সবুজ বাগান থেকে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে
সিলেটের ৮ চা-কন্যার সাফল্য
- আপডেট সময় : ১২:০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
- / 7
দারিদ্র্য, বঞ্চনা আর সীমাবদ্ধতার চক্র ভেঙে নতুন ইতিহাস লিখছে সিলেটের চা-বাগানের আট কন্যা। চা-শ্রমিক পরিবারের কঠিন বাস্তবতা থেকে উঠে এসে তারা অর্জন করেছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার বিরল সুযোগ। পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে তারা ভর্তি হচ্ছেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এ যা তাদের জীবন বদলের পাশাপাশি পুরো চা-জনগোষ্ঠীর জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
এই কৃতী শিক্ষার্থীরা হলেন- মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রাবনী কৈরী, শ্রাবন্তী কৈরী, লাকি নাইডু ও পুনম লোহার, জুড়ী উপজেলার ধামাই চা-বাগানের অনিমা রানী পাল, চুনারুঘাট উপজেলার চাকলাপুঞ্জি চা-বাগানের সৃষ্টি চাষা, কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর চা-বাগানের প্রমা গোস্বামী এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানের শতাব্দী হাজরা।
জানা গেছে, তাদের মেডিকেল পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী মাসেই তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবেন।
চা-বাগান অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে ২০১৮ সালে শুরু হয় একটি বিশেষ উদ্যোগ। শুরুতে মাত্র সাতজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় এটি বিস্তৃত হয়েছে। এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগের বিভিন্ন চা-বাগান থেকে ৮৫ জন শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় পূর্ণ বৃত্তিতে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।
এই কর্মসূচির সুফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১৫ জন স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তিনজন সম্পন্ন করেছেন স্নাতকোত্তর। কেউ কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কেউ এগিয়ে যাচ্ছেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে। এমনকি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও জায়গা করে নিয়েছেন এই কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা।
স্কলারশিপপ্রাপ্ত দুই বোন শ্রাবন্তী কৈরী ও শ্রাবণী কৈরী জানান, “এই সুযোগ শুধু আমাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে একদিন চা-বাগানের মেয়েরাও বিশ্বমঞ্চে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করবে।”
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি কেবল কয়েকজন শিক্ষার্থীর অর্জন নয়; বরং একটি বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা। যেখানে একসময় চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে আজ তারা আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য প্রমাণ করে- যথাযথ সুযোগ, দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তরুণীরাও বৈশ্বিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারে।























