০৯:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৫২ বিজিবির খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদান Logo কুলাউড়ায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণ Logo পাহাড়ি ঢলে গোগালী ছড়া বাঁধ ভাঙন: ১৫ গ্রাম প্লাবিত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি Logo প্রবাসীর বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির চেষ্টাকালে ডাকাত নিহত Logo কুলাউড়ায় পাবলিক লাইব্রেরী পুনঃস্থাপনের দাবিতে ইউএনও বরাবরে স্মারকলিপি Logo লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস’র ল্যান্সবারী ওয়ার্ডে ‘আস্থা ও ভরসার’ প্রতীক কায়ছল ইসলাম Logo কুলাউড়ায় ৯ লাখ টাকার বেশি মূল্যের ভারতীয় সিগারেট জব্দ Logo চাতলাপুর সীমান্তে বিজিবির কঠোর তৎপরতা: নিয়মবহির্ভূত মালামাল জব্দ Logo ‘পিয়াজু-মুড়ি’ দিয়েই বাজিমাত: মাস্টারশেফ ইউকে-র কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাবিনা খান Logo বড়লেখায় খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

শাহীনূর পাশাকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 325

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধি সম্মেলন। শনিবার উপজেলার মাঝপাড়া এলাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ছেড়ে তৃণমূল বিএনপি হয়ে খেলাফত মজলিসে আসা শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনী আসনের দুই উপজেলার ১৫৩টি ওয়ার্ডের নেতাদের নিয়ে গতকাল শনিবার আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ আসনটিতে শাহীনূরকে প্রার্থী ঘোষণা করেন।

সাবেক সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহীনূর পাশা চৌধুরী গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তৃণমূল বিএনপি ছেড়ে খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ওই দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। এর আগে তিনি প্রায় তিন দশক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই দলে তাঁর সর্বশেষ পদ ছিল কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।

শাহীনূর পাশা চৌধুরী গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এর আগে ২০০১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। একবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শাহীনূর পাশা চৌধুরী। সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের আরও কয়েকজন নেতা ছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর দিন দলীয় পদ স্থগিত করে তাঁর দল। ওই দিনই জমিয়ত থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ‘নিশ্চিত পাস’ ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘ধরা খান’। জামানত যায় তাঁর। তবে ২০০৫ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে শাহীনূর পাশা চৌধুরী চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শনিবারের প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শাহীনূর পাশা চৌধুরী। শাহীনূর পাশা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অনেকটা বাধ্য হয়ে সরকারের চাপে প্রার্থী হয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আমি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে জেল–জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। অনেকে আমাকে ভুল বুঝে আওয়ামী লীগের দোসর বলে অপপ্রচার চালান। আমি আওয়ামী লীগের দোসর নই, আওয়ামী লীগের যম। আওয়ামী লীগের আমলে আমাকে পুলিশ ইতিকাফ থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে।’

সংগঠনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাজাওয়ার এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজির উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শায়খ ফয়েজ আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আজিজুল হক, সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমরান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলার সহসভাপতি মাওলানা সৈয়দ শাহীন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল মুনঈম শাহীন কামালী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার সভাপতি কাজী মাওলানা জমিরুল ইসলাম প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শাহীনূর পাশাকে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৮:০০:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ছেড়ে তৃণমূল বিএনপি হয়ে খেলাফত মজলিসে আসা শাহীনূর পাশা চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফতের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচনী আসনের দুই উপজেলার ১৫৩টি ওয়ার্ডের নেতাদের নিয়ে গতকাল শনিবার আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ আসনটিতে শাহীনূরকে প্রার্থী ঘোষণা করেন।

সাবেক সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহীনূর পাশা চৌধুরী গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তৃণমূল বিএনপি ছেড়ে খেলাফত মজলিসে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ওই দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির। এর আগে তিনি প্রায় তিন দশক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই দলে তাঁর সর্বশেষ পদ ছিল কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।

শাহীনূর পাশা চৌধুরী গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এর আগে ২০০১ সাল থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। একবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হলে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শাহীনূর পাশা চৌধুরী। সঙ্গে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের আরও কয়েকজন নেতা ছিলেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করার পর দিন দলীয় পদ স্থগিত করে তাঁর দল। ওই দিনই জমিয়ত থেকে পদত্যাগ করে তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর ‘নিশ্চিত পাস’ ঘোষণা দিয়ে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘ধরা খান’। জামানত যায় তাঁর। তবে ২০০৫ সালে এই আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে শাহীনূর পাশা চৌধুরী চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

শনিবারের প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শাহীনূর পাশা চৌধুরী। শাহীনূর পাশা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি অনেকটা বাধ্য হয়ে সরকারের চাপে প্রার্থী হয়েছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আমি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে জেল–জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করেছি। অনেকে আমাকে ভুল বুঝে আওয়ামী লীগের দোসর বলে অপপ্রচার চালান। আমি আওয়ামী লীগের দোসর নই, আওয়ামী লীগের যম। আওয়ামী লীগের আমলে আমাকে পুলিশ ইতিকাফ থেকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে।’

সংগঠনের জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাজাওয়ার এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আজির উদ্দিনের যৌথ সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শায়খ ফয়েজ আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আজিজুল হক, সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইমরান আহমদ, সুনামগঞ্জ জেলার সহসভাপতি মাওলানা সৈয়দ শাহীন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজ সৈয়দ জয়নুল ইসলাম, জগন্নাথপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল মুনঈম শাহীন কামালী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার সভাপতি কাজী মাওলানা জমিরুল ইসলাম প্রমুখ।