১২:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ পরিচয়ে অনুমতি ছাড়া ভিডিও প্রচার করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা Logo বড়লেখায় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী ৩৮৩০, প্রথম দিনে অনুপস্থিত ২৫ জন Logo জুড়ীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু Logo ১০০ কোটির মালিক, তবু যাতায়াত অটোয়, ভাইরাল মুম্বইয়ের ব্যবসায়ীর জীবনযাত্রার পোস্ট! Logo ফ্রান্সের অরলিয়ন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত Logo ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে মৌলভীবাজারের যুবক নিহত Logo জামায়াত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি Logo জুড়ীতে প্রধান শিক্ষক নিখোঁজ, মোটরসাইকেল ও জামাকাপড় উদ্ধার Logo বড়লেখায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার Logo শিক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশন শুরু, শেষ সময় ২৭ এপ্রিল

‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ- নেতৃত্বে নাহিদ ও আখতার

বাসস
  • আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫
  • / 131
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন এই রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল এক জনসভার মধ্য দিয়ে এ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হয়। জুলাই শহীদ মো. ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। পরে আংশিক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। নতুন এ কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও নাহিলা সারওয়ার নিবা, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চল) ও সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল), মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসউদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

সকাল থেকেই স্লোগানে স্লোগানে মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা। নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘিরে পতাকা হাতে নিয়ে, মাথায় পতাকা বেঁধে মিছিল নিয়ে তাদেরকে উচ্ছ্বাস করতে দেখা গেছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজার কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয়। এরপর অন্যন্য ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। তারপর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জুলাই অভ্যত্থানের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে। পরে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিসের নেতা আহমেদ আবদুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজী, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির নেতা দিদারুল আলম ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।

অনুষ্ঠানে কূটনীতিবিদদের মধ্যে ঢাকায় ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত কেভিন এস রেন্ডাল, পাকিস্তান হাই কমিশনের কাউন্সেলর কামরান ধাঙ্গালও এসেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা কেবল একটি সরকার পতন করে আরেকটি সরকার বসানোর জন্যই ঘটেনি।’ জাতীয় নাগরিক পার্টি হবে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল। রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না।

তিনি বলেন, ‘জনগণ বরং রাষ্ট্রের আষ্টেপৃষ্ঠে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই অভ্যুত্থানে সাড়া দিয়েছিলো, যেন জনগণের অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছি।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সারাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে আজকের তরুণরা যে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে আপনারা সবাই দোয়া করবেন যেন মহান রব্বুল আলামীন, মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই তরুণদের স্বপ্নকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করেন। এই তরুণরা যেন তাদের নেতৃত্বে যারা বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে সেই খুনী, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের বিচার করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশে ৫৪ বছর পরে আমরা যে সুযোগ পেয়েছি, এতে একটি নতুন সংবিধানের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, এই তরুণরা স্বপ্ন দেখে আগামীর বাংলাদেশ এক নতুন সংবিধানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পাটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, জুলাই এর আন্দোলনে আমরা সকল শ্রেণীর মানুষ খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছি। আমরা শুধু আপানাদের একটা কথা বলতে চাই, ৫ আগস্টে খুনি হাসিনা পালিয়ে যাবার পর দেশ গঠনের যে স্বপ্নগুলো দেখেছিলাম সেই স্বপ্ন পুরণের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি সম্মানবোধ থাকে আগামীর বাংলাদেশ হবে অপ্রতিরোধ্য। খুনি হাসিনা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো নিজ হাতে ধ্বংস করে দিয়েছে। সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করতে হবে। এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই মানুষদের বসাতে হবে যারা যোগ্য। কোন ‘মাই ম্যান’কে বসানো যাবে না। এই খুনি হাসিনার বিচারের ব্যাপারে আমাদের   ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোন অপরাধীর জন্য যেন কেউ সুপারিশ না করি।

নতুন রাজনৈতিক দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যতদিন না পর্যন্ত এদেশ থেকে পরিবারতন্ত্র কবরস্থ হবে, আমরা ততদিন লড়ে যাবো। এদেশে কামারের ছেলে মন্ত্রী হবে, কুমারের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, এখানে ভেদাভেদ থাকবে না, মতামত-দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

তিনি বলেন, বিদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে কিন্তু প্রেসক্রিপশনের সম্পর্ক থাকবে না। আমরা সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।

নতুন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ। তরুণরা নেতৃত্ব দিয়ে চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে। আগামীর বাংলাদেশে আর আগের মতো রাতে ভোট হবে না। সব দলমত নির্বিশেষে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। আজ যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এখানে এসেছে, আগামী দিনে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সব দল মিলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে। এটা দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।

নতুন এ কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারওয়ার তুষার, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, তুজরুবা জাবিন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ড. আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দিন মাহদি, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিম, এহতেশাম হক এবং হাসান আলীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাবে আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, রশিদুল ইসলাম রিফাত, মাহিন সরকার, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আকরাম হোসাইন, এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত (দপ্তরে সংযুক্ত), আলাউদ্দিন মুহাম্মদ, ফরিদ উদ্দীন, মোহাম্মদ ফারহাদ আলম ভুইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম তুহিন, মুশফিকুর সালেহিন, ড. জাহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, হুমায়রা নুর, মুশফিকুর রহমান জুহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, শাগুপ্তা বুশরা বিসমা, আহনাফ সাঈদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেক রেজা, মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদিন শিশির, মোহাম্মদ মুনতাসির রহমান, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, তামিম আহমেদ এবং তাহসিন রিয়াজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যুগ্ম মূখ্য সংগঠন দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু, মোল্লা রহমতুল্লাহ, এম এম শাহরিয়ার, জোবায়ের আরিফ দায়িত্ব পালন করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র আত্মপ্রকাশ- নেতৃত্বে নাহিদ ও আখতার

আপডেট সময় : ০৯:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ মার্চ ২০২৫

তরুণদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন এই রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিশাল এক জনসভার মধ্য দিয়ে এ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ হয়। জুলাই শহীদ মো. ইসমাইল হোসেন রাব্বির বোন মিম আক্তার জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। পরে আংশিক কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। নতুন এ কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা ও নাহিলা সারওয়ার নিবা, মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (দক্ষিণাঞ্চল) ও সারজিস আলম (উত্তরাঞ্চল), মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে আব্দুল হান্নান মাসউদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

সকাল থেকেই স্লোগানে স্লোগানে মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা। নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘিরে পতাকা হাতে নিয়ে, মাথায় পতাকা বেঁধে মিছিল নিয়ে তাদেরকে উচ্ছ্বাস করতে দেখা গেছে। বিকেল সাড়ে ৪টায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজার কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশের মূল পর্ব শুরু হয়। এরপর অন্যন্য ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ এবং জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। তারপর জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জুলাই অভ্যত্থানের ওপর নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে। পরে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আকবর খান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ ও হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, বিকল্প ধারা বাংলাদেশের নির্বাহী সভাপতি মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, খেলাফত মজলিসের নেতা আহমেদ আবদুল কাদের, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজী, ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আজহারুল ইসলাম, এবি পার্টির নেতা দিদারুল আলম ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল।

অনুষ্ঠানে কূটনীতিবিদদের মধ্যে ঢাকায় ভ্যাটিকান সিটির রাষ্ট্রদূত কেভিন এস রেন্ডাল, পাকিস্তান হাই কমিশনের কাউন্সেলর কামরান ধাঙ্গালও এসেছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই ২০২৪-এ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু আমাদেরকে স্মরণ রাখতে হবে, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা কেবল একটি সরকার পতন করে আরেকটি সরকার বসানোর জন্যই ঘটেনি।’ জাতীয় নাগরিক পার্টি হবে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল। রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না।

তিনি বলেন, ‘জনগণ বরং রাষ্ট্রের আষ্টেপৃষ্ঠে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা থেকে এই অভ্যুত্থানে সাড়া দিয়েছিলো, যেন জনগণের অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিচ্ছি।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, সারাদেশের মানুষের কাছে আহ্বান থাকবে আজকের তরুণরা যে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে আপনারা সবাই দোয়া করবেন যেন মহান রব্বুল আলামীন, মহান সৃষ্টিকর্তা আমাদের এই তরুণদের স্বপ্নকে বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করার তৌফিক দান করেন। এই তরুণরা যেন তাদের নেতৃত্বে যারা বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে সেই খুনী, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের বিচার করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশে ৫৪ বছর পরে আমরা যে সুযোগ পেয়েছি, এতে একটি নতুন সংবিধানের বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, এই তরুণরা স্বপ্ন দেখে আগামীর বাংলাদেশ এক নতুন সংবিধানের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পাটির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, জুলাই এর আন্দোলনে আমরা সকল শ্রেণীর মানুষ খুনি হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছি। আমরা শুধু আপানাদের একটা কথা বলতে চাই, ৫ আগস্টে খুনি হাসিনা পালিয়ে যাবার পর দেশ গঠনের যে স্বপ্নগুলো দেখেছিলাম সেই স্বপ্ন পুরণের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি সম্মানবোধ থাকে আগামীর বাংলাদেশ হবে অপ্রতিরোধ্য। খুনি হাসিনা রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো নিজ হাতে ধ্বংস করে দিয়েছে। সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কার করতে হবে। এসকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই মানুষদের বসাতে হবে যারা যোগ্য। কোন ‘মাই ম্যান’কে বসানো যাবে না। এই খুনি হাসিনার বিচারের ব্যাপারে আমাদের   ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোন অপরাধীর জন্য যেন কেউ সুপারিশ না করি।

নতুন রাজনৈতিক দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যতদিন না পর্যন্ত এদেশ থেকে পরিবারতন্ত্র কবরস্থ হবে, আমরা ততদিন লড়ে যাবো। এদেশে কামারের ছেলে মন্ত্রী হবে, কুমারের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, এখানে ভেদাভেদ থাকবে না, মতামত-দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

তিনি বলেন, বিদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে কিন্তু প্রেসক্রিপশনের সম্পর্ক থাকবে না। আমরা সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই।

নতুন রাজনৈতিক দলের সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে গণতন্ত্রের বাংলাদেশ। তরুণরা নেতৃত্ব দিয়ে চাঁদাবাজ ও দখলদারমুক্ত বাংলাদেশ গড়বে। আগামীর বাংলাদেশে আর আগের মতো রাতে ভোট হবে না। সব দলমত নির্বিশেষে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে। আজ যেভাবে রাজনৈতিক দলগুলো এখানে এসেছে, আগামী দিনে ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে সব দল মিলে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে। এটা দেশবাসীর কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি।

নতুন এ কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসাবে নুসরাত তাবাসসুম, মনিরা শারমিন, মাহবুব আলম, সারওয়ার তুষার, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন, তুজরুবা জাবিন, সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, ড. আতিক মুজাহিদ, আশরাফ উদ্দিন মাহদি, অর্পিতা শ্যামা দেব, তানজিল মাহমুদ, অনিক রায়, খালেদ সাইফুল্লাহ, জাবেদ রাসিম, এহতেশাম হক এবং হাসান আলীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

যুগ্ম সদস্য সচিব হিসাবে আব্দুল্লাহ আল আমিন, আরিফ সোহেল, রশিদুল ইসলাম রিফাত, মাহিন সরকার, মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন, আকরাম হোসাইন, এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, সালেহ উদ্দিন সিফাত (দপ্তরে সংযুক্ত), আলাউদ্দিন মুহাম্মদ, ফরিদ উদ্দীন, মোহাম্মদ ফারহাদ আলম ভুইয়া, মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া, লুৎফর রহমান, মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম তুহিন, মুশফিকুর সালেহিন, ড. জাহিদুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম মুসা, হুমায়রা নুর, মুশফিকুর রহমান জুহান, মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান, শাগুপ্তা বুশরা বিসমা, আহনাফ সাঈদ খান, আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন, মীর আরশাদুল হক, ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, তারেক রেজা, মশিউর রহমান, জয়নাল আবেদিন শিশির, মোহাম্মদ মুনতাসির রহমান, গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, তামিম আহমেদ এবং তাহসিন রিয়াজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। যুগ্ম মূখ্য সংগঠন দক্ষিণাঞ্চলের দায়িত্ব পালন করবেন মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু, মোল্লা রহমতুল্লাহ, এম এম শাহরিয়ার, জোবায়ের আরিফ দায়িত্ব পালন করবেন।