০৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo চলন্ত ট্রেনে যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ Logo গ্রীনহিল স্টেট কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিলেন মো. নিয়াজ উদ্দীন Logo হারিয়ে যায়নি চিঠি, বদলেছে শুধু রূপ : মাটির ফলক থেকে ডিজিটাল ইনবক্স Logo দুর্গম এলাকায় ডিজিটাল নজরদারি বাড়াবে বিজিবি, তৈরি হবে নিজস্ব ড্রোন সক্ষমতা- সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo অ্যান্টিবায়োটিক সংকট: ওষুধহীন অন্ধকার যুগের পথে মানবসভ্যতা Logo এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতিমা Logo প্যারিসে টেক্সওয়ার্ল্ড অ্যাপারেল সোর্সিং মেলা ২০২৬ শুরু, উদ্বোধন হলো বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন Logo গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছে বিএনপি Logo সিলেটে মানবাধিকারকর্মী মিনহাজ সামাদ চৌধুরী নিখোঁজ Logo বড়লেখায় বিজিবির অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

চাঁদে নেমেছে মার্কিন বেসরকারি মহাকাশযান অ্যাথেনা

বিবিসি
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫
  • / 779

ইনটুইটিভ মেশিনস-এর তৈরি অ্যাথেনা মহাকাশযানটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পৃথিবী থেকে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করে | ছবি: ইনটুইটিভ মেশিনস

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানি ইনটুইটিভ মেশিনস পরিচালিত একটি মহাকাশ যান চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করেছে। কোম্পানিটি এ তথ্য নিশ্চিত করছে। তবে তারা আশঙ্কা করছে, যন্ত্রটি সোজা অবস্থায় নেই।

ইনটুইটিভ মেশিনসের প্রধান নির্বাহী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অ্যাথেনা মহাকাশ যানটির সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ অব্যাহত আছে, তবে এটি যথাযথ অবস্থায় নেই।

কোম্পানি আশা করছে, মহাকাশযানটিতে থাকা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিগুলো এখনো স্থাপন করা সম্ভব। এসব যন্ত্রের মধ্যে আছে—চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের পর নিকটবর্তী গর্ত খোঁজার উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি হপিং রোবট এবং মোবাইল যোগাযোগ অ্যানটেনা। এ ধরনের অ্যানটেনা এটাই প্রথম পাঠানো হয়েছে।

অ্যাথেনা ইনটুইটিভ মেশিনসের তৈরি দ্বিতীয় কোনো মহাকাশযান যেটি অস্বাভাবিক অবস্থানে থেকে চাঁদে অবতরণ করেছে।

চন্দ্রপৃষ্ঠে পানি ও বরফের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের জন্য কোম্পানিটি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। আর নাসা মানুষকে আবারও চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে চাঁদে মনস মাউটন নামক উচ্চভূমির একটি এলাকায় অবতরণ করে অ্যাথেনা। এ এলাকাটির অবস্থান চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরত্বে।

ইনটুইটিভ মেশিনস কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগামী দিনগুলোতে লুনার রিকনেসান্স অরবিটার ক্যামেরা অ্যাথেনার একটি ছবি তুলবে। এর মধ্য দিয়ে যানটি ঠিক কোন অবস্থায় আছে, তা নির্ণয় করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অ্যাথেনার নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপসংক্রান্ত কাজগুলো ১০ দিনের মধ্যে শেষ করতে পারে।

এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে মাইক্রো নোভা হপার বা গ্রেস নামের একটি লাফানো রোবটও আছে। রোবটটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি লাফিয়ে লাফিয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ছায়ার মধ্যে থাকা বড় গর্তে পৌঁছে যেতে পারে।

হপার রোবটটি ১০০ মিটার উচ্চতায় উড়তে এবং ১ দশমিক ২ মাইল (২ কিলোমিটার) পর্যন্ত ভ্রমণ করতে সক্ষম। এটি পাঁচবার লাফালে একটি গর্তের ভেতর যেতে পারবে এবং ক্যামেরা দিয়ে ভেতরের ছবি তুলতে পারবে। এ গর্তটিতে কখনোই সূর্যের আলো পৌঁছায় না। এ কারণে সেখানকার তাপমাত্রা অনেক কম এবং এটিকে বরফ খোঁজার জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চাঁদে মহাকাশ যান পাঠায় এমন বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে নাসা। তারা মনে করে, নিজস্ব মিশন পরিচালনার চেয়ে এভাবে কাজ করাটা সাশ্রয়ী।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইনটুইটিভ মেশিনসের তৈরি ওডিসিয়াস মহাকাশযানটি সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করেছিল।

সাধারণত অবতরণের সময় মহাকাশযান উল্টে গেলে সব বৈজ্ঞানিক কাজ শেষ করা যায় না। এবারের মহাকাশ যানটির ক্ষেত্রে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চাঁদে নেমেছে মার্কিন বেসরকারি মহাকাশযান অ্যাথেনা

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ মার্চ ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি কোম্পানি ইনটুইটিভ মেশিনস পরিচালিত একটি মহাকাশ যান চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণ করেছে। কোম্পানিটি এ তথ্য নিশ্চিত করছে। তবে তারা আশঙ্কা করছে, যন্ত্রটি সোজা অবস্থায় নেই।

ইনটুইটিভ মেশিনসের প্রধান নির্বাহী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অ্যাথেনা মহাকাশ যানটির সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ অব্যাহত আছে, তবে এটি যথাযথ অবস্থায় নেই।

কোম্পানি আশা করছে, মহাকাশযানটিতে থাকা বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিগুলো এখনো স্থাপন করা সম্ভব। এসব যন্ত্রের মধ্যে আছে—চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের পর নিকটবর্তী গর্ত খোঁজার উদ্দেশ্যে তৈরি করা একটি হপিং রোবট এবং মোবাইল যোগাযোগ অ্যানটেনা। এ ধরনের অ্যানটেনা এটাই প্রথম পাঠানো হয়েছে।

অ্যাথেনা ইনটুইটিভ মেশিনসের তৈরি দ্বিতীয় কোনো মহাকাশযান যেটি অস্বাভাবিক অবস্থানে থেকে চাঁদে অবতরণ করেছে।

চন্দ্রপৃষ্ঠে পানি ও বরফের অস্তিত্ব অনুসন্ধানের জন্য কোম্পানিটি মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে। আর নাসা মানুষকে আবারও চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে চাঁদে মনস মাউটন নামক উচ্চভূমির একটি এলাকায় অবতরণ করে অ্যাথেনা। এ এলাকাটির অবস্থান চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১০০ মাইল দূরত্বে।

ইনটুইটিভ মেশিনস কর্তৃপক্ষ বলেছে, আগামী দিনগুলোতে লুনার রিকনেসান্স অরবিটার ক্যামেরা অ্যাথেনার একটি ছবি তুলবে। এর মধ্য দিয়ে যানটি ঠিক কোন অবস্থায় আছে, তা নির্ণয় করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অ্যাথেনার নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ এবং পরিমাপসংক্রান্ত কাজগুলো ১০ দিনের মধ্যে শেষ করতে পারে।

এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে মাইক্রো নোভা হপার বা গ্রেস নামের একটি লাফানো রোবটও আছে। রোবটটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি লাফিয়ে লাফিয়ে চন্দ্রপৃষ্ঠে স্থায়ী ছায়ার মধ্যে থাকা বড় গর্তে পৌঁছে যেতে পারে।

হপার রোবটটি ১০০ মিটার উচ্চতায় উড়তে এবং ১ দশমিক ২ মাইল (২ কিলোমিটার) পর্যন্ত ভ্রমণ করতে সক্ষম। এটি পাঁচবার লাফালে একটি গর্তের ভেতর যেতে পারবে এবং ক্যামেরা দিয়ে ভেতরের ছবি তুলতে পারবে। এ গর্তটিতে কখনোই সূর্যের আলো পৌঁছায় না। এ কারণে সেখানকার তাপমাত্রা অনেক কম এবং এটিকে বরফ খোঁজার জন্য আদর্শ জায়গা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

চাঁদে মহাকাশ যান পাঠায় এমন বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করছে নাসা। তারা মনে করে, নিজস্ব মিশন পরিচালনার চেয়ে এভাবে কাজ করাটা সাশ্রয়ী।

এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইনটুইটিভ মেশিনসের তৈরি ওডিসিয়াস মহাকাশযানটি সফলভাবে চাঁদে অবতরণ করেছিল।

সাধারণত অবতরণের সময় মহাকাশযান উল্টে গেলে সব বৈজ্ঞানিক কাজ শেষ করা যায় না। এবারের মহাকাশ যানটির ক্ষেত্রে এমনটাই আশঙ্কা করা হচ্ছে।