০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

মাদলিন হয়ে উঠলেন প্রতিবাদের প্রতীক

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 71

গাজার প্রথম নারী জেলে মাদলিন কুলাব। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

৪৪টি নৌযান ছিল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’য়। সবগুলো আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। এগিয়ে যাচ্ছে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’। এখানে আছে ১১টি নৌযান। এই বহরটিও আটকে দিতে পারে ইসরায়েল। এরপর আসবে আরও নৌযান। এভাবে হাজার নৌযান নিয়ে আসার পরিকল্পনা মানবাধিকারকর্মীদের। এই কর্মসূচির নাম ‘থাউজ্যান্ডস মাদলিনস টু গাজা’। গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার এই উদ্যোগের স্লোগান ‘হাজার জাহাজ, লক্ষ্য এক- মুক্ত গাজা’।

থাউজ্যান্ডস মাদলিনস নামকরণের মূলে রয়েছেন গাজার প্রথম নারী জেলে। তাঁর নাম মাদলিন কুলাব (৩০)। বর্তমানে তিনি গাজা সিটিতে ভাঙা বাড়ির পরিত্যক্ত অংশে বসবাস করছেন। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে তাঁর নাম প্রতীক হয়ে উঠেছে, এটা শোনার পর তিনি চমকে গিয়েছেন।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, মাদলিনের বাবা ছিলেন জেলে। তাঁর স্বামী খাদের বাকরও (৩২) জেলে। তিনি আগে ইসরায়েল যতদূর যেতে দিত, ততদূর পর্যন্ত সাগরে যেতেন। মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বেচতেন।

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হলে পরিবারটি ভীত হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের বাড়ির পাশে বিমান হামলা হয়। মাদলিনের বাবাকে হত্যা করা হয়। মাঝে প্রায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাদলিনকে নিয়ে পরিবার খানইউনিস, রাফা, দেইর এল-বালাহ এবং নুসেইরাতে পালিয়ে যায়।

গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী জাহাজ কর্মসূচির নাম যে তাঁর নামে রাখা হয়েছে, এই খবর আইরিশ অ্যাক্টিভিস্ট বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম শোনেন তিনি। তখন কেমন লেগেছিল, জানতে চাইলে হেসে বলেন, ‘আমি আপ্লুত। এক বিশাল দায়িত্ববোধ এবং গর্ব অনুভব করেছি।’

মাদলিন বলেন, ‘আমি এই অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। আরামের জীবন ছেড়ে এসেছেন। সব ঝুঁকি নিয়ে গাজার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি জানান, ১৫ বছর বয়স থেকে মাছ ধরেন। তখন বাবার নৌকা নিয়ে বের হতেন। মাছ ধরার পাশাপাশি মাদলিন নিপুণ রাঁধুনিও। মৌসুমি মাছের এমন সুস্বাদু পদ তৈরি করতেন, তা চেখে দেখার জন্য ভোজন রসিকরা লাইন ধরে অপেক্ষা করতেন। বিশেষ করে সার্ডিন মাছ দিয়ে তৈরি খাবার ছিল মুখরোচক। এখন তিনি আর মাছ ধরতে পারেন না। রান্না করতেও পারেন না। কারণ ইসরায়েলি বোমা তাদের নৌকা এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব হারিয়েছি- এগুলো ছিল সারাজীবনের শ্রম।’

তাঁর এই ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়। এটা তাঁর পরিচিতির সংকটও। সমুদ্র ও মাছ ধরার সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘এখন মাছ অনেক দামি। কয়েকজন জেলের কাছে কিছু সরঞ্জাম আছে। তারা সমুদ্রে নামতে জীবন বাজি রাখছেন। আমরা দুর্ভিক্ষে মাছের জন্য হাহাকার করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মাদলিন হয়ে উঠলেন প্রতিবাদের প্রতীক

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

৪৪টি নৌযান ছিল ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’য়। সবগুলো আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। এগিয়ে যাচ্ছে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’। এখানে আছে ১১টি নৌযান। এই বহরটিও আটকে দিতে পারে ইসরায়েল। এরপর আসবে আরও নৌযান। এভাবে হাজার নৌযান নিয়ে আসার পরিকল্পনা মানবাধিকারকর্মীদের। এই কর্মসূচির নাম ‘থাউজ্যান্ডস মাদলিনস টু গাজা’। গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ভাঙার এই উদ্যোগের স্লোগান ‘হাজার জাহাজ, লক্ষ্য এক- মুক্ত গাজা’।

থাউজ্যান্ডস মাদলিনস নামকরণের মূলে রয়েছেন গাজার প্রথম নারী জেলে। তাঁর নাম মাদলিন কুলাব (৩০)। বর্তমানে তিনি গাজা সিটিতে ভাঙা বাড়ির পরিত্যক্ত অংশে বসবাস করছেন। বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের উদ্যোগে তাঁর নাম প্রতীক হয়ে উঠেছে, এটা শোনার পর তিনি চমকে গিয়েছেন।

আলজাজিরার খবরে বলা হয়, মাদলিনের বাবা ছিলেন জেলে। তাঁর স্বামী খাদের বাকরও (৩২) জেলে। তিনি আগে ইসরায়েল যতদূর যেতে দিত, ততদূর পর্যন্ত সাগরে যেতেন। মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বেচতেন।

ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ শুরু হলে পরিবারটি ভীত হয়ে পড়ে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তাদের বাড়ির পাশে বিমান হামলা হয়। মাদলিনের বাবাকে হত্যা করা হয়। মাঝে প্রায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মাদলিনকে নিয়ে পরিবার খানইউনিস, রাফা, দেইর এল-বালাহ এবং নুসেইরাতে পালিয়ে যায়।

গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টাকারী জাহাজ কর্মসূচির নাম যে তাঁর নামে রাখা হয়েছে, এই খবর আইরিশ অ্যাক্টিভিস্ট বন্ধুর কাছ থেকে প্রথম শোনেন তিনি। তখন কেমন লেগেছিল, জানতে চাইলে হেসে বলেন, ‘আমি আপ্লুত। এক বিশাল দায়িত্ববোধ এবং গর্ব অনুভব করেছি।’

মাদলিন বলেন, ‘আমি এই অ্যাক্টিভিস্টদের কাছে কৃতজ্ঞ। তারা নিজেদের উৎসর্গ করেছেন। আরামের জীবন ছেড়ে এসেছেন। সব ঝুঁকি নিয়ে গাজার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি জানান, ১৫ বছর বয়স থেকে মাছ ধরেন। তখন বাবার নৌকা নিয়ে বের হতেন। মাছ ধরার পাশাপাশি মাদলিন নিপুণ রাঁধুনিও। মৌসুমি মাছের এমন সুস্বাদু পদ তৈরি করতেন, তা চেখে দেখার জন্য ভোজন রসিকরা লাইন ধরে অপেক্ষা করতেন। বিশেষ করে সার্ডিন মাছ দিয়ে তৈরি খাবার ছিল মুখরোচক। এখন তিনি আর মাছ ধরতে পারেন না। রান্না করতেও পারেন না। কারণ ইসরায়েলি বোমা তাদের নৌকা এবং মাছ ধরার সরঞ্জাম ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব হারিয়েছি- এগুলো ছিল সারাজীবনের শ্রম।’

তাঁর এই ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়। এটা তাঁর পরিচিতির সংকটও। সমুদ্র ও মাছ ধরার সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ ছিল। তিনি বলেন, ‘এখন মাছ অনেক দামি। কয়েকজন জেলের কাছে কিছু সরঞ্জাম আছে। তারা সমুদ্রে নামতে জীবন বাজি রাখছেন। আমরা দুর্ভিক্ষে মাছের জন্য হাহাকার করছি।’