কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ঈদের নামাজ বাদ দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২৮
- আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
- / 32
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় কোরবানির মাংস বণ্টনের স্থান নির্ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে পবিত্র ঈদুল আজহার সকালে, যার ফলে ঈদের নামাজ ও কোরবানির কার্যক্রমও ব্যাহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ‘মোল্লা পক্ষ’ ও ‘মাতুব্বর পক্ষ’—এই দুই ভাগে বিভক্ত। মোল্লা পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন কামরুজ্জামান মোল্লা এবং মাতুব্বর পক্ষের নেতৃত্ব দেন জাহাঙ্গীর মাতুব্বর।
প্রতিবছর কোরবানির পশুর মাংসের নির্ধারিত অংশ একত্র করে গ্রামের দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। তবে এবার সেই মাংস মসজিদ থেকে বিতরণ করা হবে, নাকি প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে বিতরণ করবেন—এ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শুরুর আগ মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, উভয় পক্ষের লোকজন রামদা, ছ্যানদা, ঢাল-সরকি ও ইট-পাটকেলসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।
সংঘর্ষে আহত অন্তত ২৮ জনের মধ্যে কয়েকজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আলগী ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মজিবর মোল্লা বলেন, “ঈদের মতো আনন্দের দিনে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। ঈদের নামাজ ও কোরবানির কার্যক্রম শুরুর আগেই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


























