আওয়ামী লীগ বারবার গনতন্ত্রকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে- জিকে গউছ
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৫
- / 204
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ বলেছেন, আওয়ামীলীগ আর বিএনপি এক রাজনীতি করে না। আওয়ামীলীগ বারবার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করেছে। এই আওয়ামীলীগ কলকাতার মাটিতে, অন্য দেশের মাটিতে দলীয় অফিস খুলেছে। ধীক্কার জানাই এসব কর্মকান্ডকে যারা উৎসাহিত করেন। যদি বাংলাদেশের মানুষের সাথে যদি বন্ধুত্ব রাখতে চান, এই খুনিদের পুর্নবাসন করে এটা কোন বন্ধুত্ব রাখার লক্ষণ হতে পারে না। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যাদের বিচার শুরু হয়েছে, যদি তারা দোষী সাব্যস্ত হন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই দোষীদেরকে কোর্টে তাদের হস্তান্তর করবেন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই প্রশাসন কি করেছে এটা যেন ভূলে না যাই। এই প্রশাসন ও পুলিশ এককভাবে আমাদের জন্য থ্রেড ছিলো না। পুরা প্রশাসনকে হাসিনা আমাদের মূখোমুখি করেছে। আমি বারবার বলতাম পুলিশ ছাড়া আওয়ামীলীগ আমাদের সামনে পাঁচ মিনিট টিকার মতো ক্ষমতা রাখে না। প্রমাণ করেছি আমরা, হাসিনা পালিয়েছে ৫ তারিখ। ৩ তারিখে আমরা হবিগঞ্জকে স্বাধীন ঘোষণা করেছিলাম। থানা পুলিশ ৩ তারিখ রাতেই থানা আমাদেরকে বুঝিয়ে তারা চলে গিয়েছিলো। এটা ইতিহাস।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হলে জনগণের ভালবাসা লাগবে। জনগণের ভোট ছাড়া এমপি হওয়া যাবে না। জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যাবে না। সেই দিন বাঘে খেয়েছে। একজন পাঁচজনের ভোট দিবেন, মরা মানুষের ভোট, বিদেশে থাকা মানুষের ভোট দিবেন, এই দিন বাংলাদেশে আর ফিরে আসবে না। আমাদের মানুষ রক্ত দিয়ে ন্যায়ারের পক্ষে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে দেয়াল সৃষ্টি করেছে। এই দেয়াল আর কোন স্বৈরাচার আর কোনদিন ভাঙতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।
জিকে গউছ বলেন, যদি কেউ আওয়ামীলীগ পূর্ণবাসনের জন্য চেষ্টা করেন, এটা গ্ৰহিত অপরাধ, ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এটা খেয়াল রেখে দলের কমিটি বানাবেন। এটা চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ। কোন আওয়ামীলীগ আত্মীয়তার ছলে, ব্যবসায়ীক পার্টনার হয়ে, যদি কেউ দলে স্থান দেয়, তাদেরকে দল বরদাস্ত করবে না।
তিনি বলেন, তারেক রহমান জাতির সামনে যে ৩১ দফা দিয়েছেন, সেই ৩১ দফাই হচ্ছে জাতির মুক্তির রক্ষাকবজ। তারেক রহমান সাহেব অত্যান্ত দূর দৃষ্টি সম্পন্ন। আজকে থেকে দুই বছর আগেই তো জাতির সামনে সেটি দিয়েছেন। আজকে সংস্কার হচ্ছে, মিটিং হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে, ঘুরে ফিরে আজকের এই সংস্কার কমিশন সেটাই দিচ্ছে।
গউছ বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে আওয়ামীলীগ বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা সেখানে নিয়ে গেছে। এগুলো ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য, সেদেশের সরকার বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা করবেন। আমাদের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গেছে। আওয়ামীলীগের লুটের টাকা দেশে ফিরে আসুক। দেশের মূল অর্থনীতির সাথে এই টাকা মিশে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হোক, সেটা আমরা প্রত্যাশা করি। বিএনপি যদি রাষ্ট ক্ষমতায় যায়, বিএনপি কারো প্রতি প্রতিশোধের মনোভাব নিয়ে আগাবে না। বিএনপি দেশের আইন সমূন্নত রেখে দেশের আইন অনুযায়ী আদালত তাদের বিচার করবে। এই আওয়ামীলীগ আমাদেরকে যত কষ্ট দিয়েছিলো, আমাদের বাড়ি ঘর ব্যবসা বাণিজ্য সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিলো।
তিনি বলেন বলেন, অন্যায় আর দূর্নীতি মানুষকে কষ্ট দেয়া আর বিএনপির রাজনীতি একসাথে চলবে না। যারা খারাপ মানুষ তারা বিএনপি করতে পারে না, যারা দুষ্টু মানুষ তারা বিএনপি করতে পারবেন না। যারা এই নির্বাচনকে বানচালের চেষ্টা করছেন, অনুরোধ করবো আয়নায় নিজের চেহারা দেখুন। বেগম খালেদা জিয়া ঘোষনা দিয়েছিলেন, এরশাদের অধীনে যারা নির্বাচনে যাবেন তারা জাতীয় বেঈমাষ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। সেই দিন এরশাদের সমস্ত কু কর্মকে বৈধতা দিয়েছেন, তারা কেউ কেউ বলেন বাংলাদেশে নাকি নির্বাচন হবে না। যে জাতি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে, যে জাতি নিজের অধিকারের জন্য বুক পেতে দিয়েছে, সেই জাতিকে কেউ কোনদিন রুখতে পারেনি। দেশি বিদেশি কোন ষড়যন্ত্র সেই জাতিকে কোনদিন রুখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। দেশের মানুষের ভালবাসা যদি বিএনপির সাথে থাকে, দেশে বিদেশের কোন চক্রান্ত বিএনপিকে রুখে দিতে পারবে না। বিএনপি সারা বাংলাদেশের মানুষের মণিকোঠায়। বিএনপি যা বিশ্বাস করে তাই বিএনপি মুখে প্রকাশ করে। এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক, তার কাজ নিরলসভাবে বিএনপি তার কাজ অব্যহত করেছে। শুধু রাষ্ট্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে না, নিজের দলেও গণতন্ত্রের চর্চা করে। বিএনপি শুধু নেতা বানাবে আর আপনারা শুধু ভিজিটিং কার্ড ছেপে বিভিন্ন জায়গায় যাবেন, এটা বিএনপির প্রত্যাশা না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের সামনে যে আদর্শ রেখে গেছেন, সেই ১৯ দফা আমাদের সামনে রয়েছে। আজকে অনেকেই সংস্কার সংস্কার বলে মায়কান্না করেন, বিএনপি একটি দূরদর্শি রাজনৈতিক দল। আজ থেকে দু বছর আগে বিএনপি ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য তুলে ধরেছিলো, পরবর্তীতে অন্যান্য রাজনৈতিক দল যারা হাসিনা পতনে একসাথে ছিলেন তাদের সাথে আলোচনা করে জাতির সামনে ৩১ দফা তুলে ধরেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী। বড়লেখা পৌর বিএনপির আহবায়ক মীর মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি এম নাসের রহমান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুল মুকিত, বকসি মিছবাহউর রহমান, নাসির উদ্দিন মিঠু, মোশাররফ হোসেন বাদশা, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাফিজ।























