কুলাউড়ায় স্কুল ফিডিংয়ের বনরুটিতে ব্লেড: পরিকল্পিত ঘটনার অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০২:১৪:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / 15
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বনরুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হতে পারে। প্রশাসন বলছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) কুলাউড়া পৌরসভার জয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তারের বনরুটিতে ব্লেড থাকার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় মক্তব শিক্ষক জুনাব আলী ঘটনাটির একটি ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রকাশ করলে সেটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সেদিনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বিতরণ করা হয়। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়েই খাবার খেয়ে ফেললেও সুরাইয়া একটি বনরুটি খেয়ে অন্যটি বাড়িতে নিয়ে যায়।
সুরাইয়া জানায়, বিকেলে স্থানীয় বায়তুস সালাম জামে মসজিদে প্রাইভেট মক্তবে পড়তে গিয়ে অবশিষ্ট বনরুটিটি খাওয়ার সময় তার হাতে একটি ব্লেড লাগে। পরে বিষয়টি মক্তব শিক্ষক জুনাব আলীকে জানালে তিনি ভিডিও ধারণ করেন। সুরাইয়া আরও জানায়, সে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইসলাম ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী খায়রুল বাশার দাবি করেন, সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে বনরুটি উৎপাদন করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের ধাতব বস্তু ঢুকে যাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যদি উৎপাদনের সময় ব্লেড ঢুকত, তবে সেটিতে তাপের চিহ্ন বা বিকৃতির লক্ষণ থাকত। উদ্ধার হওয়া ব্লেডে তেমন কোনো চিহ্ন নেই। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আগেই সরকারি উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
মক্তব শিক্ষক জুনাব আলী বলেন, সচেতনতার উদ্দেশ্যে তিনি ভিডিওটি ধারণ করে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছিলেন। পরে অন্যরা সেটি শেয়ার করায় বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
জয়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেলী বেগম বলেন, ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরে ঘটেছে। শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে খাবার নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পর বিকেলে মক্তবে ব্লেড পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। তাই বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে এবং শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রস্তাবিত সভাপতি সিপার উদ্দিন আহমদ, সাবেক সভাপতি খালেদ পারভেজ বক্স ও সদস্য জুয়েল আহমদ বলেন, ঘটনাটি জানার পর বনরুটির প্যাকেটটি বিদ্যালয়ে এনে পরীক্ষা করা হয়। তাদের দাবি, ব্লেডটি যেভাবে বনরুটির মধ্যে পাওয়া গেছে, তা উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে পরিকল্পিতভাবে ব্লেড রাখা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা এবং বনরুটি পরীক্ষা করে তার কাছে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে মনে হয়েছে। তবে বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা আক্তার বলেন, ভিডিওটি দেখেই শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তারপরও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















