেশ ও পতাকা উত্তোলন

শত্রুমুক্তির পরপরই বর্তমান উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল বিজয় সমাবেশ। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তখনো ধরা অস্ত্র- আর ভিড়ের বুক ভরা উল্লাস, কান্না ও স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস।

বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় হামিদ চৌধুরীর রেস্টুরেন্টের সামনে একটি শিরীষ গাছে, পরে তা উত্তোলন করা হয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে। স্বাধীনতার প্রতীক লাল-সবুজ পতাকা বড়লেখার আকাশে উড়তেই মুক্ত মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে বড়লেখার প্রতিটি গ্রাম

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বড়লেখার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি- কারও ঘর ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল, কোথাও প্রস্তুত হতো অস্ত্র-রসদ, কোথাও গড়ে উঠেছিল গোপন চিকিৎসা কেন্দ্র। এই জনপদে স্বাধীনতার জন্য মানুষের আত্মত্যাগ ছিল ব্যাপক ও গভীর।

গৌরবের দিন, প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

৬ ডিসেম্বর বড়লেখাবাসীর কাছে শুধু ইতিহাসের একটি দিন নয়; এটি গর্ব, আত্মমর্যাদা, প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস জানানোর জন্য এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করেন স্থানীয় ইতিহাসবিদরা।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আজ বড়লেখা শত্রুমুক্ত দিবস

আপডেট সময় : ০২:২৬:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

আজ ৬ ডিসেম্বর- মৌলভীবাজারের বড়লেখা শত্রুমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের সংঘবদ্ধ আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী বড়লেখা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ সাড়ে আট মাসের দখল ও নৃশংসতার অবসান ঘটিয়ে এদিন ভোরে বড়লেখা পুরোপুরি মুক্ত হয়।

৪ নম্বর সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্ট ছিল বড়লেখা

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বড়লেখা ছিল ৪ নম্বর সেক্টরের অধীন, যার নেতৃত্বে ছিলেন মেজর সি আর দত্ত (বীর উত্তম)। ভারতের করিমগঞ্জে প্রয়াত এমপি দেওয়ান ফরিদ গাজীর নেতৃত্বে এ সেক্টরের সদর দফতর প্রতিষ্ঠিত হয়। বড়লেখার ভৌগোলিক অবস্থান ও সামরিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় পার্শ্ববর্তী বারপুঞ্জি ও কুকিরতল এলাকায় স্থাপন করা হয় দুটি সাব-সেক্টর। এখান থেকেই বৃহৎ আক্রমণ, গেরিলা অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই বড়লেখাবাসী সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বড়লেখা থানার প্রায় ৩২৫টি গ্রাম যুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অংশ নেয়। গ্রামবাসী মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আশ্রয়, রসদ ও তথ্য সরবরাহ করে প্রতিরোধের শক্তিকে আরও তীব্র করে তোলে।

৬ ডিসেম্বরের আক্রমণে হানাদারদের পরাজয়

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সংগঠিত প্রতিরোধ বাহিনী ৫ ডিসেম্বর রাত থেকে বিভিন্ন দিক দিয়ে পাক বাহিনীর ওপর চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করে। গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত টানা গেরিলা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়ে হানাদাররা। মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয়ে তারা বড়লেখা ত্যাগে বাধ্য হয়।

১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে বড়লেখা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়। এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে জনপদজুড়ে- গ্রামে গ্রামে শুরু হয় উল্লাস, কাঁদে কেউ, আর কেউ ছুটে যায় মুক্তিযোদ্ধাদের বরণ করতে।

বিজয় সমাবেশ ও পতাকা উত্তোলন

শত্রুমুক্তির পরপরই বর্তমান উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় এক বিশাল বিজয় সমাবেশ। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তখনো ধরা অস্ত্র- আর ভিড়ের বুক ভরা উল্লাস, কান্না ও স্বস্তির দীর্ঘশ্বাস।

বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় হামিদ চৌধুরীর রেস্টুরেন্টের সামনে একটি শিরীষ গাছে, পরে তা উত্তোলন করা হয় উপজেলা পরিষদ চত্বরে। স্বাধীনতার প্রতীক লাল-সবুজ পতাকা বড়লেখার আকাশে উড়তেই মুক্ত মানুষের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে বড়লেখার প্রতিটি গ্রাম

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, বড়লেখার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি- কারও ঘর ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয়স্থল, কোথাও প্রস্তুত হতো অস্ত্র-রসদ, কোথাও গড়ে উঠেছিল গোপন চিকিৎসা কেন্দ্র। এই জনপদে স্বাধীনতার জন্য মানুষের আত্মত্যাগ ছিল ব্যাপক ও গভীর।

গৌরবের দিন, প্রজন্মের অনুপ্রেরণা

৬ ডিসেম্বর বড়লেখাবাসীর কাছে শুধু ইতিহাসের একটি দিন নয়; এটি গর্ব, আত্মমর্যাদা, প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সত্য ইতিহাস জানানোর জন্য এ দিনের গুরুত্ব অপরিসীম বলে মনে করেন স্থানীয় ইতিহাসবিদরা।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর