০৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কমলগঞ্জে কমলা বাগান উচ্ছেদ: তদন্তে ৬২৫ গাছের গোড়া, মালিকের দাবি ধ্বংস হয়েছে ১,২০০ গাছ Logo বড়লেখায় পাতাকুঁড়ি শিশুকিশোর থিয়েটারের নতুন কার্যকরী ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন Logo বড়লেখায় চোরাই মালামাল উদ্ধারসহ গ্রেফতার ৬ Logo সিসিকের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার কাজে আগ্রহী সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দল Logo একাদশ শ্রেণির অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে মতবিনিময় সভা রোববার Logo ১৭ বছর পর লর্ডসে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ Logo ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নতুন নৌবাহিনী প্রধান Logo প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের বিশেষ সুবিধার মেয়াদ বাড়ল ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত Logo ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে আবেদন ২৫ জুলাই পর্যন্ত Logo ঈদগাহ বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গুণীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

স্থানীয়দের কাছে পরিচিত, বৈজ্ঞানিকভাবে অজানা

বন্য আঙুরের দেখা মিলেছে জুড়ীর লাঠিটিলায়

খোর্শেদ আলম, জুড়ী উপজেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / 323
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত বনাঞ্চল ও ছায়াঘেরা অনাবাদি জমিতে সম্প্রতি একধরনের বুনো লতার ফলন লক্ষ্য করা গেছে। ফলটির গঠন ও গুচ্ছাকারে ধরার ধরন অনেকটাই আঙুরের মতো হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘বন্য আঙুর’ নামে চিনে থাকেন। গাছে ঝুলে থাকা এই ফল সাধারণত গাঢ় সবুজ রঙের এবং দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

এই ফল মূলত একটি বুনো লতায় ধরে, যা বর্ষা ও শরৎকালে ফুল ও ফল ধারণ করে। স্থানীয়দের কাছে এই ফল নতুন কিছু নয় বহু বছর ধরেই তারা এটি দেখে আসছেন। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর পরিচয়, উপযোগিতা বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও দ্বিধার শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া, যিনি মাঝেমধ্যে বনাঞ্চলে যান, তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই ঝোপঝাড়ের মাঝে এই ফল দেখে আসছি। মজা করে মাঝে-মধ্যে খেয়েও ফেলেছি। স্বাদে হালকা টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কখনো পাকা অবস্থায় খাওয়া হয়নি। এখন কেউ তেমন একটা খায় না, অনেকে এটিকে বিষাক্ত মনে করে ভয় পায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, স্থানীয়ভাবে একে ‘বন্য আঙুর’ বলা হলেও এর সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিচয়, পুষ্টিগুণ বা খাওয়ার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অনেক বুনো ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিষাক্ত হতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই ধরনের লতা ও ফল যদি নিরাপদ ও চাষযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হতে পারে একটি বিকল্প ফল হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সংযোজন। পাশাপাশি, এটি স্থানীয় পর্যটনের জন্যও হতে পারে এক নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গবেষণা ও সচেতনতা বাড়ালে এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্থানীয়দের কাছে পরিচিত, বৈজ্ঞানিকভাবে অজানা

বন্য আঙুরের দেখা মিলেছে জুড়ীর লাঠিটিলায়

আপডেট সময় : ০৫:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের পাহাড়ি টিলা বেষ্টিত বনাঞ্চল ও ছায়াঘেরা অনাবাদি জমিতে সম্প্রতি একধরনের বুনো লতার ফলন লক্ষ্য করা গেছে। ফলটির গঠন ও গুচ্ছাকারে ধরার ধরন অনেকটাই আঙুরের মতো হওয়ায় স্থানীয়রা একে ‘বন্য আঙুর’ নামে চিনে থাকেন। গাছে ঝুলে থাকা এই ফল সাধারণত গাঢ় সবুজ রঙের এবং দেখতে বেশ আকর্ষণীয়।

এই ফল মূলত একটি বুনো লতায় ধরে, যা বর্ষা ও শরৎকালে ফুল ও ফল ধারণ করে। স্থানীয়দের কাছে এই ফল নতুন কিছু নয় বহু বছর ধরেই তারা এটি দেখে আসছেন। তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর পরিচয়, উপযোগিতা বা ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও দ্বিধার শেষ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া, যিনি মাঝেমধ্যে বনাঞ্চলে যান, তিনি বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই ঝোপঝাড়ের মাঝে এই ফল দেখে আসছি। মজা করে মাঝে-মধ্যে খেয়েও ফেলেছি। স্বাদে হালকা টক-মিষ্টি ধরনের। তবে কখনো পাকা অবস্থায় খাওয়া হয়নি। এখন কেউ তেমন একটা খায় না, অনেকে এটিকে বিষাক্ত মনে করে ভয় পায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম খান বলেন, স্থানীয়ভাবে একে ‘বন্য আঙুর’ বলা হলেও এর সঠিক বৈজ্ঞানিক পরিচয়, পুষ্টিগুণ বা খাওয়ার উপযোগিতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। অনেক বুনো ফল দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বিষাক্ত হতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনে কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া এই ধরনের লতা ও ফল যদি নিরাপদ ও চাষযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা হতে পারে একটি বিকল্প ফল হিসেবে কৃষিক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় সংযোজন। পাশাপাশি, এটি স্থানীয় পর্যটনের জন্যও হতে পারে এক নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, গবেষণা ও সচেতনতা বাড়ালে এমন অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আমাদের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।