যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে নির্যাতন, হাত ভাঙার অভিযোগ- স্বামী পলাতক
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 10
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যৌতুকের দাবিতে তামান্না আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. ইসমাইল হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একপর্যায়ে তার একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।
গত ১৭ মার্চ বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মতিগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও তামান্নার বাবার বাড়ির লোকজন তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৩ বছর আগে একই উপজেলার মতিগঞ্জ গ্রামের মো. আব্দুল মান্নাফ মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে তামান্নার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন ইসমাইল। পারিবারিক কলহও ছিল নিত্যদিনের ঘটনা।
ভুক্তভোগী তামান্না জানান, বিয়ের পর তার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা যৌতুক নেওয়া হয়। এরপরও নতুন করে আরও ২ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তিনি এতে অসম্মতি জানালে গত ১৭ মার্চ সন্ধ্যা থেকে রাতভর তাকে হাত-পা বেঁধে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার একটি হাত ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করলেও তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তামান্নার মা অভিযোগ করেন, “মেয়ের সুখের জন্য আগেই জমি বিক্রি করে ২০ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন আবার ২ লাখ টাকার জন্য মেয়েকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এর আগেও তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। উল্টো এখন আমার মেয়েসহ আমাদের পরিবারের ১০ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।”
অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি; তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। উভয় পক্ষ থেকেই মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
























