১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুলাউড়ায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ Logo পাহাড়ি ঢলে গোগালী ছড়া বাঁধ ভাঙন: ১৫ গ্রাম প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo প্রবাসীর বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির চেষ্টাকালে ডাকাত নিহত Logo কুলাউড়ায় পাবলিক লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি Logo লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস’র ল্যান্সবারী ওয়ার্ডে ‘আস্থা ও ভরসার’ প্রতীক কায়ছল ইসলাম Logo কুলাউড়ায় ৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ভারতীয় সিগারেট জব্দ Logo চাতলাপুর সীমান্তে বিজিবির কঠোর তৎপরতা: নিয়মবহির্ভূত মালামাল জব্দ Logo ‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত: মাস্টারশেফ ইউকে-র কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান Logo বড়লেখায় খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু Logo বড়লেখায় পাথারিয়া বাউল-শ্রমিক শিল্পী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

শহিদ নূর ওয়েলনেস সেন্টার: মনোদৈহিক সুস্থ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার

মোস্তফা সেলিম :
  • আপডেট সময় : ০৮:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
  • / 225
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের তরে উৎসর্গকারী মানুষ, যাঁদের রক্তের রঙে লাল-সবুজের পতাকা অংকিত হয়েছে; সেইসব মহতপ্রাণের একজন আব্দুন নূর। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। একাত্তরে ২০ জুলাই তিনি চরম বর্বরতার শিকার হয়ে শহিদ হয়েছিলেন শাহবাজপুর হাইস্কুলে। তাঁকে বিভৎসভাবে হত্যার জন্য এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিল পাকিস্তানি সৈন্যরা। এর জন্য তৈরি করা হয় হত্যাকূপ। এই কূপের গভীরতা ছিল বুক সমান উচ্চতা। সেখানে নামানো হয় তাঁকে। বুকে ব্রাশফায়ার করে তাঁকে হত্যা করা হয়। গর্তে লুটিয়ে পড়ে তরতাজা প্রাণোচ্ছল মানবিক এক মানুষের দেহ। নিথর দেহ সেখানেই মাটি চাপা দিয়ে বাংলার মানুষের স্বপ্নই চাপা দিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী।

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের এই চিকিৎসক বড়লেখায় শহিদ হওয়া পেশাজীবীদের একজন। মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখায় দুজন চিকিৎসক শহিদ হয়েছেন, নূর এঁদের একজন (সূত্র : ‘মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখা’ : মোস্তফা সেলিম, প্রকাশকাল ১৯৯৯)। শহিদ নূরের আত্মদানের গল্প বাংলার মানুষের অনুপ্রেরণা, তাঁর স্মৃতি রক্ষায় আমরা কাজ করে চলেছি ১৯৮৮ সাল থেকে। আমরা কয়েকজন যুবা মিলে গড়ে তুলি ‘শহিদ ডা. আব্দুন নূর স্মৃতি পরিষদ’। সংকলন প্রকাশ, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে এগিয়ে নিয়েছি এর কার্য। তারপর আরো বড়ো বড় পরিসরে কাজের লক্ষে গঠিত হয় ‘শহিদ ডা. আব্দুন নূর ফাউন্ডেশন’। বিগত বছরগুলোতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ, চিকিৎসায় অনুদান, বৃক্ষ রোপণ, স্কুল-মাদ্রাসায় কম্পিউটার বিতরণ, খেলাধুলায় পৃষ্টপোষকতা প্রদান ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছি।

গত বছরে সবচেয়ে বড়ো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এই ফাউন্ডেশন। একটি ওয়েলনেস সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি এক বহুমুখী প্রজেক্ট। মনোদৈহিক স্বাস্থ্য সেবাই হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। শুধু দেহের চিকিৎসা নয়, মনের চিকিৎসা যুক্ত হয়েছে এই কেন্দ্রে। মানবিক মানুষ তৈরি না হলে জগতের সংকটের উত্তোরণ সম্ভব নয়।

সংগঠনের নাম বদলেছে আবার। এবার ‘শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার’। শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার’ অপারেশনে যাবে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে। মনোদৈহিক স্বাস্থ্য সেবা চালু হবে এখানে। এই প্রজেক্টে থাকছে একটি জেনারেল হাসপাতাল। সাধারণ চিকিৎসা চালু হবে এখানে। দাতব্য সেবার অঙ্গীকারে পরিচালিত হবে এর সকল কার্যক্রম। এখানে অতি দরিদ্ররা বিনা খরচে এবং সচ্ছলরা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা পাবেন।

একটি গণপাঠাগার থাকছে এই কেন্দ্রে। বইপত্রের সমৃদ্ধ কালেকশন নিশ্চিত করে মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষে পরিচালিত হবে এর কার্যক্রম। পাঠবান্ধব আলোকিত সমাজ বির্নিমাণের স্বপ্নে সেন্টারে এই আয়োজন রাখা হয়েছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী কল্যাণচিন্তার বিকাশে ভূমিকা পালন করবে এই গণপাঠাগার। পাঠাগারে স্থানীয় ইতিহাস, প্রত্ন সম্পদ এবং গৌরবগাথার আর্কাইভ করা হবে।

 

শহিদ ডা. আব্দুন নুর ওয়েলনেস সেন্টারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এছাড়াও থাকছে ভোকেশনাল শিক্ষার আয়োজন। জীবনমুখি কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করবে এই সেন্টার। বেকার যুব সম্প্রদায়কে কর্মমুখি বিদ্যায় পারদর্শী করে কর্মসংস্থানে সহায়ক ভূমিকা পালনই এর লক্ষ্য।

সেন্টার চত্বরে থাকবে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। গান, কবিতা, পুথিপাঠ, সভা ও সেমিনার ইত্যাদি আয়োজিত হবে এখানে। এই মঞ্চে সুকুমারবৃত্তির চর্চা করবে এলাকার মানুষ, বিশেষত তরুণেরা। সৃজনশীল মানুষ তৈরিতে এই মঞ্চ ভূমিকা রাখবে।

নূর সেন্টারের গঠনতন্ত্রে যে লক্ষ্য ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেই কর্মসূচিও বাস্তবায়ন হবে এই ভবন থেকে। নূর ওয়েলসেন্টারের ভবনের নির্মাণ কাজের প্রাথমিক সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আমরা এই ভবনে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবা দানে সক্ষম হব।

এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই টাকার উৎস হচ্ছে দয়ালু মানুষের পকেট। হিতৈষী এবং পরার্থপর মানুষের অনেকেই এই প্রকল্পে ইতোমধ্যেই অনুদান প্রদান করেছেন। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা আপনার কাছেও যাবেন। নিশ্চয়ই আপনি এই মহৎকাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না। আমরা জানি, নিজের জন্য বাঁচার চেয়ে অন্যের সহায় হয়ে বাঁচা মহত্তর। এই তহবিল সংগ্রহে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে নিজ উদ্যোগে করি ‘নিউকো’। এই সংগঠন ইতোমধ্যে শমসের নগর হাসপাতাল, মৌলভীবাজার হার্ট ফাউন্ডেশন, এঞ্জেলস কেয়ারকে অর্থ সহায়তা করেছে। এই সংগঠনের মহানুভব সদস্যরা শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টারের তহবিল সংগ্রহের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সংগঠনের মুখ্য সংগঠক আহমেদ চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা। জীবনের অপরাহ্নেও তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে অক্লান্ত। আত্মপর এই সময়ে তিনি এক ব্যতিক্রমী মানুষ। তাঁর কাজ আমাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগায়। তাঁর নেতৃত্বে নিউইয়র্কসহ নানাস্থানে আমাদের এই সেন্টারের জন্য অর্থ সংগ্রহ চলমান রয়েছে। মানবতাবাদী এই সংগঠনের সকল মহতপ্রাণ সদস্যকে জানাই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

কোনো দানের-ই প্রতিদান হয় না। কীভাবে আমরা শোধ করব মা ও মাটির মমত্বের প্রতিদান। আসলে দান বা অবদানকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করতে হয়। এটা জেনেও লৌকিকতায় মানুষ কারো কোনো ভূমিকাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে আয়োজন করে ফুলের স্তবক, সংবর্ধনা। নিদেনপক্ষে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ঘরোয়া আলোচনায়, আড্ডায়। এ করতে না পারলে মনুষ্যসত্তার যে অপমান হয়! আমরাও এই লৌকিকতা অনুসরণ করে এই সেন্টারের জন্য যাঁরা অকাতরে দান করছেন তাঁদের নাম কেন্দ্রের শরীরের সঙ্গে গেঁথে রাখব মায়ের ভাষা বাংলার অক্ষরে।

আজ সেন্টার এক কল্পদৃশ্য। মানসচোখে আমরা এর ছবি দেখছি। কিন্তু এক বছর পরে সেই দৃশ্য অতীত হবে, কল্পনায় নয় দিব্যচোখে আমরা দেখতে পারব এই সেন্টারকে। মূর্ত হয়ে ওঠবে এই ভবনের স্থাপনা। এই ভবন ঘিরে পরিচালিত আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সোনা বাংলা গড়ার প্রত্যয়। যে প্রত্যয়ে দেশের লাখো লাখো মানুষ আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়েছেন। সেই পথে এক সহযাত্রী শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত আছেন যাঁরা, তারাও তো এক তীর্থপথের পদচারী।

 

মোস্তফা সেলিম : চেয়ারম্যান, শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার; এবং নাগরীলিপি বিশারদ, গবেষক ও প্রকাশক।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শহিদ নূর ওয়েলনেস সেন্টার: মনোদৈহিক সুস্থ সমাজ গঠনের অঙ্গীকার

আপডেট সময় : ০৮:০৪:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫

দেশের তরে উৎসর্গকারী মানুষ, যাঁদের রক্তের রঙে লাল-সবুজের পতাকা অংকিত হয়েছে; সেইসব মহতপ্রাণের একজন আব্দুন নূর। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক। একাত্তরে ২০ জুলাই তিনি চরম বর্বরতার শিকার হয়ে শহিদ হয়েছিলেন শাহবাজপুর হাইস্কুলে। তাঁকে বিভৎসভাবে হত্যার জন্য এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিল পাকিস্তানি সৈন্যরা। এর জন্য তৈরি করা হয় হত্যাকূপ। এই কূপের গভীরতা ছিল বুক সমান উচ্চতা। সেখানে নামানো হয় তাঁকে। বুকে ব্রাশফায়ার করে তাঁকে হত্যা করা হয়। গর্তে লুটিয়ে পড়ে তরতাজা প্রাণোচ্ছল মানবিক এক মানুষের দেহ। নিথর দেহ সেখানেই মাটি চাপা দিয়ে বাংলার মানুষের স্বপ্নই চাপা দিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী।

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের এই চিকিৎসক বড়লেখায় শহিদ হওয়া পেশাজীবীদের একজন। মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখায় দুজন চিকিৎসক শহিদ হয়েছেন, নূর এঁদের একজন (সূত্র : ‘মুক্তিযুদ্ধে বড়লেখা’ : মোস্তফা সেলিম, প্রকাশকাল ১৯৯৯)। শহিদ নূরের আত্মদানের গল্প বাংলার মানুষের অনুপ্রেরণা, তাঁর স্মৃতি রক্ষায় আমরা কাজ করে চলেছি ১৯৮৮ সাল থেকে। আমরা কয়েকজন যুবা মিলে গড়ে তুলি ‘শহিদ ডা. আব্দুন নূর স্মৃতি পরিষদ’। সংকলন প্রকাশ, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে এগিয়ে নিয়েছি এর কার্য। তারপর আরো বড়ো বড় পরিসরে কাজের লক্ষে গঠিত হয় ‘শহিদ ডা. আব্দুন নূর ফাউন্ডেশন’। বিগত বছরগুলোতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ, চিকিৎসায় অনুদান, বৃক্ষ রোপণ, স্কুল-মাদ্রাসায় কম্পিউটার বিতরণ, খেলাধুলায় পৃষ্টপোষকতা প্রদান ইত্যাদি কর্মসূচি পালন করেছি।

গত বছরে সবচেয়ে বড়ো কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এই ফাউন্ডেশন। একটি ওয়েলনেস সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি এক বহুমুখী প্রজেক্ট। মনোদৈহিক স্বাস্থ্য সেবাই হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। শুধু দেহের চিকিৎসা নয়, মনের চিকিৎসা যুক্ত হয়েছে এই কেন্দ্রে। মানবিক মানুষ তৈরি না হলে জগতের সংকটের উত্তোরণ সম্ভব নয়।

সংগঠনের নাম বদলেছে আবার। এবার ‘শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার’। শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার’ অপারেশনে যাবে আগামী বছরের এপ্রিল মাসে। মনোদৈহিক স্বাস্থ্য সেবা চালু হবে এখানে। এই প্রজেক্টে থাকছে একটি জেনারেল হাসপাতাল। সাধারণ চিকিৎসা চালু হবে এখানে। দাতব্য সেবার অঙ্গীকারে পরিচালিত হবে এর সকল কার্যক্রম। এখানে অতি দরিদ্ররা বিনা খরচে এবং সচ্ছলরা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসা পাবেন।

একটি গণপাঠাগার থাকছে এই কেন্দ্রে। বইপত্রের সমৃদ্ধ কালেকশন নিশ্চিত করে মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষে পরিচালিত হবে এর কার্যক্রম। পাঠবান্ধব আলোকিত সমাজ বির্নিমাণের স্বপ্নে সেন্টারে এই আয়োজন রাখা হয়েছে। ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রত্যয়ী কল্যাণচিন্তার বিকাশে ভূমিকা পালন করবে এই গণপাঠাগার। পাঠাগারে স্থানীয় ইতিহাস, প্রত্ন সম্পদ এবং গৌরবগাথার আর্কাইভ করা হবে।

 

শহিদ ডা. আব্দুন নুর ওয়েলনেস সেন্টারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এছাড়াও থাকছে ভোকেশনাল শিক্ষার আয়োজন। জীবনমুখি কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষে কাজ করবে এই সেন্টার। বেকার যুব সম্প্রদায়কে কর্মমুখি বিদ্যায় পারদর্শী করে কর্মসংস্থানে সহায়ক ভূমিকা পালনই এর লক্ষ্য।

সেন্টার চত্বরে থাকবে একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। গান, কবিতা, পুথিপাঠ, সভা ও সেমিনার ইত্যাদি আয়োজিত হবে এখানে। এই মঞ্চে সুকুমারবৃত্তির চর্চা করবে এলাকার মানুষ, বিশেষত তরুণেরা। সৃজনশীল মানুষ তৈরিতে এই মঞ্চ ভূমিকা রাখবে।

নূর সেন্টারের গঠনতন্ত্রে যে লক্ষ্য ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে সেই কর্মসূচিও বাস্তবায়ন হবে এই ভবন থেকে। নূর ওয়েলসেন্টারের ভবনের নির্মাণ কাজের প্রাথমিক সকল আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। ভবনের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আমরা এই ভবনে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেবা দানে সক্ষম হব।

এই প্রজেক্ট বাস্তবায়নে ৪ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এই টাকার উৎস হচ্ছে দয়ালু মানুষের পকেট। হিতৈষী এবং পরার্থপর মানুষের অনেকেই এই প্রকল্পে ইতোমধ্যেই অনুদান প্রদান করেছেন। অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন। আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা আপনার কাছেও যাবেন। নিশ্চয়ই আপনি এই মহৎকাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না। আমরা জানি, নিজের জন্য বাঁচার চেয়ে অন্যের সহায় হয়ে বাঁচা মহত্তর। এই তহবিল সংগ্রহে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে নিজ উদ্যোগে করি ‘নিউকো’। এই সংগঠন ইতোমধ্যে শমসের নগর হাসপাতাল, মৌলভীবাজার হার্ট ফাউন্ডেশন, এঞ্জেলস কেয়ারকে অর্থ সহায়তা করেছে। এই সংগঠনের মহানুভব সদস্যরা শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টারের তহবিল সংগ্রহের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সংগঠনের মুখ্য সংগঠক আহমেদ চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা। জীবনের অপরাহ্নেও তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে অক্লান্ত। আত্মপর এই সময়ে তিনি এক ব্যতিক্রমী মানুষ। তাঁর কাজ আমাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগায়। তাঁর নেতৃত্বে নিউইয়র্কসহ নানাস্থানে আমাদের এই সেন্টারের জন্য অর্থ সংগ্রহ চলমান রয়েছে। মানবতাবাদী এই সংগঠনের সকল মহতপ্রাণ সদস্যকে জানাই আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

কোনো দানের-ই প্রতিদান হয় না। কীভাবে আমরা শোধ করব মা ও মাটির মমত্বের প্রতিদান। আসলে দান বা অবদানকে হৃদয় দিয়ে উপলব্দি করতে হয়। এটা জেনেও লৌকিকতায় মানুষ কারো কোনো ভূমিকাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে আয়োজন করে ফুলের স্তবক, সংবর্ধনা। নিদেনপক্ষে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ঘরোয়া আলোচনায়, আড্ডায়। এ করতে না পারলে মনুষ্যসত্তার যে অপমান হয়! আমরাও এই লৌকিকতা অনুসরণ করে এই সেন্টারের জন্য যাঁরা অকাতরে দান করছেন তাঁদের নাম কেন্দ্রের শরীরের সঙ্গে গেঁথে রাখব মায়ের ভাষা বাংলার অক্ষরে।

আজ সেন্টার এক কল্পদৃশ্য। মানসচোখে আমরা এর ছবি দেখছি। কিন্তু এক বছর পরে সেই দৃশ্য অতীত হবে, কল্পনায় নয় দিব্যচোখে আমরা দেখতে পারব এই সেন্টারকে। মূর্ত হয়ে ওঠবে এই ভবনের স্থাপনা। এই ভবন ঘিরে পরিচালিত আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সোনা বাংলা গড়ার প্রত্যয়। যে প্রত্যয়ে দেশের লাখো লাখো মানুষ আত্মত্যাগে উজ্জীবিত হয়েছেন। সেই পথে এক সহযাত্রী শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত আছেন যাঁরা, তারাও তো এক তীর্থপথের পদচারী।

 

মোস্তফা সেলিম : চেয়ারম্যান, শহিদ ডা. আব্দুন নূর ওয়েলনেস সেন্টার; এবং নাগরীলিপি বিশারদ, গবেষক ও প্রকাশক।