ইনজুরি পেরিয়ে ফিরলেন নেইমার, বিশ্বকাপে বড় আশা ব্রাজিলের
- আপডেট সময় : ০২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
- / 6
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্রাজিল জাতীয় দলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত ছিলেন নেইমার জুনিয়র। সংকটের মুহূর্তে বারবার তিনিই হয়ে উঠেছেন দলের প্রধান ভরসা। বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার শিরোপা এখনো তার হাতে না এলেও, দীর্ঘ সময় ধরে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব ছিল তার কাঁধেই। তবে একের পর এক ইনজুরির ধাক্কায় গত কয়েক বছর জাতীয় দল থেকে দূরে থাকায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, তার আন্তর্জাতিক অধ্যায় হয়তো শেষের পথে।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার এসেছে বড় ঘোষণা—৩৪ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারকে নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। দীর্ঘ বিরতির পর দলে ফিরে আবেগে ভেঙে পড়েন নেইমার, যা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে নেইমার বলেন, “এই মুহূর্তে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা সত্যিই কঠিন। আমরা যেসব কঠিন সময় পার করেছি, বিশেষ করে মানুষ আমাকে যেভাবে কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছে—সবকিছু পেরিয়ে এখানে ফিরে আসা এবং আবারও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অবিশ্বাস্য। এই চোখের পানি শুধুই আনন্দের।”
সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “যারা আমাকে সমর্থন করেছে এবং আমার ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিল, সেই প্রতিটি ব্রাজিলিয়ানকে আমি মন থেকে ধন্যবাদ জানাই। সামনে আমাদের আরেকটি বিশ্বকাপ। আমরা ব্রাজিলে ট্রফি ফিরিয়ে আনার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করব, এটা নিশ্চিত।”
চোট ও ফিটনেস নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন থাকলেও ক্লাব পর্যায়ে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাকে আবারও নির্বাচকদের আস্থায় ফিরিয়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, দলে নেইমারের ভূমিকা এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে একাদশে জায়গা পাওয়া সহজ হবে না, কারণ একই পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ম্যাথিউস কুনিয়া ও লুকাস পাকেতার মতো খেলোয়াড়রা।
জাতীয় দলে এই প্রত্যাবর্তন ঘটছে দীর্ঘ তিন বছর পর। তাই তার কাছ থেকে প্রত্যাশাও অনেক বেশি। পাশাপাশি রদ্রিগো ও এস্তেভাওয়ের মতো তরুণদের ইনজুরির কারণে নেইমারের অভিজ্ঞতা এখন দলের জন্য আরও মূল্যবান হয়ে উঠেছে। বড় মঞ্চে তার উপস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও রাফিনিয়াকে রেখে পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন কোচ আনচেলত্তি। মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে কুনিয়ার ওপর। এই কাঠামোর মধ্যেই নেইমারের ভূমিকা নিয়ে চলছে আলোচনা, যেখানে তাকে ‘ইনসাইড ফরোয়ার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনাই সবচেয়ে সম্ভাব্য।
ইনজুরির পর তার খেলার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। আগের মতো গতি নির্ভর উইঙ্গার না হয়ে তিনি এখন বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন প্লেমেকিংয়ে। নিখুঁত ড্রিবলিং, অসাধারণ ভিশন এবং থ্রু পাসের মাধ্যমে আক্রমণ গড়ে তোলাই এখন তার মূল শক্তি। কোচ মনে করছেন, এই অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতাই ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর নেইমারের এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিল দলে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই অভিজ্ঞ তারকার উপস্থিতি বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলকে কতটা দূর এগিয়ে নিতে পারে।

























