হবিগঞ্জে খোয়াই নদের দুই বাঁধ ভেঙে প্লাবিত অন্তত ২০ গ্রাম
- আপডেট সময় : ১২:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / 60
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জে খোয়াই নদের দুটি প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। অনেক বাড়িঘরে কোমরসমান পানি উঠেছে। তলিয়ে গেছে সড়ক ও ফসলি জমি। গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালপত্র নিয়ে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এর আগে দুপুরে বানিয়াচং উপজেলার রাধাপুর এলাকায় একই নদীর আরেকটি বাঁধ ভেঙে হাওরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে।
কালীগঞ্জ এলাকার বাঁধ ভাঙার পর সদর উপজেলার নোয়াবাদ, চরহামুয়া, সুঘর, বনগাঁও, নতুনবাজার, বালিহাটা, কালীগঞ্জ, যাদবপুর, বিষ্ণুরামপুর, দক্ষিণচর, রামনগর, ধোপাখাল ও বনদক্ষিণসহ অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। হবিগঞ্জ শহরের কামড়াপুর ও দানিয়ালপুর এলাকার কয়েকটি স্থানেও পানি প্রবেশ করেছে।
এদিকে চুনারুঘাট উপজেলার নালমুখ বাজারসংলগ্ন এলাকায় খোয়াই নদের ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। এতে হরিজন সম্প্রদায়ের রবিদাসপাড়ার অন্তত ১৫টি পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনাও।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খোয়াই নদের মাছুলিয়া পয়েন্টের শহর রক্ষা বাঁধও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাঁরা বাঁশসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে অস্থায়ীভাবে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আবু জাহেরসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বৃদ্ধি পেয়ে হবিগঞ্জ–মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যায়। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পানি আরও বাড়লে সদর উপজেলার সঙ্গে মিরপুর ও আশপাশের এলাকার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯২ সেন্টিমিটার, শায়েস্তাগঞ্জে ১১৩ সেন্টিমিটার এবং মাছুলিয়া পয়েন্টে ১৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সন্ধ্যার পর নদ-নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বাঁধ ভেঙে কয়েকটি এলাকা ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহের বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। দুর্গত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য ৫ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল এবং ১ হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনা খাবার মজুত রাখা হয়েছে।
























