০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

চলে গেলেন হামিদ স্যার, বড়লেখায় শোকের ছায়া

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 254
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাথারিয়া ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের (পিসি স্কুল) অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত‍্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর।

মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ যিনি সর্বজনের কাছে ‘হামিদ স্যার’ নামে পরিচিত। তাঁর মৃত‍্যুতে বড়লেখা উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই মানুষ গড়ার কারিগরকে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এটিএম কায়ছার হামিদ কানাডার এরিকসন কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। কন্যা ডা. ফারজানা হামিদ কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর ছোট ছেলে এবিএম আবছার হামিদ সিলেট নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।

শিক্ষক আব্দুল হামিদ ১৯৫১ সালের ৭ এপ্রিল বড়লেখা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত বারইগ্রাম (৩ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আব্দুল কাইয়ুম এবং মাতা মরহুমা মোস্তফা বেগম। শৈশব ও কৈশোরের পড়াশোনা শেষে তিনি সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

তিন যুগেরও বেশি সময়, প্রায় ৩৬ বছর তিনি বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ‍্যবাহী পাথারিয়া ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করেন। সততা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রমের ফলেই পিসি স্কুল আজ জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে তিনি বড়লেখা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।

হামিদ স্যারের হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন-যা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলেই মনে করেন এলাকাবাসী।

এদিকে তার ছোট ছেলে এবিএম আবছার হামিদ রিমন ষাটমাকন্ঠকে জানান, “মঙ্গলবার রাতে আব্বুর সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু বুধবার সকালে হঠাৎ খবর পাই-আব্বু আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে জানাজা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চলে গেলেন হামিদ স্যার, বড়লেখায় শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাথারিয়া ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ের (পিসি স্কুল) অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত‍্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৭৫ বছর।

মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ যিনি সর্বজনের কাছে ‘হামিদ স্যার’ নামে পরিচিত। তাঁর মৃত‍্যুতে বড়লেখা উপজেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই মানুষ গড়ার কারিগরকে।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার এটিএম কায়ছার হামিদ কানাডার এরিকসন কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন। কন্যা ডা. ফারজানা হামিদ কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর ছোট ছেলে এবিএম আবছার হামিদ সিলেট নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।

শিক্ষক আব্দুল হামিদ ১৯৫১ সালের ৭ এপ্রিল বড়লেখা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত বারইগ্রাম (৩ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আব্দুল কাইয়ুম এবং মাতা মরহুমা মোস্তফা বেগম। শৈশব ও কৈশোরের পড়াশোনা শেষে তিনি সিলেট এমসি কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড সম্পন্ন করে প্রথম স্থান অধিকার করেন।

তিন যুগেরও বেশি সময়, প্রায় ৩৬ বছর তিনি বড়লেখা উপজেলার ঐতিহ‍্যবাহী পাথারিয়া ছোটলিখা উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করেন। সততা, নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে আলোর পথ দেখিয়েছেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব ও নিরলস পরিশ্রমের ফলেই পিসি স্কুল আজ জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে তিনি বড়লেখা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন।

হামিদ স্যারের হাতে গড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন-যা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলেই মনে করেন এলাকাবাসী।

এদিকে তার ছোট ছেলে এবিএম আবছার হামিদ রিমন ষাটমাকন্ঠকে জানান, “মঙ্গলবার রাতে আব্বুর সঙ্গে কথা হয়েছে। কিন্তু বুধবার সকালে হঠাৎ খবর পাই-আব্বু আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

পারিবারিকসূত্রে জানা যায়, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে জানাজা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের জন্য মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।

ষাটমাকন্ঠ/এএইচআর