বড়লেখায় এসএসসির ফলে বড় ব্যবধান, পাসের হারে শীর্ষে রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম
- আপডেট সময় : ০৪:২৮:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / 267
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিদ্যালয়ভেদে পাসের হারে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা গেছে। উপজেলার ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে কম পাসের হার কানসাই হাকালুকি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুল থেকে এবার ১৬১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৩ জন। পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সুজাউল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৮৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন।
তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বর্ণি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৩ জন পাস করায় বিদ্যালয়টির পাসের হার ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। এরপর ফকির বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৮১ দশমিক ২০ শতাংশ। ১৩৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে দুজন।
এ ছাড়া কাঠালতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৭৮ শতাংশের বেশি, হাজী শামসুল হক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৭ দশমিক ২৭ শতাংশ, গল্লাসাঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭৫ শতাংশ, বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭১ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং মুড়াউল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭০ দশমিক ৯১ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায়ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে। রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের ৩৩ জন, দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের ১২ জন এবং গল্লাসাঙ্গন উচ্চ বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। দাসের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৮৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
অন্যদিকে উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। মাইজগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ দশমিক ৪৮ শতাংশ, ইটাউরি হাজী ইউনুস মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শাহবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে ৩৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ, ছোটলেখা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৬ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে কানসাই হাকালুকি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র নয়জন পাস করেছে। পাসের হার ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকরা নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে নজরদারি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা ষাটমাকন্ঠকে জানিয়েছেন।
অভিভাবকদের মতে, ভালো ফলের জন্য শুধু পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি নয়, শিক্ষাবর্ষজুড়ে নিয়মিত পড়াশোনা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি এবং শিক্ষক-অভিভাবকের সমন্বিত তদারকি জরুরি। যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার কম, সেসব বিদ্যালয়ে ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতার কারণ চিহ্নিত করারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
বড়লেখার এসএসসি ফলাফলে একদিকে যেমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রায় শতভাগ পাসের কাছাকাছি সাফল্য পেয়েছে, অন্যদিকে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। সর্বোচ্চ ৯৮ দশমিক ১৪ শতাংশ থেকে সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ-এই বড় ব্যবধান প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও একাডেমিক তদারকি নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো ফল করা বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি চিহ্নিত করে তা অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োগের পাশাপাশি কম ফল করা বিদ্যালয়গুলোতে বিশেষ একাডেমিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।














