০৮:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মইনুল ইসলাম Logo পাহাড় ও সমতলে উন্নয়ন করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য, থাকবেনা কোনো বৈষম্য- মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান Logo এনসিপির জুড়ী উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন Logo কুলাউড়ায় এমপি কর্তৃক সাংবাদিকদের ঈদ উপহার নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ধুম্রজাল তৈরী করার অপচেষ্টা Logo কোরবানির মাংস বণ্টন নিয়ে বিরোধ: ঈদের নামাজ বাদ দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২৮ Logo বড়লেখায় গভীর রাতে সড়কে নিসচা, লক্ষ্য একটাই মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা Logo ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন এমপি শওকতুল ইসলাম Logo কুলাউড়া পৌরবাসীকে ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জয়নাল আবেদীন বাচ্চু Logo ঈদুল আজহা’র শুভেচ্ছা জানালেন ষাটমাকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক ও বার্তা সম্পাদক Logo শেষ মূহুর্তে জমে ওঠেছে পশুর হাট; কোরবানির হাট কাঁপাচ্ছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জননেতা সিরাজুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 100

সিরাজুল ইসলাম

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজ ৫ এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বড়লেখার মাটি ও মানুষের নেতা সিরাজুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বড়লেখাসহ বৃহত্তর সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

পাথারিয়া পাহাড়ের পাদদেশে হাকালুকি হাওরের কোলঘেঁষা এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সিরাজুল ইসলাম ছিলেন এই অঞ্চলের রাজনীতি, সমাজ ও মানুষের হৃদয়ের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ষাটের দশকে ছাত্ররাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন সিলেট অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা। ১৯৬৩-৬৪ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্নেহভাজন এই নেতা ১৯৭৩ সালে তরুণ বয়সেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড়লেখা আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিজয় অর্জন করে তিনি সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

রাজনীতির কঠিন সময়েও দল ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়া সিরাজুল ইসলাম ছিলেন বিরল চরিত্রের এক রাজনীতিক। রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন দৃপ্ত ও সক্রিয়। তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় রাজনীতির নানা টানাপোড়েনে মূলধারা থেকে ছিটকে পড়লেও মানুষের হৃদয় থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি।

দু’দুবার সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি নিজেকে সবসময় সাধারণ মানুষের কাতারেই রেখেছেন। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকা, দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়ানো- এসব গুণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন “মুকুটহীন সম্রাট”।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই বর্ষীয়ান নেতা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও রেখেছেন অনন্য অবদান। বড়লেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা আজও স্মরণীয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সম্মুখসারির সৈনিক। ১৯৮০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের রক্ষায় গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়ার মতো সাহসিকতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।

জীবনের শেষদিকে তিনি প্রবাসজীবন বেছে নিলেও জন্মভূমির মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অটুট। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্যেও বড়লেখার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বড়লেখাবাসী স্মরণ করছে এক অকৃত্রিম জননেতাকে যিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। সিরাজুল ইসলামের বিদায়ে বড়লেখার আকাশ থেকে যেন একটি নক্ষত্র খসে পড়েছে, যার শূন্যতা আজও গভীরভাবে অনুভূত হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও জননেতা সিরাজুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

আপডেট সময় : ০৭:২২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

আজ ৫ এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য ও বড়লেখার মাটি ও মানুষের নেতা সিরাজুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। ২০২০ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বড়লেখাসহ বৃহত্তর সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

পাথারিয়া পাহাড়ের পাদদেশে হাকালুকি হাওরের কোলঘেঁষা এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া সিরাজুল ইসলাম ছিলেন এই অঞ্চলের রাজনীতি, সমাজ ও মানুষের হৃদয়ের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। ষাটের দশকে ছাত্ররাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন সিলেট অঞ্চলের প্রভাবশালী নেতা। ১৯৬৩-৬৪ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সংগঠক হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্নেহভাজন এই নেতা ১৯৭৩ সালে তরুণ বয়সেই আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও বড়লেখা আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিজয় অর্জন করে তিনি সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন।

রাজনীতির কঠিন সময়েও দল ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত না হওয়া সিরাজুল ইসলাম ছিলেন বিরল চরিত্রের এক রাজনীতিক। রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন দৃপ্ত ও সক্রিয়। তবে পরবর্তী সময়ে দলীয় রাজনীতির নানা টানাপোড়েনে মূলধারা থেকে ছিটকে পড়লেও মানুষের হৃদয় থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হননি।

দু’দুবার সংসদ সদস্য এবং উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি নিজেকে সবসময় সাধারণ মানুষের কাতারেই রেখেছেন। সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে থাকা, দুর্দিনে সহায়তার হাত বাড়ানো- এসব গুণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন “মুকুটহীন সম্রাট”।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা এই বর্ষীয়ান নেতা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও রেখেছেন অনন্য অবদান। বড়লেখার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা আজও স্মরণীয়।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও তিনি ছিলেন সম্মুখসারির সৈনিক। ১৯৮০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতাকর্মীদের রক্ষায় গুলির সামনে বুক পেতে দেওয়ার মতো সাহসিকতা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে অমর করে রেখেছে।

জীবনের শেষদিকে তিনি প্রবাসজীবন বেছে নিলেও জন্মভূমির মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ছিল অটুট। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের মধ্যেও বড়লেখার মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক কখনো ছিন্ন হয়নি।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বড়লেখাবাসী স্মরণ করছে এক অকৃত্রিম জননেতাকে যিনি রাজনীতিকে ক্ষমতার নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন। সিরাজুল ইসলামের বিদায়ে বড়লেখার আকাশ থেকে যেন একটি নক্ষত্র খসে পড়েছে, যার শূন্যতা আজও গভীরভাবে অনুভূত হয়।