১১:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল সিলেটের বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ Logo মুরারিচাঁদ কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের অংশগ্রহণে চড়ুইভাতি Logo ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত Logo তৃণমূলে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগুলোর নীতিতে পরিবর্তনের আহ্বান Logo বড়লেখায় মহিষকাণ্ডে যুবলীগ ও বিএনপি নেতাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বড়লেখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবক সমাবেশ Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বদেশমেইল সম্পাদক নজরুল ইসলাম খানের মতবিনিময় Logo জাতীয়তাবাদী পরিবারের উদ্যোগে দাসের বাজারে দুই শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা Logo শ্রীমঙ্গলে প্রবাসীর বাসায় আগুন, পুড়ে ছাই দুই ঘর Logo প্রযুক্তি শিক্ষায় নতুন দিগন্ত, রাজধানীর বসিলায় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • / 49
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি) চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় তিনি প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জান্নাতুল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আফজল আলী উপজেলার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জান্নাতুল তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান।

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জান্নাতুল। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসব্যাপী সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করেন।

সামার স্কুল প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান জান্নাতুল। সেখানে পড়াশোনার জন্যই তিনি এই বড় অঙ্কের বৃত্তি পেয়েছেন।

বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জান্নাতুল বলেন, ‘এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।’

মেয়ের এ অর্জনে উচ্ছ্বসিত বাবা আফজল আলী। মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। তাই বৃত্তি পাওয়ায় তিনি এখন অনেকটাই চিন্তামুক্ত। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে ভালো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে এতে তিনি গর্বিত।

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব জান্নাতুল তারই প্রমাণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে ৭৪ লাখ টাকার বৃত্তি পেলেন হবিগঞ্জের জান্নাতুল

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস (জেমি) চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে (এইউডব্লিউ) উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ৭৪ লাখ টাকা (৬০ হাজার মার্কিন ডলার) বৃত্তি পেয়েছেন। চার বছর মেয়াদি এ বৃত্তির আওতায় তিনি প্রতিবছর ১৫ হাজার মার্কিন ডলার করে পাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির পরিচালক মৌরি রহমান চিঠির মাধ্যমে জান্নাতুলকে বৃত্তি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জান্নাতুল শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাবা আফজল আলী উপজেলার পশ্চিম লেঞ্জাপাড়ার বাসিন্দা। তিনি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিবারের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কলেজ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় জান্নাতুল তাঁর পড়াশোনা চালিয়ে যান।

২০২৫ সালে জহুর চান বিবি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন জান্নাতুল। এরপর গত ২০ জুলাই থেকে শেভরন বাংলাদেশের সহায়তায় পরিচালিত এক মাসব্যাপী সামার স্কুল প্রোগ্রামে অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর জন্য সহজ ছিল না। তবে নিজের আগ্রহ, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সফলভাবে প্রোগ্রামটি সম্পন্ন করেন।

সামার স্কুল প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করার পর শেভরনের সহায়তায় এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান জান্নাতুল। সেখানে পড়াশোনার জন্যই তিনি এই বড় অঙ্কের বৃত্তি পেয়েছেন।

বৃত্তি পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে জান্নাতুল বলেন, ‘এ রকম একটি বৃত্তির কথা শুনে প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না। বারবার চিঠি পড়ে বিশ্বাস তৈরি করছিলাম। এখন নিজেকে প্রস্তুত করা শুরু করেছি। আমাকে আরও এগোতে হবে। পাশাপাশি আমি চাই, আরও শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তি অর্জন করুক।’

মেয়ের এ অর্জনে উচ্ছ্বসিত বাবা আফজল আলী। মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ বহন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। তাই বৃত্তি পাওয়ায় তিনি এখন অনেকটাই চিন্তামুক্ত। তিনি বলেন, তাঁর মেয়ে ভালো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছে এতে তিনি গর্বিত।

জহুর চান বিবি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জান্নাতুলের এ অর্জন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত। সদিচ্ছা, প্রচেষ্টা ও প্রতিভার সমন্বয় থাকলে যেকোনো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব জান্নাতুল তারই প্রমাণ।