১০:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 21
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৩৩ সালে জন ডি রকফেলার। ১৯১৬ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার হন। ছবি: এপি

শুক্রবার পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারে পরিণত হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি স্পেসএক্স-এর ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) শেয়ারবাজারে আক্ষরিক অর্থেই সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

দিন শেষে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর এই ধাক্কায় মাস্কের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে।

আইপিওর সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর অন্যতম জেপিমরগ্যান চেজের নির্বাহীরা টমাহক স্টেক দিয়ে নৈশভোজ সারার পর নিউইয়র্কের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ব্যাংকের সদর দপ্তরের ছাদে চোখধাঁধানো লেজার শো-র মাধ্যমে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারের এই উত্থানে সবাই উচ্ছ্বসিত হননি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক্স-এ লিখেছেন: ‘ধনীদের ওপর কেন কর বসানো উচিত, এটা তার এক ট্রিলিয়নতম কারণ।’

সম্পদ বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার প্রগতিশীল মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি হিসাব কষে দেখিয়েছেন, মাস্কের এই সম্পদের সমান টাকা কামাতে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারকে একটানা ১ কোটি ১০ লাখ বছরেরও বেশি সময় কাজ করে যেতে হবে।

পৃথিবীতে এখন অন্তত ৩ হাজার ৩০০ বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০০ জনেরই বাস যুক্তরাষ্ট্রে। এমন এক পৃথিবীতে বসে ব্যাপারটা কল্পনা করা কঠিন হলেও, খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন পৃথিবীতে বিলিয়নিয়ার নামক কোনো কিছুর অস্তিত্বই ছিল না।

এই দৃশ্যপট পাল্টে যায় ১৯১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর।

এই দিনে এ গ্রহের ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন গিল্ডেড যুগের (১৮৭০-এর দশকের শেষ ভাগ থেকে ১৮৯০-এর দশকের প্রথম ভাগ) তেল সম্রাট জন ডি. রকফেলার।

রকফেলারের পোর্ট্রেইট। আনুমানিক ১৯০০ সাল। ছবি: অস্কার হোয়াইট/উইকিমিডিয়া কমন্স

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ম্যাকনাইট নিকলস গিল্ডেড যুগ নিয়ে বিশদ গবেষণা করেছেন। তার মতে, রকফেলার ছিলেন আমেরিকার—এবং প্রায় নিশ্চিতভাবেই সমগ্র বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার।

১৯১৬ সালের ১ বিলিয়ন ডলারের আজকের দিনের বাজারমূল্য ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

সে সময় দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতার খবর অনুযায়ী, রকফেলারের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের শেয়ারদর হুট করে অনেক বেড়ে যায়। প্রতিটি শেয়ারের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তিনি এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন।

অধ্যাপক নিকলস বলেন, আজকের দিনে মাস্ককে নিয়ে মানুষের যেমন প্রতিক্রিয়া, রকফেলারের নতুন সম্পদ অর্জন নিয়েও ঠিক তেমনি প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল সে সময়। একদিকে সম্পদের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত বিত্তের প্রতি ঘৃণা—এই দুইয়ে মিলে সে সময় জনমানসে সম্পদ নিয়ে এক অদ্ভুত আবেশের জন্ম দেয়।

নিকলস আরও জানান, এখনকার ফোর্বস তালিকার মতোই ওই সময়ও ধনীদের র‍্যাংকিং প্রকাশের চল ছিল।

‘এখন আমরা ঠিক যেভাবে ভাবি, ওই সময়ের মানুষের ভাবনাটাও ঠিক তেমনই ছিল। তাদের মাথায় ঘুরত, “আরে বাবা! তালিকার দুই নম্বরে থাকা লোকটার চেয়েও এর সম্পদ এখন দ্বিগুণ,”‘ বলেন তিনি।

একজন বিলিয়নিয়ার আসলে ঠিক কতটা ধনী হতে পারেন, সে যুগে আমজনতার সম্ভবত তার কোনো ধারণাই ছিল না। ঠিক যেমন আজকের দিনে একজন ট্রিলিয়নিয়ারের সম্পদের হিসাব কল্পনা করাটা অনেকের কাছেই ঘাম ছোটানো ব্যাপার।

অধ্যাপক নিকলস বলেন, ‘আমার মনে হয় ওই সময়ের একজন বিলিয়নিয়ার মানেই আজকের দিনের এক ট্রিলিয়নিয়ারের মতো। এতগুলো শূন্যের হিসাব মেলানো অসম্ভব ব্যাপার।’

তিনি আরও জানান, ১৯১৬ সালের রাস্তায় হাঁটা সাধারণ মানুষ জাতীয় মঞ্চে হঠাৎ করে একজন বিলিয়নিয়ারের এই আবির্ভাবে মোটেও খুশি হয়নি। বিশেষ করে এমন একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে—যাকে প্রগ্রেসিভ এরা বলা হয়—যখন খোদ ফেডারেল সরকারেরই মাত্রাতিরিক্ত সম্পদের লাগাম টেনে ধরার কথা ছিল।

(অধ্যাপক নিকলস অবশ্য একটি মজার ব্যাপার মনে করিয়ে দেন। রকফেলার বিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন—অন্তত আংশিকভাবে হলেও—একটি বিশেষ কারণে। ১৯১১ সালে তিনি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলকে কয়েক ডজন ছোট কোম্পানি বানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর সেই ছোট কোম্পানিগুলোর বাজারদরই পরের বছরগুলোতে হু হু করে বেড়ে যায়।)

১৮৭০ সালে ভাই উইলিয়াম এবং শিল্পপতি হেনরি ফ্ল্যাগলারের সঙ্গে জোট বেঁধে স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি গঠন করেন রকফেলার। ছবি: হাল্টন আর্কাইভ/গেটি ইমেজেস

রকফেলারের প্রায় ১০০ বছর আগে নিউইয়র্ক সিটির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভাগ্য গড়েছিলেন জন জ্যাকব অ্যাস্টর। তিনি ছিলেন আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম মিলিয়নিয়ার।

ঠিক কোন সময়ে তিনি এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন, তার হিসাব কিছুটা ঘোলাটে। তবে অধ্যাপক নিকলসের মতে, সেটা সম্ভবত তার জীবনের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে, মোটামুটি ১৮২০-এর দশকের দিকে।

১৮৪৮ সালে মৃত্যুর সময় অ্যাস্টরের মোট সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় কয়েক কোটি ডলারে।

গুটিকয়েক মানুষের হাতে সম্পদের পাহাড় জমে ওঠা নিয়ে ওই সময়ে খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না বলে জানান অধ্যাপক নিকলস। আর ঠিক এ কারণেই অ্যাস্টরের বিত্তবৈভব নিয়ে রকফেলার বা মাস্কের মতো এতটা হইচইও হয়নি সে সময়।

অ্যাস্টরের সম্পদের পরিধি আসলে কতটা বিস্তিরত, সাধারণ মানুষের খুব কম অংশই তা জানত।

অ্যাস্টর যে শেষ মিলিয়নিয়ার ছিলেন না, তা তো বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে ১৯৩৭ সালে রকফেলারের মৃত্যুর পর খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই শত শত রকফেলার আবির্ভূত হয়েছেন—অন্তত সম্পদের নিরিখে।

তাহলে আগামী দিনে দ্বিতীয় ট্রিলিয়নিয়ারের দেখা পাওয়া যাবে কবে?

অধ্যাপক নিকলস মনে করেন, দিনটি খুব একটা দূরে নয়। আর এর পেছনের মূল চালিকাশক্তি হবে এআই।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

আপডেট সময় : ০৭:২১:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

১৯৩৩ সালে জন ডি রকফেলার। ১৯১৬ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার হন। ছবি: এপি

শুক্রবার পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারে পরিণত হয়েছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার রকেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি স্পেসএক্স-এর ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং (আইপিও) শেয়ারবাজারে আক্ষরিক অর্থেই সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

দিন শেষে কোম্পানিটির বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আর এই ধাক্কায় মাস্কের নিজস্ব সম্পদের পরিমাণ গিয়ে ঠেকেছে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে।

আইপিওর সঙ্গে যুক্ত ব্যাংকগুলোর অন্যতম জেপিমরগ্যান চেজের নির্বাহীরা টমাহক স্টেক দিয়ে নৈশভোজ সারার পর নিউইয়র্কের পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ব্যাংকের সদর দপ্তরের ছাদে চোখধাঁধানো লেজার শো-র মাধ্যমে উদযাপনে মেতে ওঠেন।

তবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ারের এই উত্থানে সবাই উচ্ছ্বসিত হননি। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক্স-এ লিখেছেন: ‘ধনীদের ওপর কেন কর বসানো উচিত, এটা তার এক ট্রিলিয়নতম কারণ।’

সম্পদ বৈষম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার প্রগতিশীল মার্কিন সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি হিসাব কষে দেখিয়েছেন, মাস্কের এই সম্পদের সমান টাকা কামাতে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারকে একটানা ১ কোটি ১০ লাখ বছরেরও বেশি সময় কাজ করে যেতে হবে।

পৃথিবীতে এখন অন্তত ৩ হাজার ৩০০ বিলিয়নিয়ার রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০০ জনেরই বাস যুক্তরাষ্ট্রে। এমন এক পৃথিবীতে বসে ব্যাপারটা কল্পনা করা কঠিন হলেও, খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যখন পৃথিবীতে বিলিয়নিয়ার নামক কোনো কিছুর অস্তিত্বই ছিল না।

এই দৃশ্যপট পাল্টে যায় ১৯১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর।

এই দিনে এ গ্রহের ইতিহাসের প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন গিল্ডেড যুগের (১৮৭০-এর দশকের শেষ ভাগ থেকে ১৮৯০-এর দশকের প্রথম ভাগ) তেল সম্রাট জন ডি. রকফেলার।

রকফেলারের পোর্ট্রেইট। আনুমানিক ১৯০০ সাল। ছবি: অস্কার হোয়াইট/উইকিমিডিয়া কমন্স

ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার ম্যাকনাইট নিকলস গিল্ডেড যুগ নিয়ে বিশদ গবেষণা করেছেন। তার মতে, রকফেলার ছিলেন আমেরিকার—এবং প্রায় নিশ্চিতভাবেই সমগ্র বিশ্বের প্রথম বিলিয়নিয়ার।

১৯১৬ সালের ১ বিলিয়ন ডলারের আজকের দিনের বাজারমূল্য ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

সে সময় দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রথম পাতার খবর অনুযায়ী, রকফেলারের কোম্পানি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলের শেয়ারদর হুট করে অনেক বেড়ে যায়। প্রতিটি শেয়ারের দাম ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তিনি এই মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন।

অধ্যাপক নিকলস বলেন, আজকের দিনে মাস্ককে নিয়ে মানুষের যেমন প্রতিক্রিয়া, রকফেলারের নতুন সম্পদ অর্জন নিয়েও ঠিক তেমনি প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল সে সময়। একদিকে সম্পদের প্রতি তীব্র আকাঙ্ক্ষা, অন্যদিকে মাত্রাতিরিক্ত বিত্তের প্রতি ঘৃণা—এই দুইয়ে মিলে সে সময় জনমানসে সম্পদ নিয়ে এক অদ্ভুত আবেশের জন্ম দেয়।

নিকলস আরও জানান, এখনকার ফোর্বস তালিকার মতোই ওই সময়ও ধনীদের র‍্যাংকিং প্রকাশের চল ছিল।

‘এখন আমরা ঠিক যেভাবে ভাবি, ওই সময়ের মানুষের ভাবনাটাও ঠিক তেমনই ছিল। তাদের মাথায় ঘুরত, “আরে বাবা! তালিকার দুই নম্বরে থাকা লোকটার চেয়েও এর সম্পদ এখন দ্বিগুণ,”‘ বলেন তিনি।

একজন বিলিয়নিয়ার আসলে ঠিক কতটা ধনী হতে পারেন, সে যুগে আমজনতার সম্ভবত তার কোনো ধারণাই ছিল না। ঠিক যেমন আজকের দিনে একজন ট্রিলিয়নিয়ারের সম্পদের হিসাব কল্পনা করাটা অনেকের কাছেই ঘাম ছোটানো ব্যাপার।

অধ্যাপক নিকলস বলেন, ‘আমার মনে হয় ওই সময়ের একজন বিলিয়নিয়ার মানেই আজকের দিনের এক ট্রিলিয়নিয়ারের মতো। এতগুলো শূন্যের হিসাব মেলানো অসম্ভব ব্যাপার।’

তিনি আরও জানান, ১৯১৬ সালের রাস্তায় হাঁটা সাধারণ মানুষ জাতীয় মঞ্চে হঠাৎ করে একজন বিলিয়নিয়ারের এই আবির্ভাবে মোটেও খুশি হয়নি। বিশেষ করে এমন একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে—যাকে প্রগ্রেসিভ এরা বলা হয়—যখন খোদ ফেডারেল সরকারেরই মাত্রাতিরিক্ত সম্পদের লাগাম টেনে ধরার কথা ছিল।

(অধ্যাপক নিকলস অবশ্য একটি মজার ব্যাপার মনে করিয়ে দেন। রকফেলার বিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন—অন্তত আংশিকভাবে হলেও—একটি বিশেষ কারণে। ১৯১১ সালে তিনি স্ট্যান্ডার্ড অয়েলকে কয়েক ডজন ছোট কোম্পানি বানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর সেই ছোট কোম্পানিগুলোর বাজারদরই পরের বছরগুলোতে হু হু করে বেড়ে যায়।)

১৮৭০ সালে ভাই উইলিয়াম এবং শিল্পপতি হেনরি ফ্ল্যাগলারের সঙ্গে জোট বেঁধে স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি গঠন করেন রকফেলার। ছবি: হাল্টন আর্কাইভ/গেটি ইমেজেস

রকফেলারের প্রায় ১০০ বছর আগে নিউইয়র্ক সিটির রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় ভাগ্য গড়েছিলেন জন জ্যাকব অ্যাস্টর। তিনি ছিলেন আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম মিলিয়নিয়ার।

ঠিক কোন সময়ে তিনি এই মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন, তার হিসাব কিছুটা ঘোলাটে। তবে অধ্যাপক নিকলসের মতে, সেটা সম্ভবত তার জীবনের মাঝামাঝি কোনো এক সময়ে, মোটামুটি ১৮২০-এর দশকের দিকে।

১৮৪৮ সালে মৃত্যুর সময় অ্যাস্টরের মোট সম্পদের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় কয়েক কোটি ডলারে।

গুটিকয়েক মানুষের হাতে সম্পদের পাহাড় জমে ওঠা নিয়ে ওই সময়ে খুব একটা মাথাব্যথা ছিল না বলে জানান অধ্যাপক নিকলস। আর ঠিক এ কারণেই অ্যাস্টরের বিত্তবৈভব নিয়ে রকফেলার বা মাস্কের মতো এতটা হইচইও হয়নি সে সময়।

অ্যাস্টরের সম্পদের পরিধি আসলে কতটা বিস্তিরত, সাধারণ মানুষের খুব কম অংশই তা জানত।

অ্যাস্টর যে শেষ মিলিয়নিয়ার ছিলেন না, তা তো বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে ১৯৩৭ সালে রকফেলারের মৃত্যুর পর খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই শত শত রকফেলার আবির্ভূত হয়েছেন—অন্তত সম্পদের নিরিখে।

তাহলে আগামী দিনে দ্বিতীয় ট্রিলিয়নিয়ারের দেখা পাওয়া যাবে কবে?

অধ্যাপক নিকলস মনে করেন, দিনটি খুব একটা দূরে নয়। আর এর পেছনের মূল চালিকাশক্তি হবে এআই।