০২:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বিশ্বকাপের মঞ্চে সিলেটের সঞ্জয় Logo বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন Logo সরকার এবারের বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রেখেছে- নাসির উদ্দিন আহমেদ Logo মৌলভীবাজারে ঘুমন্ত নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: দুই আসামি গ্রেপ্তার Logo সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের প্রতিবাদে ফুলতলা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ Logo সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হলেন কয়েস লোদী Logo কুলাউড়ায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত Logo বড়লেখায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘ব্রাজিল বাড়ি’ Logo চার বছরের অপেক্ষার অবসান, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা উঠছে আজ

শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ উপজেলা জুড়ে আনন্দের জোয়ার

কুলাউড়ায় শ্রীপুর জালালিয়া মাদরাসাকে কামিল (মাস্টার্স) শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 106
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর জালালিয়া ফাজিল মাদরাসা দীর্ঘ প্রচেষ্ঠার পরে কামিল (স্নাতকোত্তর) শ্রেণীতে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি লাভ করেছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে হাদিস বিভাগে কামিল স্তর খোলার এই অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে মাদরাসাটি মৌলভীবাজার জেলার মধ্য দ্বিতীয় এবং কুলাউড়া উপজেলার ইতিহাসে প্রথম বেসরকারি কামিল মাস্টার্স কোর্স চালু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে পরিণত হলো।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হকের প্রচেষ্টা, গভর্ণিং বডির নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাদরাসাটিকে কামিল স্তরে উন্নীত করায় মাদরাসার সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা পরিদর্শন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কামিল (¯œাতকোত্তর) ২ বছর মেয়াদি হাদিস বিভাগ প্রাথমিক পাঠদান অনুমতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কর্তৃক আবেদনের প্রেক্ষিতে গঠিত পরিদর্শন কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আইউব হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ শ্রীপুর জালালিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ২৭ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২৬ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কামিল (স্নাতকোত্তর) দুই বছর মেয়াদী কোর্সের হাদিস বিভাগে প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এরআগে গত ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে কামিল স্তর অনুমোদনের লক্ষ্যে পরিদর্শনে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রইছ উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মস্তফা মঞ্জুর এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক আরিফ আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এডভোকেট এ. এন. এম. খালেদ লাকী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হক, গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকম-লী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরিদর্শন শেষে অতিথিবৃন্দ মাদরাসার সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং মাদরাসাটিকে কামিল (মাস্টার্স) স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, মাদরাসা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত যারা মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছেন তাদের প্রথমে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এছাড়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

দীর্ঘ প্রচেষ্ঠার পর ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাদরাসাটিকে কামিল মাস্টার্সে উন্নীত করায় প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা, মাদরাসার গভর্ণিং বডি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তিনি আরো বলেন, এই অনুমোদনের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের আরো একটি দ্বার উন্মুক্ত হলো। এখন থেকে ফাজিল পাশ শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে যেতে হবে না। কামিল স্তরে অনুমোদনের খবর পেয়ে মাদরাসার সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সমগ্র উপজেলা জুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ উপজেলা জুড়ে আনন্দের জোয়ার

কুলাউড়ায় শ্রীপুর জালালিয়া মাদরাসাকে কামিল (মাস্টার্স) শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমতি

আপডেট সময় : ০৫:২৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর জালালিয়া ফাজিল মাদরাসা দীর্ঘ প্রচেষ্ঠার পরে কামিল (স্নাতকোত্তর) শ্রেণীতে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি লাভ করেছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে হাদিস বিভাগে কামিল স্তর খোলার এই অনুমোদন দিয়েছে। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) রাতে মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হক বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এর মাধ্যমে মাদরাসাটি মৌলভীবাজার জেলার মধ্য দ্বিতীয় এবং কুলাউড়া উপজেলার ইতিহাসে প্রথম বেসরকারি কামিল মাস্টার্স কোর্স চালু করা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে পরিণত হলো।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হকের প্রচেষ্টা, গভর্ণিং বডির নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসীর সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাদরাসাটিকে কামিল স্তরে উন্নীত করায় মাদরাসার সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা পরিদর্শন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, কামিল (¯œাতকোত্তর) ২ বছর মেয়াদি হাদিস বিভাগ প্রাথমিক পাঠদান অনুমতির বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ কর্তৃক আবেদনের প্রেক্ষিতে গঠিত পরিদর্শন কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদরাসা পরিদর্শক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ আইউব হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ শ্রীপুর জালালিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ বরাবরে পাঠানো হয়। ওই আদেশে বলা হয়, ২৭ আগস্ট ২০২৫ থেকে ২৬ আগস্ট ২০২৮ পর্যন্ত তিন বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে কামিল (স্নাতকোত্তর) দুই বছর মেয়াদী কোর্সের হাদিস বিভাগে প্রাথমিক পাঠদানের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এরআগে গত ১৫ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে কামিল স্তর অনুমোদনের লক্ষ্যে পরিদর্শনে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রইছ উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মস্তফা মঞ্জুর এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিদর্শক আরিফ আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি এডভোকেট এ. এন. এম. খালেদ লাকী, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হক, গভর্নিং বডির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকম-লী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরিদর্শন শেষে অতিথিবৃন্দ মাদরাসার সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষা কার্যক্রম ও অবকাঠামো দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং মাদরাসাটিকে কামিল (মাস্টার্স) স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা দেন।

এক প্রতিক্রিয়ায় মাদরাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, মাদরাসা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত যারা মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করেছেন তাদের প্রথমে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এছাড়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

দীর্ঘ প্রচেষ্ঠার পর ইসলামি আরবি বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাদরাসাটিকে কামিল মাস্টার্সে উন্নীত করায় প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তা, মাদরাসার গভর্ণিং বডি, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানাই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তিনি আরো বলেন, এই অনুমোদনের মাধ্যমে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের আরো একটি দ্বার উন্মুক্ত হলো। এখন থেকে ফাজিল পাশ শিক্ষার্থীরা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য জেলা কিংবা বিভাগীয় শহরে যেতে হবে না। কামিল স্তরে অনুমোদনের খবর পেয়ে মাদরাসার সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সমগ্র উপজেলা জুড়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।