০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

অদম্য প্রচেষ্টায় ১০ বছরেই কোরআনের হাফেজ তালহা

রাহিন আহমদ নোবেল, কাঠালতলি প্রতিনিধি :
  • আপডেট সময় : ১২:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • / 7
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বয়স ১০-এর ঘরে, অথচ এই ছোট বয়সেই মাত্র ৯ মাসে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন ইয়াহইয়া হোসেন তালহা। অদম্য মেধা, একাগ্রতা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে এত অল্প সময়ে হিফজ সম্পন্ন করা সত্যিই বিস্ময়কর একটি অর্জন।

তালহার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজার এলাকার নলডরি গ্রামে। সে ওই গ্রামের লুকমান হোসেনের পুত্র। তবে বাড়ি কুলাউড়ায় হলেও তার শিক্ষা জীবন গড়ে উঠছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বড়লেখা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত “রুকনপুর আইডিয়াল মাদ্রাসায়”। দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের প্রবেশপথ সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে অবস্থিত মাদ্রাসাটি ইতোমধ্যে এলাকায় একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সবুজ পাহাড়, চা-বাগান, ঝরনা আর শান্ত পরিবেশের মাঝে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু হিফজ বিভাগ নয়, এখানে আইডিয়াল চাইল্ড থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষারও সুযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে কোরআনের শিক্ষা অর্জন করছে, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষাতেও এগিয়ে যাচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সুন্দর চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষাদানের লক্ষ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নিবিড় তদারকি ও যত্নশীল পরিবেশ, যার ফলস্বরূপ খুব অল্প বয়সেই তালহার মতো শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছে।

সরেজমিনে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে। ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

মাত্র ১০ বছর বয়সে ৯ মাসে হিফজ সম্পন্ন করা ইয়াহইয়া হোসেন তালহার এই অর্জন শুধু তার পরিবার নয়, পুরো এলাকা ও প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা, মনোরম পরিবেশ ও আন্তরিক শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিশুদের মধ্য থেকেও এমন অসাধারণ সাফল্য সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অদম্য প্রচেষ্টায় ১০ বছরেই কোরআনের হাফেজ তালহা

আপডেট সময় : ১২:১৮:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বয়স ১০-এর ঘরে, অথচ এই ছোট বয়সেই মাত্র ৯ মাসে পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করেছেন ইয়াহইয়া হোসেন তালহা। অদম্য মেধা, একাগ্রতা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসার মাধ্যমে এত অল্প সময়ে হিফজ সম্পন্ন করা সত্যিই বিস্ময়কর একটি অর্জন।

তালহার বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার রবিরবাজার এলাকার নলডরি গ্রামে। সে ওই গ্রামের লুকমান হোসেনের পুত্র। তবে বাড়ি কুলাউড়ায় হলেও তার শিক্ষা জীবন গড়ে উঠছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বড়লেখা উপজেলার কাঠালতলী ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত “রুকনপুর আইডিয়াল মাদ্রাসায়”। দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের প্রবেশপথ সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে অবস্থিত মাদ্রাসাটি ইতোমধ্যে এলাকায় একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সবুজ পাহাড়, চা-বাগান, ঝরনা আর শান্ত পরিবেশের মাঝে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু হিফজ বিভাগ নয়, এখানে আইডিয়াল চাইল্ড থেকে শুরু করে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত জেনারেল শিক্ষারও সুযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা একদিকে কোরআনের শিক্ষা অর্জন করছে, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষাতেও এগিয়ে যাচ্ছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সুন্দর চরিত্র গঠন, শৃঙ্খলা ও মানসম্মত শিক্ষাদানের লক্ষ্যে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। বিশেষ করে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নিবিড় তদারকি ও যত্নশীল পরিবেশ, যার ফলস্বরূপ খুব অল্প বয়সেই তালহার মতো শিক্ষার্থীরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করছে।

সরেজমিনে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, ইতোমধ্যে নতুন ভবনের নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে। ভবনের কাজ সম্পন্ন হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।

মাত্র ১০ বছর বয়সে ৯ মাসে হিফজ সম্পন্ন করা ইয়াহইয়া হোসেন তালহার এই অর্জন শুধু তার পরিবার নয়, পুরো এলাকা ও প্রতিষ্ঠানটির জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, সঠিক দিকনির্দেশনা, মনোরম পরিবেশ ও আন্তরিক শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে শিশুদের মধ্য থেকেও এমন অসাধারণ সাফল্য সম্ভব।