০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় রাস্তার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo এসএসসি সমমান পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখায় ছাত্রশিবিরের দোয়া মাহফিল Logo বড়লেখায় ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা Logo সুর-নৃত্য-নাট্যে মণিপুরি থিয়েটারের বর্ণিল বিষু উৎসবের সমাপ্তি Logo দুর্নীতিবিরোধী বিতর্কে জুড়ীতে চ্যাম্পিয়ন মক্তদীর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় Logo বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমছে, আর দেশে বাড়ছে, খুবই দুঃখজনক: জামায়াত আমির Logo জ্বালানি তেলের জন্য সড়কেই রাত কাটাতে বাধ্য হয় বাইকাররা Logo চা বাগানের ৪ হাজার ৬শ’ ৬৮ জন অসচ্ছল শ্রমিক পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ভাতা Logo কুলাউড়ায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানান শওকতুল ইসলাম এমপি Logo জুড়ীতে ৩৭০০ কৃষকের হাতে পৌঁছাল সার ও বীজ

স্থানীয়দের কাছে পরিচিত, বৈজ্ঞানিকভাবে অজানা

বন্য আঙুরের দেখা মিলেছে জুড়ীর লাঠিটিলায়

খোর্শেদ আলম, জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 258
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত বনাঞ্চল ও ছায়াঘেরা অনাবাদি জমিতে সম্প্রতি একধরনের বুনো লতার ফলন লক্ষ্য করা গেছে। ফলটির গঠন ও গুচ্ছাকারে ধরার ধরন অনেকটাই আঙুরের মতো হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘বন্য আঙুর’ নামে চিনে থাকেন। গাছে ঝুলে থাকা এই ফল সাধারণত গাঢ় সবুজ রঙের এবং দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

এই ফল মূলত একটি বুনো লতায় ধরে, যা বর্ষা ও শরৎকালে ফুল ও ফল ধারণ করে। স্থানীয়দের কাছে এই ফল নতুন কিছু নয় বহু বছর ধরেই তারা এটি দেখে আসছেন। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর পরিচয়, উপযোগিতা বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও দ্বিধার শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া, যিনি মাঝেমধ্যে বনাঞ্চলে যান, তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই ঝোপঝাড়ের মাঝে এই ফল দেখে আসছি। মজা করে মাঝে-মধ্যে খেয়েও ফেলেছি। স্বাদে হালকা টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কখনো পাকা অবস্থায় খাওয়া হয়নি। এখন কেউ তেমন একটা খায় না, অনেকে এটিকে বিষাক্ত মনে করে ভয় পায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, স্থানীয়ভাবে একে ‘বন্য আঙুর’ বলা হলেও এর সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিচয়, পুষ্টিগুণ বা খাওয়ার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অনেক বুনো ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিষাক্ত হতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই ধরনের লতা ও ফল যদি নিরাপদ ও চাষযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হতে পারে একটি বিকল্প ফল হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সংযোজন। পাশাপাশি, এটি স্থানীয় পর্যটনের জন্যও হতে পারে এক নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গবেষণা ও সচেতনতা বাড়ালে এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্থানীয়দের কাছে পরিচিত, বৈজ্ঞানিকভাবে অজানা

বন্য আঙুরের দেখা মিলেছে জুড়ীর লাঠিটিলায়

আপডেট সময় : ০৫:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত বনাঞ্চল ও ছায়াঘেরা অনাবাদি জমিতে সম্প্রতি একধরনের বুনো লতার ফলন লক্ষ্য করা গেছে। ফলটির গঠন ও গুচ্ছাকারে ধরার ধরন অনেকটাই আঙুরের মতো হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘বন্য আঙুর’ নামে চিনে থাকেন। গাছে ঝুলে থাকা এই ফল সাধারণত গাঢ় সবুজ রঙের এবং দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

এই ফল মূলত একটি বুনো লতায় ধরে, যা বর্ষা ও শরৎকালে ফুল ও ফল ধারণ করে। স্থানীয়দের কাছে এই ফল নতুন কিছু নয় বহু বছর ধরেই তারা এটি দেখে আসছেন। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর পরিচয়, উপযোগিতা বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও দ্বিধার শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া, যিনি মাঝেমধ্যে বনাঞ্চলে যান, তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই ঝোপঝাড়ের মাঝে এই ফল দেখে আসছি। মজা করে মাঝে-মধ্যে খেয়েও ফেলেছি। স্বাদে হালকা টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কখনো পাকা অবস্থায় খাওয়া হয়নি। এখন কেউ তেমন একটা খায় না, অনেকে এটিকে বিষাক্ত মনে করে ভয় পায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, স্থানীয়ভাবে একে ‘বন্য আঙুর’ বলা হলেও এর সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিচয়, পুষ্টিগুণ বা খাওয়ার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অনেক বুনো ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিষাক্ত হতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই ধরনের লতা ও ফল যদি নিরাপদ ও চাষযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হতে পারে একটি বিকল্প ফল হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সংযোজন। পাশাপাশি, এটি স্থানীয় পর্যটনের জন্যও হতে পারে এক নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গবেষণা ও সচেতনতা বাড়ালে এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।