অপপ্রচারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
হাকালুকি হাওর তীরবর্তী আন ফানাই নদীর খাল খনন শুরু
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
- / 47
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় হাকালুকি হাওর তীরবর্তী আন ফানাই নদীর চকিরমোড়া এলাকা থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই পর্যন্ত খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে হাওরপাড়ের তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের কৃষক, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
রবিবার (১৭ মে) সকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজ শুরু হয়। এর আগে গত ১৪ মে সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম শকু প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তবে কাজ শুরুর আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মহল ভিন্ন এলাকার ছবি ব্যবহার করে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাকালুকি হাওর তীরবর্তী ফানাই নদীর পাশে দীর্ঘদিন ধরে ভরাট হয়ে পড়ে থাকা আন ফানাই খালে খনন কার্যক্রম চলছে। এ সময় ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় এলাকাবাসীকে কাজ তদারকি করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের মতে, খালটি পুনঃখনন করা হলে ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন সহজ হওয়ায় জলাবদ্ধতা কমবে এবং মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্প এলাকায় কথা হয় স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহেদ আহমদ, আতিকুর রহমান শান্তি, কৃষক আকমল আলী ও লোকমান আহমদের সঙ্গে। তারা বলেন, “আন ফানাই খাল খনন এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকুর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বর্তমান সরকারের মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”
তারা আরও বলেন, প্রতি বছর খরা মৌসুমে বোরো আবাদে পানির সংকটে কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খালটি খনন হলে তিন ইউনিয়নের সহস্রাধিক কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়নে এলাকাবাসীও সচেতনভাবে নজরদারি করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল জানান, উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মধ্যে ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, “কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।”
ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান মনির বলেন, “খাল খনন সম্পন্ন হলে হাওরপাড়ের তিন ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী উপকৃত হবেন। বিশেষ করে ভূকশিমইল ইউনিয়নের জাবদা, কালেশার, মুক্তাজিপুর, শশারকান্দি, বাদে ভূকশিমইল; বরমচাল ইউনিয়নের মহলাল, মাধবপুর, আলীনগর, রাউৎগাঁও; এবং ভাটেরা ইউনিয়নের শাহমীর, হরিপুর, খামাউড়াসহ অন্তত ১৫টি গ্রামের মানুষ এর সুফল ভোগ করবেন।”
তিনি বলেন, “এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ছোট খাল ও বিলের জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। পাশাপাশি বোরো মৌসুমে কৃষকরা পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা পাবেন এবং মাছের উৎপাদনও বাড়বে। অথচ একটি গোষ্ঠী এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা দুঃখজনক।”





















