জ্বালানি তেলের জন্য সড়কেই রাত কাটাতে বাধ্য হয় বাইকাররা
- আপডেট সময় : ০৬:২৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
- / 4
এবার এক ব্যতিক্রম দৃশ্যের সাক্ষী জামালপুর। জ্বালানি তেলের জন্য সড়কেই রাত কাটাতে বাধ্য হয় বাইকাররা। গভীর রাত থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েন তারা।
গতকাল শুক্রবার রাত ১টার দিকে শহরের পিটিআই এলাকায় জুই এন্টারপ্রাইজের সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘ হতে থাকে মোটরসাইকেলের সারি, আর সেই সারির সঙ্গে বাড়তে থাকে অপেক্ষার সময়ও।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁশ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী লাইনে একের পর এক মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। কেউ বাইকের ওপর বসে ছিলেন, কেউ ক্লান্ত হয়ে সড়কের ওপরই শুয়ে পড়েছিলেন। অনেকেই আবার বালিশ, চাদর নিয়ে এসে রাস্তার পাশেই রাত কাটানোর প্রস্তুতি নেয়। পুরো এলাকাজুড়ে দেখা গিয়েছিল এক অস্থায়ী শিবিরের চিত্র ।
অপেক্ষমাণ বাইকারদের অভিযোগ, শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা নয়—মশার কামড়, ঘুমের অভাব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠে অসহনীয়। তেল পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যেই পুরো রাত থাকতে চায় তারা। কেউ কেউ বলছিলেন, এত কষ্ট করেও শেষ পর্যন্ত তেল পাওয়া যাবে কি না, সেই নিশ্চয়তাও নেই।
তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, ‘রাত ১টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। সারাদিন কাজ করার পর বাসায় না গিয়ে তেলের জন্য রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। আজ যদি এখানে রাত কাটাই, কাল অফিস করতে পারব না। এতে আমার আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাবে। পরিবারকে সময় দেওয়ার সুযোগও থাকছে না।’
‘শুনলাম এখানে তেল দেওয়া হবে, তাই বন্ধুর বাসা থেকে বালিশ এনে লাইনে মোটরসাইকেল রেখে রাস্তায় শুয়ে আছি। সকালে তেল নিয়ে কাজে যাবো। কিন্তু এভাবে রাত কাটানো খুবই কষ্টকর। আমাদের কষ্টটা কেউ দেখছে না।’- কথাগুলো বলছিলেন লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সঞ্জয় বাবু।
বাইকার সবুজ মিয়া জানান, প্রতিদিনই এমন কষ্ট করতে হচ্ছে। সারারাত রাস্তায় থাকতে হয়, আবার সকালে কাজে যেতে হয়। প্রাইভেট চাকরিজীবীদের জন্য এটা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান দরকার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জ্বালানি সংকটের কারণে শুধু বাইকাররাই নয়, সাধারণ মানুষও চরম ভোগান্তিতে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না থাকায় দৈনন্দিন কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। অনেকেই সময়মতো কর্মস্থলে যেতে পারছেন না।
এদিকে, গভীর রাতে দোকান বন্ধ থাকায় জুই এন্টারপ্রাইজের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এ ধরনের পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে।
























