১২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নিজের মাথায় গুলি করে পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা, ভিডিও ভাইরাল Logo বড়লেখায় অন্তঃসত্ত্বা নারীর আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নিয়ে বিভ্রান্তি, অতঃপর যা ঘটলো Logo সংস্কৃতির মিলনমেলায় মুখর নটমণ্ডপ প্রাঙ্গণ Logo কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন Logo আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডে নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক Logo উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্যের ঝলক Logo বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

নোবেল পুরস্কার: জানার আছে যা কিছু, এবারের ঘোষণা শুরু কবে

ষাটমাকন্ঠ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 75
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য এবং শান্তিতে অসাধারণ অবদানের জন্য এই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয়। বিজয়ীরা ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোন (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) পুরস্কারের অর্থ পান এবং এর মাধ্যমে তাঁরা তাৎক্ষণিক খ্যাতি লাভ করেন; যা বেশির ভাগ বিজ্ঞানীর কাছে অচিন্তনীয়।

আলফ্রেড নোবেল কে

নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তন করেছিলেন সুইডিশ ধনী রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেল। তিনি তাঁর উইলে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁর সম্পত্তির বেশির ভাগ অংশ ব্যয় করা হবে এমন সব ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করতে, যাঁরা ‘পূর্ববর্তী বছরে মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ সাধন করেছেন’।

আলফ্রেড নোবেল প্রধানত ডিনামাইটের আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত। তবে তিনি কবিতা ও নাটকও লিখতেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি রুশ, ফরাসি, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারতেন। পুরস্কারের পাঁচটি মূল বিভাগ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় আগ্রহের বিষয়গুলোকে প্রতিফলিত করে।

নোবেল তাঁর কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় অস্ত্র প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ব্যয় করেন এবং এর থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রিয়ান শান্তিকর্মী বার্থা ফন সুটনারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন।

পরবর্তীকালে বার্থা ১৯০৫ সালে শান্তিতে পুরস্কার জেতা প্রথম নারী হন। অনেকে বিশ্বাস করেন, বার্থার প্রভাবের কারণে নোবেল তাঁর উইলে শান্তিতে পুরস্কারের বিভাগটি অন্তর্ভুক্ত করেন।

১৮৯৬ সালে মারা যান নোবেল। কিন্তু তাঁর উইল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কারণে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রথম পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নোবেল পুরস্কার কারা দেয়

আলফ্রেড নোবেল তাঁর উইলে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার দেওয়ার জন্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসকে, সাহিত্যের জন্য সুইডিশ একাডেমিকে, চিকিৎসাবিদ্যার জন্য সুইডেনের চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় করোলিনস্কা ইনস্টিটিউটকে এবং শান্তিতে পুরস্কারের জন্য নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্টকে মনোনীত করেছিলেন।

নোবেল কেন শান্তিতে পুরস্কার বিতরণের জন্য নরওয়েকে বেছে নিয়েছিলেন, তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে এর কারণ হতে পারে, তিনি যখন তাঁর উইলটি লিখেছিলেন, তখন নরওয়ে এবং সুইডেন একটি রাজনৈতিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করে। ব্যাংকের অনুদানে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কারও নোবেল ফাউন্ডেশনের অধীনে দেওয়া হয় এবং অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের মতো একই নীতিতে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এটি দেয়।

বিখ্যাত ও বিতর্কিত বিজয়ীরা

উল্লেখযোগ্য নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, নিলস বোর এবং মেরি কুরি; লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে এবং আলবেয়ার কামু; অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং মাদার তেরেসা।

যদিও বেশির ভাগ অর্জন এখনো প্রশংসিত হয়নি, তবে কিছু পুরস্কার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কিত হয়েছে। যেমন ১৯৪৯ সালে এগাস মোনিজকে মেডিসিনে লোবোটমির জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়; যা পরে একটি ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে বাতিল হয়ে যায়।

শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রেও অনেক সমালোচনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে হেনরি কিসিঞ্জার, ইয়াসির আরাফাত, আইজ্যাক রবিন এবং শিমন পেরেসকে দেওয়া পুরস্কারগুলো উল্লেখযোগ্য।

১৯৪৮ সালে মৃত্যুর আগে মহাত্মা গান্ধীকে এই পুরস্কার দিতে না পারাকে অনেকে বড় ভুল হিসেবে দেখেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নোবেল পুরস্কার: জানার আছে যা কিছু, এবারের ঘোষণা শুরু কবে

আপডেট সময় : ০৬:০২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য এবং শান্তিতে অসাধারণ অবদানের জন্য এই পুরস্কারগুলো দেওয়া হয়। বিজয়ীরা ১১ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোন (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) পুরস্কারের অর্থ পান এবং এর মাধ্যমে তাঁরা তাৎক্ষণিক খ্যাতি লাভ করেন; যা বেশির ভাগ বিজ্ঞানীর কাছে অচিন্তনীয়।

আলফ্রেড নোবেল কে

নোবেল পুরস্কারের প্রবর্তন করেছিলেন সুইডিশ ধনী রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেড নোবেল। তিনি তাঁর উইলে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁর সম্পত্তির বেশির ভাগ অংশ ব্যয় করা হবে এমন সব ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করতে, যাঁরা ‘পূর্ববর্তী বছরে মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কল্যাণ সাধন করেছেন’।

আলফ্রেড নোবেল প্রধানত ডিনামাইটের আবিষ্কারক হিসেবে পরিচিত। তবে তিনি কবিতা ও নাটকও লিখতেন। ১৭ বছর বয়সে তিনি রুশ, ফরাসি, ইংরেজি ও জার্মান ভাষায় কথা বলতে পারতেন। পুরস্কারের পাঁচটি মূল বিভাগ তাঁর সবচেয়ে প্রিয় আগ্রহের বিষয়গুলোকে প্রতিফলিত করে।

নোবেল তাঁর কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় অস্ত্র প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ব্যয় করেন এবং এর থেকে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। জীবনের পরবর্তী সময়ে তিনি অস্ট্রিয়ান শান্তিকর্মী বার্থা ফন সুটনারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে ওঠেন।

পরবর্তীকালে বার্থা ১৯০৫ সালে শান্তিতে পুরস্কার জেতা প্রথম নারী হন। অনেকে বিশ্বাস করেন, বার্থার প্রভাবের কারণে নোবেল তাঁর উইলে শান্তিতে পুরস্কারের বিভাগটি অন্তর্ভুক্ত করেন।

১৮৯৬ সালে মারা যান নোবেল। কিন্তু তাঁর উইল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কারণে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রথম পুরস্কার দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নোবেল পুরস্কার কারা দেয়

আলফ্রেড নোবেল তাঁর উইলে রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞানের পুরস্কার দেওয়ার জন্য রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেসকে, সাহিত্যের জন্য সুইডিশ একাডেমিকে, চিকিৎসাবিদ্যার জন্য সুইডেনের চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় করোলিনস্কা ইনস্টিটিউটকে এবং শান্তিতে পুরস্কারের জন্য নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্টকে মনোনীত করেছিলেন।

নোবেল কেন শান্তিতে পুরস্কার বিতরণের জন্য নরওয়েকে বেছে নিয়েছিলেন, তা সঠিকভাবে জানা যায় না। তবে এর কারণ হতে পারে, তিনি যখন তাঁর উইলটি লিখেছিলেন, তখন নরওয়ে এবং সুইডেন একটি রাজনৈতিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

১৯৬৮ সালে সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ৩০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলফ্রেড নোবেলের স্মৃতিতে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার চালু করে। ব্যাংকের অনুদানে প্রতিষ্ঠিত এই পুরস্কারও নোবেল ফাউন্ডেশনের অধীনে দেওয়া হয় এবং অন্যান্য নোবেল পুরস্কারের মতো একই নীতিতে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এটি দেয়।

বিখ্যাত ও বিতর্কিত বিজয়ীরা

উল্লেখযোগ্য নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন, নিলস বোর এবং মেরি কুরি; লেখক আর্নেস্ট হেমিংওয়ে এবং আলবেয়ার কামু; অনুপ্রেরণাদায়ী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং মাদার তেরেসা।

যদিও বেশির ভাগ অর্জন এখনো প্রশংসিত হয়নি, তবে কিছু পুরস্কার সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিতর্কিত হয়েছে। যেমন ১৯৪৯ সালে এগাস মোনিজকে মেডিসিনে লোবোটমির জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়; যা পরে একটি ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে বাতিল হয়ে যায়।

শান্তি পুরস্কারের ক্ষেত্রেও অনেক সমালোচনা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে হেনরি কিসিঞ্জার, ইয়াসির আরাফাত, আইজ্যাক রবিন এবং শিমন পেরেসকে দেওয়া পুরস্কারগুলো উল্লেখযোগ্য।

১৯৪৮ সালে মৃত্যুর আগে মহাত্মা গান্ধীকে এই পুরস্কার দিতে না পারাকে অনেকে বড় ভুল হিসেবে দেখেন।