কারাম উৎসবে মেতে ওঠেছে আদিবাসী পল্লী
- আপডেট সময় : ০৮:৩৮:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 226
মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় কারাম উৎসবকে কেন্দ্র করে শিশু, কিশোর, নারী, পুরুষ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছে আদিবাসী পল্লী। কারাম মূলত ভাদ্র মাসের একাদশী তিথিতে পালিত ফসল কাটার উৎসব, যা শুধু বাংলাদেশ নয় বরং ভারতের ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, বিহারের বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ও উদযাপন করে। এছাড়া আদিবাসী পল্লীর অন্যান্য স্থানেও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে কারাম উৎসবের আয়োজন করা হয়।
মধ্য ভাদ্রের এমন দিনেই আদিবাসী জনগোষ্ঠী মাহাতো, কুর্মি মতাতো, সাঁওতাল, ওঁরাও, বাড়াইক, সিং,পাহান,মাহালি, মুন্ডা, ভুঁইয়া ভূমিজসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ মেতে ওঠেন কারাম উৎসবে।
পঞ্জিকা মতে, সোমবার ডালায় গজানো চারা গাছের বিশেষ পরিচর্যার মধ্য দিয়ে কারাম উৎসবের শুরু হয়েছিল। আর বুধবার মূল পূজা সম্পূর্ণ করা হয়।
নারায়ণ কূর্মি বলেন, এই উৎসবে কারাম গাছের ডাল কেটে তার পূজা করা হয়। গাছের ডাল মাটিতে পুঁতে পূজা করা হয় বলে একে কোথাও কোথাও ‘ডালপূজা’ নামেও অভিহিত করা হয়।আদিবাসীরা সাধারণত গ্রামের খোলা মাঠে কারাম গাছের বড় বড় ডাল মাটিতে পুঁতে তা নানা ধরনের ফুল দিয়ে বেঁধে দেন। পাশাপাশি মাটির প্রদীপ বা দিয়ালী জ্বালিয়ে সারাদিন, এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত চলে নানা ধরনের পূজা ও উপাচার। এতে শামিল হন আদিবাসী শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সী নারী-পুরুষ।
কারাম উৎসবে মূলত বীজের অঙ্কুরোদ্গম, বীজ থেকে চারা তৈরি, সন্তান স্নেহে লালনপালন ও সংরক্ষণ যার প্রতীকী অর্থ কৃষি প্রধান দেশ বা এ অঞ্চলের মানুষের ধর্মীয় রীতিতে প্রকৃতিকে বন্দনা করাকেই বোঝায়।
আদিবাসীদের বেশির ভাগ ধর্মীয় রীতি, আচার অনুষ্ঠান বিপন্ন কিংবা হারিয়ে গেছে। তারপরও আদিবাসীদের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য ও সংস্কৃতির অন্যতম অংশ কারাম পূজা বা উৎসব এখনও রঙ ছড়ায়।
























