ভিডিও ভাইরালের পর তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি জামায়াতের এমপি গাজী নজরুলের
- আপডেট সময় : ১২:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
- / 62
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ওই তরুণীকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাতে ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল ভিডিওটিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করলেও পরে একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে ভিডিওটি প্রকৃত বলে উঠে আসে। তবে ভিডিওটি কোথায় এবং কীভাবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান আজিজুর রহমান জানান, বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, গাজী নজরুল তাঁদের জানিয়েছেন যে ভিডিওতে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই এ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
দ্বিতীয় বিয়ের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গাজী নজরুল নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে পারেননি। তবে দলের কাছে তিনি জানিয়েছেন, বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরে দলের মুখপাত্রের মাধ্যমে পাঠানো এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ভাইরাল ভিডিওটি রাজধানীর মগবাজারে তাঁর একটি কার্যালয়ের। ভিডিওতে থাকা নারীর নাম মরিয়াম বেগম এবং তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর দাবি, ভিডিওটি ২০২৬ সালের ১৩ জুলাই ধারণ করা হয় এবং ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবাইদুল্লাহ পরিকল্পিতভাবে এটি ফাঁস করেছেন। চালকের বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেল ও চাঁদাবাজিরও অভিযোগ তোলেন তিনি।
গাজী নজরুলের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তাঁর প্রথম স্ত্রী মোসাম্মদ মাকসুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়াম বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মাসুম বিল্লাহ এবং গাড়িচালক ওবাইদুল্লাহ ব্যবসায়িক কাজে মগবাজারের ওই কার্যালয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে চালক কৌশলে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তিকে কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ করে দেন। পরে তারা তাঁকে হেনস্তা করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু অর্থ দিয়ে তাদের বিদায় করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
ভিডিওটি দীর্ঘ সময় পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়াকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ উল্লেখ করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন গাজী নজরুল।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় মরিয়াম বেগম বলেন, “আমরা যা করেছি, তা বৈধভাবে করেছি। আমরা স্বামী-স্ত্রী।”
একই দিন প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মোসাম্মদ মাকসুদা বেগমও বলেন, “আমার স্বামী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়াম বেগমের বিয়ে হয়েছে।”
তবে ভিডিওটি ফাঁসের অভিযোগ, চাঁদাবাজির দাবি কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো পক্ষের বক্তব্য বা প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
























