০২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কেয়ার ভিসার নামে প্রতারণা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo ছাত্রশিবিরের ২ দিনব্যাপী ‘সাথী শিক্ষাশিবির’ সম্পন্ন Logo আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস Logo বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান মারা গেছেন Logo সিলেট শিক্ষাবোর্ডে নতুন বিদ্যালয় পরিদর্শক আবু মুসা মো. তারেক Logo উপজেলা বিজ্ঞান মেলায় বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাফল্যের ঝলক Logo বড়লেখায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা Logo সিলেটে একসঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে ১২৬ তরুণ-তরুণী Logo ডলি বেগমের জয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসকের অভিনন্দন Logo ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করেছে: প্রধানমন্ত্রী

বড়লেখায় রহস্যজনক মৃ’ত্যু: শ্বশুড়বাড়ির পাশে গাছে ঝুলে মিলল জামাতার লা’শ

ষাটমাকন্ঠ প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • / 203
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সর্বশেষ খবর জানতে ভিজিট করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামে শ্বশুড়বাড়ির পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জামাতা কয়ছর আহমদ (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাতলিঘাট গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের ছেলে। প্রায় দুই মাস ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সে কুলাউড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। ৫ দিন পূর্বে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী মরিয়ম বেগম হেপি বাবার বাড়ি চলে আসেন।

রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানামূখি জল্পনা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, বড়লেখা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা, ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হলেও নিহত কয়ছর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার উপজেলার বারইগ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন। সেখান থেকেই ২০১৫ সালে সে উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামের মোক্তার আলীর মেয়ে মরিয়ম বেগম হেপিকে বিয়ে করে। তাদের শিশু বয়সি একটি ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। দুই মাস আগে তারা কুলাউড়ায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করছে। মরিয়ম বেগম হেপির চাচি লাইলি বেগম জানান, জামাতা কয়ছর আহমদ দুই শিশু সন্তানকে রেখে স্ত্রী হেপিকে মারধর করে কুলউড়ার বাসা থেকে বের করে দিলে সে দক্ষিণভাগ গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল হক ও দুই পরিবারের মুরব্বিরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্ত মঙ্গলবার সকাল ন’টার দিকে হেপির আরেক চাচি ইয়ারুন নেছা আমাদের পুকুরে হাঁস ছেড়ে দিতে গিয়ে দেখেন পুকুরপাড়ের একটি গাছের প্রায় ২০ ফুট উপরে এক যুবকের লাশ রশিতে ঝুলছে। তখন আশপাশের লোকজন ভিড় জমান এবং যুবকের প্যান্ট ও সার্ট দেখে কয়ছর আহমদের লাশ সনাক্ত করেন। তাদের দাবি কয়ছর আহমদ শ্বশুড়বাড়িতে আসেনি।

তবে, নিহতের বড়বোন ফাতেমা বেগম এনির দাবী শ্বশুড়বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

বড়লেখা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠিয়েছেন। এব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে সে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ষাটমাকন্ঠ/রুমেল/মহি

নিউজটি শেয়ার করুন

বড়লেখায় রহস্যজনক মৃ’ত্যু: শ্বশুড়বাড়ির পাশে গাছে ঝুলে মিলল জামাতার লা’শ

আপডেট সময় : ০৩:২৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামে শ্বশুড়বাড়ির পাশে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জামাতা কয়ছর আহমদ (৩৫) এর লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি এবং সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাতলিঘাট গ্রামের মৃত মখলিছুর রহমানের ছেলে। প্রায় দুই মাস ধরে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সে কুলাউড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। ৫ দিন পূর্বে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী মরিয়ম বেগম হেপি বাবার বাড়ি চলে আসেন।

রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানামূখি জল্পনা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, বড়লেখা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা, ওসি (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

জানা গেছে, জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা হলেও নিহত কয়ছর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বিয়ানীবাজার উপজেলার বারইগ্রাম এলাকায় বসবাস করতেন। সেখান থেকেই ২০১৫ সালে সে উপজেলার দক্ষিণভাগ গ্রামের মোক্তার আলীর মেয়ে মরিয়ম বেগম হেপিকে বিয়ে করে। তাদের শিশু বয়সি একটি ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। দুই মাস আগে তারা কুলাউড়ায় বাসা ভাড়া করে বসবাস করছে। মরিয়ম বেগম হেপির চাচি লাইলি বেগম জানান, জামাতা কয়ছর আহমদ দুই শিশু সন্তানকে রেখে স্ত্রী হেপিকে মারধর করে কুলউড়ার বাসা থেকে বের করে দিলে সে দক্ষিণভাগ গ্রামে বাবার বাড়িতে চলে আসে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল হক ও দুই পরিবারের মুরব্বিরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্ত মঙ্গলবার সকাল ন’টার দিকে হেপির আরেক চাচি ইয়ারুন নেছা আমাদের পুকুরে হাঁস ছেড়ে দিতে গিয়ে দেখেন পুকুরপাড়ের একটি গাছের প্রায় ২০ ফুট উপরে এক যুবকের লাশ রশিতে ঝুলছে। তখন আশপাশের লোকজন ভিড় জমান এবং যুবকের প্যান্ট ও সার্ট দেখে কয়ছর আহমদের লাশ সনাক্ত করেন। তাদের দাবি কয়ছর আহমদ শ্বশুড়বাড়িতে আসেনি।

তবে, নিহতের বড়বোন ফাতেমা বেগম এনির দাবী শ্বশুড়বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রাখে।

বড়লেখা থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠিয়েছেন। এব্যাপারে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দাম্পত্য কলহের জেরে সে আত্মহত্যা করেছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ষাটমাকন্ঠ/রুমেল/মহি