০৬:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ফেরদৌসি শাহরিয়ার আর নেই Logo শাপলা চত্বরের মামলায় সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার Logo পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: চবি উপাচার্য Logo অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ স্কলারশিপ, আবেদন শেষ ৩১ জুলাই Logo বিলুপ্তির পথে রানী মাছ, অস্তিত্ব রক্ষায় প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ Logo মৌলভীবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে মতবিনিময় সভা Logo কুলাউড়া পৌর মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা বিএনপি নেতা জয়নাল আবেদীন বাচ্চুর Logo কুলাউড়ায় স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে ব্লেড: পরিকল্পিত ঘটনার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন Logo কমলগঞ্জের ফুলবাড়ি চা-বাগানে উদ্ধার বিশালাকৃতির অজগর Logo নিউইয়র্কে বড়লেখা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমিতির বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

হাওর অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনা, শিক্ষক সংকট নিরসনে উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • / 27
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিক সভা করে সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ক্যাচমেন্ট (অববাহিকা) এলাকায় স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না। ফলে অন্য এলাকা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু সেখানেও ক্যাচমেন্টভিত্তিক নিয়োগের কারণে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এই সমস্যা প্রকট। বিষয়টি সমাধানে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।”

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির শুরুতে বিভিন্ন স্থানে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানে নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

তিনি জানান, এখন প্রতিটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে একজন ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হচ্ছে। তাদের অনুমোদনের পরই বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা উৎপাদনকারী কারখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করবেন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে মায়েদের নেতৃত্বে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাবার পৌঁছানোর পর ওই কমিটি তা পরীক্ষা করে গ্রহণ করবে। সরবরাহকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্যও বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেসব স্থানে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, সেখানে প্রায় শূন্য ত্রুটিতে কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নুরুল ইসলাম, এবিএম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন এবং হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

হাওর অঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষায় নতুন পরিকল্পনা, শিক্ষক সংকট নিরসনে উদ্যোগ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

আপডেট সময় : ১১:৫৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিক সভা করে সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

রোববার সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ক্যাচমেন্ট (অববাহিকা) এলাকায় স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শিক্ষক পাওয়া যায় না। ফলে অন্য এলাকা থেকে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়। কিন্তু সেখানেও ক্যাচমেন্টভিত্তিক নিয়োগের কারণে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে শিক্ষক নিয়োগ ও ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জসহ কয়েকটি জেলায় এই সমস্যা প্রকট। বিষয়টি সমাধানে আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে, তবে সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক।”

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মসূচির শুরুতে বিভিন্ন স্থানে কিছু অনিয়ম ও ত্রুটি ধরা পড়েছিল। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানে নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে।

তিনি জানান, এখন প্রতিটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে একজন ফুড টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হচ্ছে। তাদের অনুমোদনের পরই বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা উৎপাদনকারী কারখানায় আকস্মিক পরিদর্শন করবেন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি বিদ্যালয়ে মায়েদের নেতৃত্বে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। খাবার পৌঁছানোর পর ওই কমিটি তা পরীক্ষা করে গ্রহণ করবে। সরবরাহকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্যও বিদ্যালয়ে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যেসব স্থানে এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে, সেখানে প্রায় শূন্য ত্রুটিতে কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এরপরও কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নুরুল ইসলাম, এবিএম জাকির হোসেন এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অংশ নেন এবং হাওরাঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।